ঢাকা শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


আবারও পুরান ঢাকায় আগুন

আবারও পুরান ঢাকায় আগুন

পুরান ঢাকার মুঘল আমলের সেই গিঞ্জি বাড়ি-ঘর সংবলিত স্থাপনা এখন কাল হইয়া দাঁড়াইয়াছে। দুঃখজনক হইলেও সত্য যে, পুরান ঢাকার এমন কোনো বাড়ি নাই যাহার নিচতলা বা মাটির নিচে কেমিক্যালজাতীয় কারখানা নাই। কারখানা ছোটো বা বড়ো যাহাই হোক, আইন অনুযায়ী এই ধরনের রাসায়নিক কারখানা তৈরির ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ধারা রহিয়াছে। আশ্চর্যজনক হইলেও সত্য যে, এই ধরনের অনাহূত অবস্থার ব্যাপারে সরকার বারবার সতর্ক করিয়া দিলেও তাহারা তোয়াক্কা না করিয়া ঝুঁকি লইয়া আসিতেছে দীর্ঘদিন যাবত্।

১৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার লালবাগ পোস্তঢালে প্লাস্টিকের সরঞ্জাম তৈরির কারখানায় আগুন লাগিয়া পুড়িয়া গিয়াছে অনেক সম্পদ। রাতে আগুন লাগিয়াছে বলিয়া এই ঘটনায় কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটিলেও ক্ষতি হইয়াছে প্রায় তিন কোটি টাকারও বেশি সম্পদের। ইহাতে অনেক মানুষ হইয়াছে নিঃস্ব, ক্ষতি হইয়াছে বিপুল সম্পদের। ইহার পূর্বেও দুই-দুইবার বড়ো ধরনের ভয়াবহ আগুনে পুড়িয়া গিয়াছে অনেক মানুষ এবং ক্ষতি হইয়াছে বিপুল সম্পদের। যাহার ফলশ্রুতিতে পুরান ঢাকা হইতে কেমিক্যাল গোডাউন সরাইবার জোর দাবি তুলিয়াছে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।

সম্প্রতি নিমতলীতে বহু মানুষ এবং চুড়িহাট্টায় আগুনে পুড়িয়া ৭০ জন মারা যায় এবং আহত হয় অনেকে। দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাগুলির পর প্রশাসন নড়িয়া-চড়িয়া উঠে পুরান ঢাকার কারখানা অপসারণের জন্য। কিন্তু সঠিক পদক্ষেপের অভাবে কেমিক্যাল ও প্লাস্টিকের গোডাউন এবং আরো বেশিসংখ্যক কারখানা নতুন করিয়া গড়িয়া উঠিয়াছে! যাহার ফলে ঝুঁকি কমিবে তো দূরের কথা, আরো বাড়িয়া গিয়াছে। চুড়িহাট্টার বিপর্যয়ের পর বলা হইয়াছিল, ব্যবস্থা না নিলে আবারও আগুনের ঘটনা ঘটিতে পারে। তাহাই দেখা গেল পোস্তঢালের আগুনের মধ্য দিয়া।

ঘিঞ্জি এলাকায় এমন আগুন যখন-তখন লাগিতে পারে, ইহাই স্বাভাবিক। পোস্তঢালে লাগা এই আগুন দ্রুত সময়ে নিয়ন্ত্রণে আনিতে সক্ষম হইয়াছে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট। ঈদের ছুটিতে মানুষ না থাকায় হতাহত হয়নি। এমন তো হইতে পারিত যে, ইহা চুড়িহাট্টার ভয়াবহতাকেও হার মানাইত! সরু রাস্তার কারণে গাড়ি যাইতে সমস্যা হয় বিধায় দূর হইতে পানি ছিটাইয়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কারখানার পেছনে ট্রান্সমিটার বিস্ফোরণের কারণে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানা যায়, যেই কারখানায় আগুন লাগে, সেইখানে চিকিত্সায় ব্যবহূত সিরিঞ্জ ও স্যালাইনের ব্যাগ তৈরি করা হইত। অথচ প্রশাসনের নাকের ডগায় নিয়ম না মানিয়া বাসাবাড়িতে এইসব কারখানা গড়িয়া উঠিয়াছে। জানা যায়, পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল অপসারণের জন্য সরকার যে পদক্ষেপ লইয়াছিল, তাহা প্রভাবশালী কাহারো কাহারো কারণে সফল হইয়া উঠে নাই। কিন্তু প্রশ্ন হইল, বড়ো কোনো দুর্ঘটনা ঘটিলে কি ঐসব তথাকথিত প্রভাবশালীরা দায়ভার গ্রহণ করিবে? যদি তাহা না-ই করে, তাহলে সরকারের সংশ্লিষ্টরাও এইসব কেমিক্যাল, প্লাস্টিকের, জুতার কারখানা অপসারণ করিবেন না কেন? সেইসঙ্গে ইহাও মনে রাখিতে হইবে, এলাকাবাসী সচেতন হইলেও এই ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলি থাকিতে পারিত না। সুতরাং এই অবস্থা পরিবর্তনে একদিকে যেমন প্রশাসনকে শক্ত পদক্ষেপ লইতে হইবে, অন্যদিকে এলাকাবাসীরও সচেতন হইয়া উঠিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন