ঢাকা শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬
৩০ °সে


মানুষের পায়ের ছাপ কতদূর যাইবে?

মানুষের পায়ের ছাপ কতদূর যাইবে?

কর্মমুখর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হইল রিক্রিয়েশন তথা অবকাশ যাপন। বিশেষ করিয়া বড়ো কোনো উত্সবের সময় সবচাইতে ভালো অনুধাবন করা যায় বিচিত্রসব বিনোদনকেন্দ্রের গুরুত্ব। গত কয়েক বত্সর ধরিয়া ঈদ মৌসুমে বিনোদনকেন্দ্রগুলিতে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষণীয়। বিনোদনের পাশাপাশি অজানাকে জানিবার দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষাও মানুষের চিরদিনের। মানুষ সুদূরের পিয়াসি বলিয়াই পৃথিবী জুড়িয়া ছড়াইয়া পড়িয়াছিল আফ্রিকা হইতে। একটু উন্নত হইবার পর জলযান ভাসাইয়াছিল উত্তাল মহাসাগরে। রাইট ভ্রাতৃদ্বয় দিনের পর দিন লাগিয়া থাকিয়া প্রবল কৌতূহলে অসম্ভবকে সম্ভব করিয়াছিল আকাশে জাহাজ ভাসাইয়া। সেই উড়োজাহাজে করিয়া আমরা নিমেষেই এখন পাড়ি দিই এক মহাদেশ হইতে অন্য মহাদেশে। অথচ উনিশ শতকে কেহ যদি কল্পনা করিত এমন আকাশযানের কথা, তাহাকে নিশ্চয়ই পাগল ঠাওরানো হইত। তেমনি এখন যদি বলা হয়, হানিমুনের পরের দিন কোনো রোমান্টিক জুটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাহার অনুভূতি ব্যক্ত করিল এইভাবে—‘ঘুম হইতে উঠিয়া আমরা বাতায়ন দিয়া বাহির পানে তাকাইতেই চমকাইয়া উঠিলাম। কী অপূর্ব, কী বিশাল, কী চমত্কার একটি নীল চাঁদ উঠিয়াছে কৃষ্ণ আকাশ জুড়িয়া! আমরা যে চাঁদে হানিমুন করিতে আসিয়াছি তাহা ভুলিয়াই গিয়াছিলাম নরম সুইটে নিদ্রাযাপনের পর’—ইহা কিন্তু এখন কেবল কল্পগল্প নহে।

মহাকাশ পর্যটন শিল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা অনেকেই। তাহাদেরই একজন ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা স্যার রিচার্ড ব্রানসন। ফোর্বসের বিলিয়নিয়ারের তালিকা অনুযায়ী যুক্তরাজ্যের এই ব্যবসায়ী চতুর্থ স্থানে রহিয়াছেন। মহাকাশ ভ্রমণপিয়াসু ব্রানসন এইবার নূতন পরিকল্পনা লইয়া অগ্রসর হইতেছেন। তাহার মালিকানাধীন মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভার্জিন গ্যালাকটিক ১৫ বত্সর ধরিয়া তিলে তিলে গড়িয়া তুলিয়াছেন মহাকাশ বন্দর। এই স্পেস পোর্ট হইতেই পর্যটকদের লইয়া মহাকাশে ছাড়িয়া যাইবে রিচার্ড ব্রানসনের মালিকানাধীন বেসরকারি মহাকাশযানগুলি। মহাকাশযান পরিচালনার জন্য ঐখানে রহিয়াছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। সেইসঙ্গে পাইলটদের বিশ্রাম, ভ্রমণের পূর্বপ্রস্তুতি এবং মহাকাশের পর্যটক ও তাহাদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধবের বিশ্রাম লইবার জন্য রহিয়াছে বিলাসবহুল অবকাশযাপন কেন্দ্র। রাশিয়ান মহাকাশ এজেন্সি ‘রসকসমস’ মহাকাশে বিলাসবহুল একটি হোটেল নির্মাণ করিতে যাইতেছে। যদিও এইসকল অবকাশকেন্দ্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে কথায় আছে ‘শখের মূল্য কোটি টাকা’। কেবল মহাকাশের হোটেলে বা চাঁদে হানিমুন যাপন নহে, মঙ্গলেও মানুষের বসতি গড়িবার পরিকল্পনা আগাইয়া গিয়াছে বহু দূর।

বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং গত বত্সর মৃত্যুর পূর্বে বলিয়া গিয়াছিলেন, ‘মানবজাতিকে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করিতে হইলে মহাকাশে পাড়ি দিতেই হইবে। কারণ এই পৃথিবী ক্রমশ মানুষের বসবাসের জন্য অনুপযুক্ত হইয়া উঠিতেছে। তাহার নেপথ্যে রহিয়াছে মানুষেরই আত্মঘাতী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড।’ সুতরাং মহাকাশে ছোটো ছোটো পদক্ষেপের মাধ্যমে মানুষ একসময় সক্ষমতা অর্জন করিবে এই সৌরজগত্ পাড়ি দিয়া অন্য কোনো গ্রহে বসতি স্থাপনের। এখন তাহা নিতান্তই কাল্পনিক বলিয়া মনে হইলেও কয়েক শতক বত্সর পর ইহাই হইয়া উঠিবে স্বাভাবিক বাস্তবতা। স্পষ্টতই মানুষের পায়ের ছাপ কতদূর অবধি পৌঁছাইবে, তাহা এখনই অনুমান করা দুরূহ।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন