প্রাথমিক শিক্ষায় মডেল শিক্ষক

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইহা খুবই স্বস্তির বিষয় যে, অবশেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুধাবন করিতে পারিয়াছে যে, দেশের উপজেলা পর্যায়ের বেশিরভাগ স্কুলের পাঠদান নিম্নমানের। আর তাই মন্ত্রণালয় একটি নূতন উদ্যোগ গ্রহণ করিয়াছে, যাহার প্রতি সাধুবাদ জানানো আমাদের কর্তব্য বোধ হইতেছে। মন্ত্রণালয় ভাবিয়াছে, দেশের সেরা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির শিক্ষকদিগের মধ্য হইতে যোগ্যতার বিচারে মনোনীত করা হইবে মডেল শিক্ষক। তাহাদিগকে সরকারের পক্ষ হইতে বিশেষভাবে পুরস্কৃতও করা হইবে। এবং এই মডেল শিক্ষকদের দিয়া সংশ্লিষ্ট উপজেলার অপেক্ষাকৃত পিছাইয়া পড়া বিদ্যালয়গুলির দুর্বল শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হইবে। বিশেষ করিয়া, ঐসব শিক্ষার্থীকে ইংরেজি এবং গণিত বিষয়ে শিক্ষাদানের জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হইয়াছে। ইহার জন্য ২ হাজার মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হইতেছে। আর কাজটি করা হইবে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে। এই বিষয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি চুক্তিও স্বাক্ষর হইয়াছে। মন্ত্রণালয় জানাইয়াছে, শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য উপজেলা পর্যায়ে ফলাফলের দিক দিয়া সেরা স্কুলগুলির শিক্ষকদের মধ্য হইতে নির্বাচিত করা হইবে মডেল শিক্ষক। এই শিক্ষকরা শিক্ষা দিবেন পিছাইয়া পড়া এবং ফলাফলে দুর্বল স্কুলের শিক্ষার্থীদের।

এই উদ্যোগ কার্যকর হইলে নিঃসন্দেহে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়িবে। আমরা জানি, স্কুলশিক্ষায় বৈষম্যের কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও শিক্ষাজীবন হইতে ঝরিয়া পড়ে। ইহা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করিয়াছিলেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম। তাই তিনি ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রাথমিক শিক্ষা, বিশেষ করিয়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য এবং সেইসব শিক্ষার্থীর মানোন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আজীবন লড়াই করিয়াছেন। বাংলাদেশে প্রাথমিক স্কুলগুলির মধ্যে মান তারতম্যের এই দুর্বলতার কথা আমরা বহুকাল ধরিয়া জানিলেও, উপলব্ধি করিলেও এবং তাহা লইয়া লেখালেখি হইলেও এতকাল প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় নাই। তবে প্রশ্ন থাকিয়া যায়, যদি ভালো স্কুলের ভালো শিক্ষককে অন্য স্কুলে নিয়োজিত করা হয়, তাহা হইলে ঐ স্কুলে শিক্ষকের অভাব তৈরি হইবে কি না। আর সেই কারণেই মন্ত্রণালয় মডেল শিক্ষকের বিষয়টিতে খানিকটা ধীর গতিতে আগাইতে চাহিতেছে। দ্বিতীয়ত, যেই সকল শিক্ষক বর্তমানে ফলাফলে ভালো নয়, এমন স্কুলে রহিয়াছেন, তাহাদের অবস্থান কী হইবে?

আমরা মনে করি, যে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে যে মাস্টার ট্রেইনারদের প্রস্তুত করা হইতেছে, তাহারাই উপজেলা পর্যায়ের ঐ স্কুলগুলির শিক্ষকদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দান করিলে সমস্যা অনেকটাই লাঘব হইয়া যাইবে। সবচাইতে বড়ো কথা হইল, প্রাথমিক শিক্ষা একজন মানুষের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি। সমান মানের প্রাথমিক শিক্ষা লাভের সুযোগ পাইবার অধিকার দেশের প্রতিটি শিশুর রহিয়াছে। শিক্ষা সুযোগ পাইলে তাহাদের মধ্য হইতে একজন উজ্জ্বল মানুষ বাহির হইয়া আসিতে পারে। কারণ শিক্ষাই একমাত্র বিষয়, যাহা ধনী-দরিদ্র, শহর-গ্রাম বোঝে না। সকলের কাছেই সমানভাবে ধরা দেয়। সুতরাং এই সুযোগ সকলের জন্যই সমানভাবে উপস্থাপন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য।