ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬
৩২ °সে


অভিবাসী বিষয়ে মতানৈক্য উদ্বেগজনক

অভিবাসী বিষয়ে মতানৈক্য উদ্বেগজনক

অনুমতিহীন অভিবাসী সমস্যা মোকাবিলার ধরন লইয়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যরাষ্ট্রগুলির মধ্যেকার মতানৈক্য সম্প্রতি আরেক দফা প্রকট হইয়াছে। গত সপ্তাহে ফিনল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ইইউ-ভুক্ত রাষ্ট্রগুলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হইতে এই তথ্য পাওয়া গিয়াছে। নূতন আসা অনুমতিহীন লোকজনের বোঝা কোন রাষ্ট্র কতখানি বহন করিবে তাহা লইয়াই মূল সমস্যাটি দানা বাঁধিয়া আছে। সদস্যরাষ্ট্রগুলির মধ্যে এই প্রসঙ্গে এত বেশি ভিন্নমত বিরাজ করিতেছে যে পর্যবেক্ষকেরা অদূর ভবিষ্যতে ইহা সমাধানের কোনো ইঙ্গিত দেখিতে পাইতেছেন না।

ইইউ রাষ্ট্রগুলির মধ্যে বর্তমানে তিনটি প্রবল মত বিরাজ করিতেছে। কয়েকটি রাষ্ট্র কোনোভাবেই নিজেদের সীমানার ভিতরে আর কোনো অনুমতিহীন অভিবাসী প্রবেশের অনুমতিদানের সম্পূর্ণ বিপক্ষে। অন্য কয়েকটি রাষ্ট্র আবার সকলে মিলিয়া যাহাই হউক না কেন ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পক্ষে। ইহার বাহিরে কয়েকটি রাষ্ট্র মনে করিতেছে যে, সমুদ্র পাড়ি দিয়া ইউরোপে ঢুকিয়া পড়িতে পরোক্ষভাবে হইলেও উত্সাহ জোগায়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণ করা যাইবে না। উদাহরণস্বরূপ, জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোর্স্ট শিহোফারের মতে ইতোমধ্যে ইউরোপে ঢুকিয়া পড়া লোকজনকে ইইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলির মধ্যে ভাগাভাগি করিয়া লইবার ব্যাপারে একটি আপত্কালীন বোঝাপড়া হওয়া উচিত। তবে কোনো রাষ্ট্রের জন্য অভিবাসীর কোটা বাঁধিয়া দেওয়ার বিরোধিতা করেন তিনি। এইদিকে, ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তিও সালভিনি অভিবাসী কোটার পূর্ণ বিরোধিতা করিয়াছেন। তাঁহার মতে, ইতালি দ্বার বন্ধ করিবার কারণেই ইউরোপ অভিমুখে অনুমতিহীন অভিবাসীদের আগমন ও সমুদ্রবক্ষে প্রাণহানির সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে কমিয়া আসিতেছে। উল্লেখ্য, ইতালিতে বর্তমানে কট্টর অভিবাসী-বিরোধীরা ক্ষমতায় আছে। লুক্সেমবার্গের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ অ্যাসেলবর্নের মতে, চলমান মতানৈক্য ঘিরিয়া ইইউ ভাঙিয়াও যাইতে পারে।

ইউরোপের প্রত্যেকটি দেশে অভিবাসীবিরোধী জনমত ক্রমাগত বাড়িয়া চলিতেছে। এমতাবস্থাতে উদার গণতান্ত্রিক দেশগুলিও অদূর ভবিষ্যতে অবৈধ অভিবাসীদের মানবাধিকারের পক্ষে খুব একটা অবস্থান লইবে বলিয়া মনে হয় না। ২০১৫ শরণার্থীদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করিয়া দিবার পর হইতে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল যেইভাবে রাজনৈতিক শক্তি হারাইতেছেন তাহা অন্যান্য দেশের উদারপন্থিদের জন্য সতর্ক বার্তা হইয়াই থাকিতেছে। এমতাবস্থায় সামনের দিনগুলিতে তিনটি ঘটনা ঘটিতে পারে। প্রথমত, নিজ দেশ ছাড়িবার পূর্বে আবেদন না করিলে, যত কঠিন পথ পাড়ি দিয়াই আসুক না কেন, অনুমতিহীন লোকজনের অভিবাসী বা শরণার্থী হইবার আবেদন গৃহীত হইবে না। দ্বিতীয় সম্ভাবনা হইতেছে, দালালদের প্রতারণা ও সমুদ্র পাড়ি দিয়া আসিবার পরে প্রবেশাধিকার পাইলেও, এই ধরনের লোকেরা কোনো ওয়ার্ক পারমিট পাইবে না। তৃতীয় একটি সম্ভাবনা হইল, যেই সমস্ত দেশ হইতে লোকেরা জীবনের ঝুঁকি লইয়া ইউরোপে ঢুকিতে চাহে সেই সমস্ত দেশের পুনর্গঠনের জন্য ইইউর পক্ষ হইতে বড়ো ধরনের বিনিয়োগ। এই সম্ভাবনার পক্ষে অবশ্য খুব সামান্যসংখ্যক পর্যবেক্ষক বাজি ধরিতেছেন। তবে একটি বিষয়ে অনেকেই একমত যে, অভিবাসী-শরণার্থীদের জন্য সামনের দিনগুলিতে ইউরোপে খুব একটা সহানুভূতি অব্যাহত থাকিবে না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন