ঢাকা শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


দখল সংস্কৃতির ব্যত্যয় প্রয়োজন

দখল সংস্কৃতির ব্যত্যয় প্রয়োজন

সরকারি জমি দখলের সংস্কৃতি বহুকালের পুরাতন। কি রেলওয়ের জমি, কি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জমি, কী নদীর পাড়ের খাস জমি—সর্বত্রই জমিখেকোদের হাত পড়িতে দেখা যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটু একটু করিয়া জমির ভিতর ঢুকিয়া পড়া আবার কোথাও রাতারাতি স্থাপনা তৈরি করে দখল করিয়া ফেলার বহু উদাহরণ রহিয়াছে। ইহার প্রধান কারণ, সরকারের যেই দপ্তরের জমিসমূহের দেখভাল করিবার কথা, রক্ষণাবেক্ষণ করিবার কথা—সেই সংশ্লিষ্টরা হয় সঠিকভাবে নজর রাখেন নাই, অথবা কিছু পারিতোষিক লইয়া অন্যদিকে মুখ ফিরাইয়া রাখিয়াছেন। কিন্তু দিন তো আর সর্বদা একরকম যায় না। দেশ খানিকটা ডিজিটালাইজড হইবার পর হইতে সংবাদমাধ্যম ও স্যোশাল মিডিয়া বিস্তার লাভ করায় এখন বহু বেদখল জায়গার খবর বাহির হইয়া আসিতেছে। এমনি একটি রেলের জমি দখলের হিসাব প্রকাশিত হইয়াছে দৈনিক ইত্তেফাকে। সংবাদ হইতে জানা যায়, রেলের পশ্চিম জোনে ২ হাজার ৭৪৫ একর জমি দখলদারদের কবলে রহিয়াছে। বলা হইয়াছে, বেশিরভাগ রেললাইন এবং রেল স্টেশন ব্রিটিশ আমলে জমি অধিগ্রহণ করিয়া নির্মাণ করা হয়। এইসব রেললাইন এবং স্টেশনের আশপাশে প্রচুর রেলওয়ের জমি রহিয়াছে। রেলের পশ্চিম জোনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানাইয়াছেন, গত অর্থবত্সরে রেলের জায়গা দখল করিয়া নির্মিত ৭ হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করিয়া ৭১ একর জমি দখলমুক্ত করা হইয়াছে। তবে লোকবল, বুলডোজারের অভাব রহিয়াছে। সেই সঙ্গে রহিয়াছে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব।

শুধু পশ্চিম জোনই নহে। রেলের ভূসম্পদ বিভাগের তথ্য হইতে জানা গিয়াছে, সারাদেশে প্রায় ৯ হাজার একর জমি বেদখল হইয়া আছে। বিভিন্ন সূত্র হইতে জানা যায়, ইহার মধ্যে অনেক স্থানে পাকা স্থাপনা নির্মাণও করা হইয়াছে। আবার কেহ কেহ দখলকৃত জায়গা অন্যের কাছে বিক্রয় বা অর্থের বিনিময়ে হাতবদলও করিয়াছেন। এইরকম অবস্থা থাকিলে কেহ কখনো একটি আস্ত স্টেশন দখল করিয়া ফেলিলে অবাক হইয়ার কিছু থাকিবে না!

আইন ও নিয়ম যখন না মান্য করিবার প্রবণতা বাড়িয়া যায়, তখন কর্তৃপক্ষকে মুষ্টি শক্ত করিতে হয়। নচেত্ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা দুরূহ হইয়া পড়ে। শুধু জমি উদ্ধার করিলে অথবা স্থাপনা বুলডোজার দিয়া ভাঙিয়া দিলে চলিবে কেন? যাহারা এইসব দখলের সহিত যুক্ত থাকেন তাহাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের এবং উচ্ছেদ-ব্যয় আদায় করিবার ব্যাপারেও জোর নজর দেওয়া প্রয়োজন। কত জমি বেদখলে আছে, তাহা জানিলেই চলিবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলিয়া থাকেন, দখলে থাকা জমি উদ্ধার একটি চলমান প্রক্রিয়া। কিন্তু এই চলমান বিষয়টি কতটা চলিতেছে, সেই দিকে নজর রাখা হইতেছে কি? আমরা বুঝিতে পারি, জমি উদ্ধার করা একটি কঠিন কাজ। জটিলতাও রহিয়াছে। সেইসব জটিলতা মোকাবিলা করিতে হইবে। সবচাইতে বড়ো কথা, জমি দখলের এই সংস্কৃতির ব্যত্যয় প্রয়োজন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন