ঢাকা শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


লোকবলের অভাবে বন্ধ হইতেছে রেল স্টেশন

লোকবলের অভাবে বন্ধ হইতেছে রেল স্টেশন

বাংলাদেশ রেলওয়েতে নানাবিধ সংকট বিদ্যমান। ইহার মধ্যে লোকবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করিয়াছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে দুইটি অঞ্চলে বিভক্ত : পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল। পূর্বাঞ্চলের প্রধান দপ্তর চট্টগ্রাম ও পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহীতে। ইত্তেফাকের এক রিপোর্ট হইতে জানা গিয়াছে, সম্প্রতি রেলের পশ্চিম জোনে লোকবলের অভাবে ৬৮টি রেল স্টেশন বন্ধ করিয়া দিয়াছে কর্তৃপক্ষ। ইহার মধ্যে রহিয়াছে পুরাতন ও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলের এক ঊর্ধ্বতন সূত্রে জানা গিয়াছে, এই জোনে মোট স্টেশনের সংখ্যা ২৪৪টি। ইহার মধ্যে পাকশী ডিভিশনে আছে ১৬৪টি স্টেশন এবং লালমনিরহাট ডিভিশনে স্টেশন আছে ৮০টি। লোকবলের অভাবে এই ৬৮টি স্টেশন বন্ধ হওয়ায় এই অঞ্চলের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়িয়াছেন। আমরা বলিতে পারি, রেল কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের অবহেলার কারনেই এই চূড়ান্ত অবনতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হইয়াছে। স্থানীয় জনগণ স্টেশন বন্ধের প্রতিবাদে রাস্তায় নামিয়াছে। বন্ধ করিয়া দেওয়া হইয়াছে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গার মতো পুরাতন স্টেশন। ১৮৮৩ সালে যখন শিয়ালদহ থেকে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করা হয় তখন আলমডাঙ্গা স্টেশন নির্মিত হয়। কিন্তু কেন এই ঐতিহ্যবাহী স্টেশনটিও বন্ধ হইতে চলিয়াছে? জানা যায়, মূলত স্টেশন মাস্টারের অভাবে স্টেশনগুলি বন্ধ হইয়াছে। লালমনিরহাট ডিভিশনে শতকরা ৫৫ ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ শূন্য রহিয়াছে। এই ডিভিশনে অবসরে যাওয়ার পর ১৩ জন স্টেশন মাস্টারকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হইয়াছে। রেলেসংশ্লিষ্ট বিভাগে মনোনীত হইবার পর স্টেশন মাস্টার হিসাবে প্রশিক্ষণ লইতে হয় দুই বত্সর; ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সংকট কাটিয়ে উঠাও একপ্রকার অসম্ভব।

শুধু ঐ ৬৮ স্টেশন নহে, জনবলসংকটের কারণে সারা দেশে এখন রেলের ৪৩৭টি স্টেশনের মধ্যে ১৩৯টি বন্ধ। ইহাছাড়া সারা দেশে রেলের ১ হাজার ৪০২টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ৯৪৬টিতে কোনো গেটকিপার নাই। ইহার মধ্যে পূর্বাঞ্চলে গেটকিপারবিহীন অরক্ষিত ক্রসিং রহিয়াছে ৪৩৪টি ও পশ্চিমাঞ্চলে ৯৬৮টি। বর্তমানে রেলওয়ের অনুমোদিত পদ রহিয়াছে ৪০ হাজার ২৭৫টি। তবে ইহার মধ্যে কর্মরত রহিয়াছেন মাত্র ২৪ হাজার ৬২২ জন। অর্থাত্ ১৫ হাজার ৬৫৩টি পদ শূন্য। তবে শূন্যপদ পূরণে মাত্র ২ হাজার ৪৯৩টি জনের নিয়োগপ্রক্রিয়া চলমান রহিয়াছে। বর্তমানে রেলওয়েতে প্রথম শ্রেণির পদ রহিয়াছে ৫৬৩টি। ইহার মধ্যে কর্মরত আছেন ৪০৮ জন। আর ১৫৫টি বা ২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ পদ শূন্য। দ্বিতীয় শ্রেণির পদ শূন্য রহিয়াছে ৬৯৮টি বা ৪৪ শতাংশ। বর্তমানে ১ হাজার ৫৮৭টি দ্বিতীয় শ্রেণির পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৮৮৯ জন। ফলে যে বিপুলসংখ্যক লোকবলের অভাব লইয়া রেল চলিতেছে তাহার আশু সমাধান হইতেছে না। আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে রেলওয়ে হইতে পারে আদর্শ যোগাযোগ মাধ্যম, একই সঙ্গে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। ফলে সরকারকে এই খাতে অধিক মনোযোগ প্রদান করিতে হইবে। আমরা আশা করি, লোকবলের ও সব ধরনের সংকট কাটাইয়া উঠিয়া রেল জনগণের সেবা প্রদানে সক্ষম হইয়া উঠিবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন