ঢাকা শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬
৩০ °সে


ছুটির ফাঁদে!

ছুটির ফাঁদে!

ইহাকে আমরা কী বলিব, ‘প্রথাগত অনিয়ম’, নাকি ফাঁকিবাজি, নাকি শ্বেত অপরাধ, যাহা গুরুত্ব সহকারে বিচারের বিষয় নহে? কিন্তু অনিয়মকে তো অনিয়মই বলিতে হইবে। প্রতি উত্সবের ছুটিকালে লক্ষ করা যায়, উত্সবের আগে অথবা পরে সাপ্তাহিক যে ছুটি থাকে তাহার মাঝখানের এক বা দুই দিন অফিস থাকিলেও ঐ এক-দুই দিন অফিসে না আসিয়া অফিস খাতায় পরবর্তী সময়ে উপস্থিত বলিয়া দেখানো হয়। ইহার জন্য কেবল এক বা দুই দিন অফিস ফাঁকি দিতে হয় মাত্র! এই ঈদেও মঙ্গলবার অর্থাত্ ১৩ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিন সরকার-ঘোষিত ছুটি ছিল। ১৪ তারিখ ছিল অফিস খোলা। ১৫ তারিখ জাতীয় শোক দিবসের ছুটি এবং তাহার পরেই সাপ্তাহিক দুই দিনের ছুটি। ফলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যাহারা ঈদ উদ্যাপন করিতে কর্মস্থল ত্যাগ করিয়া অন্য জেলায় নিজ বাড়িতে গিয়াছেন, তাহাদের বড়ো একটি অংশ অফিসে ফিরিয়া আসিবেন আগামী রবিবার। অর্থাত্ ১৮ আগস্ট। মাঝখানে ১৪ তারিখের জন্য তাহারা আর পরবর্তী তিন দিন বাড়ি থাকিবার লোভ সংবরণ করিতে পারেন নাই। ফলে ঢাকার সচিবালয়সহ বিভিন্ন অফিস ঘুরিয়া সংবাদকর্মীরা রিপোর্ট করিয়াছেন, অফিসগুলিতে উপস্থিতির সংখ্যা যত্সামান্য। কোনো কোনো অফিস একেবারেই ফাঁকা পড়িয়া আছে।

ইংরেজিতে এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘স্যান্ডউইচ লিভ’। বাংলা বা ইংরেজি, কোনো ডিকশনারিতেও স্যান্ডউইচ লিভ বলিতে কোনো পরিভাষা পাওয়া যায় না। কিন্তু বাংলাদেশের সার্ভিস রুলসের নৈমিত্তিক ছুটি নীতিমালায় এমন পরিস্থিতিতে যে কোনো একদিকের একটি ছুটির সঙ্গে মিলাইয়া দেওয়ার বিধান রহিয়াছে। সেই কারণে এক দিনের জন্য আরো তিন-চার দিনের নৈমিত্তিক ছুটি কেহ নষ্ট করিতে চাহেন না। বত্সরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়া যায়, তাহা সহসা নষ্ট করিলে চলে? অন্যদিকে বিশেষ কারণ ব্যতিরেকে তিন দিনের বেশি সাধারণত নৈমিত্তিক ছুটিও মঞ্জুর করা হয় না। এসব পরিস্থিতির কারণেই যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অলিখিত ‘ছুটি’ ভোগ করিয়া থাকেন তাহা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই রকম পরিস্থিতির একটি সঠিক সুরাহা করিবার প্রয়োজন রহিয়াছে। একটি দেশের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসকালে, কাগজপত্রে অফিসে থাকিয়া শারীরিকভাবে অফিসে অনুপস্থিত থাকিবেন তাহা গ্রহণযোগ্য নহে। ইহা সমাজে নৈতিক অবক্ষয়কেও সহায়তা করিয়া থাকে। তাহা ছাড়াও এই ধরনের পরিস্থিতি অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিবাদ, মন-কষাকষিরও সৃষ্টি করিয়া থাকে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যাহাকে পছন্দ তাহার বিষয়টি চাপিয়া যাইতে পারেন, আবার যাহাকে অপছন্দ তাহার ঘাড়ে কয়েক দিনের ছুটি চাপাইয়া দিতে পারেন। নিশ্চয়ই ইহা অফিসের পরিবেশের জন্য অনুকূল নহে।

সরকারের উচিত, এই রকম পরিস্থিতির একটি বিহিত করা। এমন হইতে পারে, মাঝখানের ঐ এক বা দুই দিনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নৈমিত্তিক ছুটি হিসাবে ঘোষণা দিয়া তাহা বাত্সরিক ছুটির সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করিয়া লওয়া যাইতে পারে। তাহাতে সরকারের এই শ্রমঘণ্টা নষ্ট হইবে না। বিষয়টি আমরা সরকারের নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়া দেখিতে বলিব।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন