ঢাকা শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


প্লাস্টিক বৃষ্টি : অশনিসংকেত এড়ানো যাইবে না

প্লাস্টিক বৃষ্টি : অশনিসংকেত এড়ানো যাইবে না

প্লাস্টিকের উপকারিতা বলিয়া শেষ করা যাইবে না। তেমনি ইহার অপকারিতারও শেষ নাই। যদিও ইতিহাসের সময়কাল বিবেচনায় প্লাস্টিক একেবারেই নূতন পণ্য। ১৯৫০ সালে বিশ্বে প্লাস্টিকের উত্পাদন ছিল মাত্র ২ দশমিক ২ টন। কিন্তু মাত্র ৬৯ বত্সরে আসিয়া বর্তমানে প্লাস্টিকের উত্পাদন দাঁড়াইয়াছে ৫০ কোটি টনের অধিক! পৃথিবীতে এখন প্রতি বত্সর মাথাপিছু ৬০ কেজি প্লাস্টিক ব্যবহার হয়। উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ এবং জাপানের মতো শিল্পোন্নত দেশগুলিতে ইহার পরিমাণ মাথাপিছু ১০০ কেজিরও বেশি। আর সেই কারণে সম্ভবত বৃষ্টির সহিত আকাশ হইতে এখন ঝরিয়া পড়িতেছে প্লাস্টিকের কণা। সম্প্রতি এমন ঘটনা ঘটিয়াছে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোয়। যদিও এই প্লাস্টিক বা প্লাস্টিক কণা খালি চোখে দেখা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা মাইক্রোসকোপের নিচে ডেনভার ও বোল্ডার এবং কলোরাডোর বৃষ্টির পানি লইয়া গবেষণা করিয়া জানিতে পারিয়াছেন এই তথ্য। ইহার আগেও বিজ্ঞানীরা বৃষ্টির মধ্যে প্লাস্টিক-কণার সন্ধান পাইয়াছেন। স্থানটি ছিল দক্ষিণ ফ্রান্সের পিরেনিজ।

প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতিতে প্রতিনিয়তই চলিতেছে বিস্ময়কর এক চক্রের খেলা। এইখানে সকল কিছুই ঘুরিয়া ফিরিয়া আসে বারবার। তেমনিভাবে অপচ্য প্লাস্টিক প্রকৃতিতে মিশিয়া ভাঙিয়া যায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায়। প্লাস্টিকের এই ক্ষুদ্র কণা মাইক্রোপ্লাস্টিক নামে পরিচিত। মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্যচক্রে প্রবেশ করিয়া শেষ গন্তব্য হিসাবে ঢুকিতেছে মানুষের শরীরে। অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির একদল গবেষকের গবেষণায় দেখা গিয়াছে, আমরা সপ্তাহে ৫ গ্রাম পর্যন্ত প্লাস্টিক খাই, যাহা দিয়া বানানো যাইবে একটি আস্ত ক্রেডিটকার্ড! গবেষণায় আরো দেখা গিয়াছে পৃথিবীর সব ধরনের জলাশয়ে এত বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য মিশিয়াছে যে, তাহার টুকরো টুকরো কণা প্রতিনিয়তই গিলিতেছে সকল প্রজাতির মাছ। আর এই সকল মাছ খাইয়া পরোক্ষভাবে আমরা প্লাস্টিকও খাইয়া ফেলিতেছি। প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে প্রতি বত্সর মৃত্যু হইতেছে লক্ষ লক্ষ পশুপাখির, মারা যাইতেছে ১০ কোটির অধিক সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী। ২০৫০ সালের দিকে নাকি সমুদ্রগুলিতে মাছের তুলনায় প্লাস্টিকের বোতল বা অন্যান্য প্লাস্টিক বর্জ্য বেশি থাকিবে।

মনে রাখিতে হইবে, পৃথিবীর অস্তিত্ব টিকিয়া আছে সামুদ্রিক সিস্টেমের কারণে। খাদ্য ও অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে সমুদ্রগুলি পৃথিবীর প্রাণিকুলের অস্তিত্ব রক্ষা করে। আশার কথা হইল, বিশ্ব জুড়িয়াই পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়িতেছে। প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হইতেছে। বাংলাদেশের মানুষ মাথাপিছু গড়ে প্রায় চার কেজি প্লাস্টিক ব্যবহার করিয়া থাকে। বিশ্বের তুলনায় এই ব্যবহার কম হইলেও ক্ষতি কিন্তু কম হইতেছে না। বাংলাদেশে ২০০২ সালে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হইয়াছিল। ২০১০ সালে পণ্যের মোড়ক হিসাবে পাটের ব্যাগ ব্যবহারে আইন হয়। তাহা সত্ত্বেও পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার দিনকে দিন বাড়িতেছে। সুতরাং সময় থাকিতে সচেতন না হইলে ইহার সুদূরপ্রসারী ক্ষতি হইতে আমাদের কেহ রক্ষা করিতে পারিবে না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন