ঢাকা শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬
৩৫ °সে


বন্যায় নদী ও বাঁধের ভাঙন

বন্যায় নদী ও বাঁধের ভাঙন

গত কয়েক দিন ধরিয়া সারাদেশে বৃষ্টিপাত বাড়িয়া গিয়াছে। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কোথাও কোথাও নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাইয়া নূতন করিয়া বন্যা-পরিস্থিতি তৈরি করিয়াছে। বন্যার সময় এমনকি ইহার পরও যে সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে তাহা হইল নদী বা বেড়িবাঁধের ভাঙন। ইহাতে নদী সিকস্তি বা বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষের ঘুম হারাম হইয়া যায়। তাহাদের দুশ্চিন্তা ও দুর্ভোগের সীমা থাকে না। নদী বা বেড়িবাঁধ ভাঙনে প্লাবিত হইয়া অনেকের সাজানো ঘর-সংসার পানিতে তলাইয়া যায়। সম্প্রতি ইত্তেফাকের একটি খবরে বলা হইয়াছে, নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার নান্দাইলবাড়ী বেড়িবাঁধটি বর্তমানে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় বেড়িবাঁধটি ভাঙিয়া গিয়া শত শত গ্রামকে প্লাবিত করিতে পারে। এবারের বন্যায় বাঁধটির বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে। এই শোচনীয় অবস্থা হইবার মূল কারণ দীর্ঘদিন ধরিয়া সংস্কার না হওয়া। অনুরূপভাবে সিডর ও আইলার প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় যে বাঁধগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহারও বেশ কিছু বাঁধ এখনো মেরামত করা হয় নাই। ফলে ঝুঁকির মুখে রহিয়াছেন সেখানকার অধিবাসীরাও।

নদীভাঙন ও বন্যার প্রকোপ হইতে রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ ও নিয়মিত সংস্কারের বিকল্প নাই। তবে গুরুত্ব বিবেচনায় তাহার অগ্রাধিকার নির্ণয় করা দরকার। যত্রতত্র বাঁধ নির্মাণ করা কাম্য নহে। কেননা ইহাতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই হয় না। বরং যথাসময়ে, যথাস্থানে ও যথোপযুক্তভাবে বাঁধ নির্মাণ করিতে পারিলেই কেবল তাহা টেকসই হইবে। দুঃখজনক হইলেও সত্য যে, আমাদের দেশে বাঁধ নির্মাণ বা সংস্কার প্রকল্পসমূহের ক্ষেত্রে অনেক সময় অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়। যেমন, নদীভাঙন ঠেকাইতে দরপত্রে উন্নত মানের ব্লক ও জিও ব্যাগ তৈরির কথা বলা হইলেও বাস্তবে তাহার প্রতিফলন অনেক সময় ঘটে না। ২০১৭ সালের এপ্রিলে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভাঙিয়া গিয়া হাওরাঞ্চলের উঠতি ফসল পানিতে তলাইয়া যায়। ফসল হারাইয়া হাওর জুড়িয়া তখন কৃষকের ঘরে ঘরে কান্নার রোল পড়ে। অনেকের চোখের আর বানের পানি একাকার হইয়া যায়। সেই সময়ও বাঁধের কাজে অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ উঠে প্রবলভাবে।

বন্যায় নদী ও বাঁধের ভাঙন ঠেকাইতে হইলে গণশুনানির মাধ্যমে নূতন বাঁধ নির্মাণবিষয়ক পরিকল্পনা গ্রহণ করিতে হইবে। বাঁধ নির্মাণের পূর্বে মাটি উপযুক্ত কি না তাহা লক্ষ রাখা অতি জরুরি। পদক্ষেপ নিতে হইবে আগাম বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও। বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর রক্ষায় সিমেন্টের প্রাচীর দিয়া শক্তিশালীভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। আমরাও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মজবুত ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করিতে পারি। অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের কারণে অনেক সময় তৈরি হয় জলাবদ্ধতা, যাহা নূতন করিয়া আরেকটি সংকট তৈরি করে। ইহা ছাড়া আমরা মনে করি, নদীর পাড়, প্লাবনভূমি বা আশপাশে আবাসন, বিদ্যালয়, বাজার-ঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। কেহ কেহ একান্ত বাধ্য হইয়া ঘরবাড়ি নির্মাণ করিলেও তাহা অবশ্যই অস্থায়ী ভিত্তিতে করিতে হইবে। কোনোমতেই পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা যাইবে না। এইরূপ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আবাসনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গড়িয়া না উঠিলে তাহা রক্ষার নামে কোটি কোটি টাকা রাষ্ট্রের অপচয়ও হইবে না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন