ঢাকা সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬
৩০ °সে


ভোজ্যল বণের বদলে শিল্প লবণ!

ভোজ্যল বণের বদলে শিল্প লবণ!

রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য দেওয়া শুল্কসুবিধা কেবল ইতিবাচক ফল আনিতেছে তাহা নহে, বরং এই সুবিধা রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি দেশীয় শিল্প ধ্বংসেও ব্যবহূত হইতেছে এবং সেই সঙ্গে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাতির স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি হইয়া পড়িয়াছে। শিল্প লবণ আমদানি করিয়া খাওয়ার লবণের সঙ্গে মিশাইয়া বাজারজাতকরণ তাহারই একটি উদাহরণ। দেশের আমদানি নীতি ২০১৫-১৭ অনুযায়ী সোডিয়াম ক্লোরাইড (যাহাকে আমরা ভোজ্য লবণ বলিয়া থাকি) আমদানি নিষিদ্ধ। কেবল উত্পাদনে ঘাটতি দেখা দিলেই তাহা আমদানি করা যাইবে। পাশাপাশি সাবান, ডিটারজেন্ট ও গার্মেন্ট শিল্পে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহারের জন্য সোডিয়াম সালফেট আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া আছে। এই সুযোগ লইয়া একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দেশে সোডিয়াম সালফেট আমদানি করিয়া সোডিয়াম ক্লোরাইড বা ভোজ্য লবণের সঙ্গে মিশাইয়া বাজারজাত করিতেছে। সোডিয়াম সালফেট বা শিল্প লবণ আর সোডিয়াম ক্লোরাইড বা খাওয়ার লবণের গুণমান ও ব্যবহারে বিস্তর পার্থক্য রহিয়াছে। শিল্প লবণ খাওয়ার লবণের পরিবর্তে ব্যবহূত হইলে তাহা কিডনি ও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ মানবদেহে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হইবার আশঙ্কা তৈরি করে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের এক হিসাব হইতে জানা যায়, গত অর্থবত্সরে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি সোডিয়াম সালফেট বা শিল্প লবণ আমদানি করা হইয়াছে। তাহাদের মতে, দেশে ভোজ্য লবণের চাহিদা রহিয়াছে ১৬ হইতে ১৭ লক্ষ টন এবং শিল্প লবণের চাহিদা রহিয়াছে প্রায় ৪ লক্ষ টন। অথচ শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে গত অর্থবত্সরে আমদানি করা হইয়াছে প্রায় ১৫ লক্ষ টন শিল্প লবণ। বলিবার অবকাশ থাকে না যে ইহার সিংহভাগ গিয়াছে ভোজ্য লবণ হিসাবে দেশবাসীর উদরে। অন্যদিকে এই অসাধু কর্মের জাঁতাকলে পড়িয়া দেশীয় লবণচাষিরা বিপাকে পড়িয়াছেন। দৈনিক ইত্তেফাকের এক রিপোর্টে বলা হইয়াছে, চলতি বত্সরে ১৮ লক্ষ ২৪ হাজার মেট্রিক টন লবণ দেশে উত্পাদিত হইয়াছে, যাহা উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রার চাইতে অধিক। ফলে পরিশোধিত লবণ লইয়া বিপাকে পড়িয়াছেন মিল মালিকরা। স্বভাবতই প্রান্তিক লবণচাষিরাও এই অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছেন।

এমতাবস্থার আশু উত্তরণ প্রয়োজন। প্রথমত এই অসাধু কর্মের কারণে দেশের মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়িয়াছে; দ্বিতীয়ত, শুল্ক ফাঁকি দিয়া সোডিয়াম সালফেট আনিয়া লবণ হিসাবে বাজারে বিক্রয়ের কারণে সরকার রাজস্ববঞ্চিত হইতেছে এবং তৃতীয়ত দেশের লবণ চাষের সঙ্গে জড়িত বিশাল একটি সম্প্রদায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হইবে, এই আমদানি কাহারা করিতেছে, তাহাদের সঙ্গে উত্পাদনমুখী শিল্পের সম্পর্ক কী, অভ্যন্তরীণ বাজার সরবরাহের সঙ্গেই-বা কী সম্পর্ক—তাহা খতাইয়া দেখিলেই প্রকাশ পাইবে এই অসাধু কর্মের পিছনে রহিয়াছে কে বা কাহারা। সেই সঙ্গে শিল্পের জন্য আমদানিকৃত কাঁচামাল শিল্পপ্রতিষ্ঠানেই যাহাতে যায়, উহা নিশ্চিত করিতে হইবে। তাহা হইলেই জনগণকে আর ভোজ্য লবণের বদলে শিল্প লবণ উদরস্থ করিতে হইবে না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন