ঢাকা রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬
৩০ °সে


নকল ইলেকট্রনিক পণ্য

নকল ইলেকট্রনিক পণ্য

বিদেশি ইলেকট্রনিক পণ্য নকল করিয়া নূতন প্রডাক্ট তৈরি করিবার প্রবণতা বিশ্বে নূতন নহে। জাপান, কোরিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ একসময় উন্নত যন্ত্রপাতি তৈরি করিতে সক্ষম হইয়াছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ধোলাই খাল কিংবা কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরায় যেইসব ইলেকট্রনিক পণ্য উত্পাদিত হয়, তাহার মান নিয়া প্রশ্ন থাকিতে পারে, কিন্তু তাহাদের কর্মোদ্যোগকে অনুত্সাহিত করিবার কোনো অবকাশ নাই। এইভাবে ‘মেড ইন জিঞ্জিরা’ যে একদিন বাংলাদেশের মুখোজ্জ্বল করিবে না, তাহাই-বা আমরা কীভাবে বলি? তবে নকল করিতে গিয়া বা কোনো ইলেকট্রনিক পণ্য উত্পাদন করিতে গিয়া মূল যন্ত্রপাতি এমন নিম্নমানের ও ত্রুটিযুক্ত হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত, যাহাতে তাহা বিপর্যয় বা বিপদ ডাকিয়া আনিতে পারে। কেননা এইসব ত্রুটিযুক্ত বৈদ্যুতিক পণ্যের কারণেই আমাদের দেশে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড ঘটিতেছে। জীবন ও মালের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হইতেছে। খবরে প্রকাশ, বর্তমানে বাজারে যে সকল বৈদ্যুতিক পণ্য বিক্রয় হয়, তাহার ৪০ শতাংশই নকল বা নিম্নমানের। যেমন—বৈদ্যুতিক তার, সুইচ ও অন্যান্য সরঞ্জাম। আর এইসব পণ্য ব্যবহারে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে প্রায়শ ঘটিতেছে অগ্নিদুর্ঘটনা।

বিএসটিআই প্রদত্ত তথ্যে জানা যায়, বর্তমানে দেশে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের কেব্ল, ৮টি প্রতিষ্ঠানের সুইচ-সকেট, ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের ফ্যান তৈরির লাইসেন্স রহিয়াছে। অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরির লাইসেন্স রহিয়াছে আরো ২২টি প্রতিষ্ঠানের। লাইসেন্সধারী এইসব প্রতিষ্ঠানের বাহিরে সহস্রাধিক কারখানায় নকল পণ্য তৈরি হইতেছে বলিয়া জানা গিয়াছে। ইহা ছাড়া অবাধ আমদানি ও কিছু প্রতিষ্ঠানের কারসাজির কারণেও নিম্নমানের ইলেকট্রনিক পণ্যে সয়লাব হইয়া পড়িতেছে দেশের বাজার। মানহীন এইসব পণ্যের কার্যক্ষমতা ও স্থায়িত্ব একেবারেই কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এইসব পণ্যের কোনো ওয়ারেন্টি দেওয়া হয় না। ওয়ারেন্টি দেওয়া হইলেও শর্ত অনুযায়ী বিক্রয়োত্তর সেবা দেওয়া হয় না বা টালবাহানা করা হয়। চটকদার বিজ্ঞাপন দেখিয়া এইসব পণ্য ক্রয় করিয়া অনেকে সর্বস্বান্ত হয়। ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি ও বাজারজাতকরণ এবং স্থানীয়ভাবে সংযোজনে সঠিক নীতিমালা না থাকায় এমনটি হয়। বাংলাদেশে ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিনসহ যেসব ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি হয় সেগুলোর ৮০ শতাংশই আসে বিনা ব্র্যান্ডে। পরে ইচ্ছামতো ব্র্যান্ডের নাম বসাইয়া দেওয়া হয়। নিম্নমানের ইলেকট্রনিক সামগ্রীর বাজারজাত বন্ধ করিতে হইলে এবং ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ দূর করিতে হইলে এইক্ষেত্রে অবশ্যই নজরদারি বৃদ্ধি করিতে হইবে। আমরা দেখিতে পাই, অনেকে নকল মোটরসাইকেল ক্রয় করিয়া সার্ভিস করাইতে করাইতেই ফতুর হইয়া যান। বিক্রি করিতে চাহিলে অর্ধেক দামও পাওয়া যায় না।

সকল ধরনের নকল ইলেকট্রনিক পণ্যের কারণে ক্রেতারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, নানা ভোগান্তিতে পড়েন। তবে তাহার চাইতেও বড়ো কথা হইল নিরাপত্তা। কেননা সেফটি ফার্স্ট বা নিরাপত্তাই প্রথম। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত এক দশকে সারা দেশে এক লক্ষ ৬৮ হাজার ১৮টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়াছে। ২০১৮ সালেই ঘটিয়াছে ১৯ হাজার ৬৪২টি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিম্নমানের ও ত্রুটিযুক্ত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও পণ্য ব্যবহার বন্ধ করিতে পারিলে এইসব দুর্ঘটনা যেমন রোধ করা যাইবে, তেমনি অপচয় ও দুর্ভোগও কমিবে। এইজন্য মানহীন বৈদ্যুতিক সামগ্রী উত্পাদন, আমদানি ও বিপণন বন্ধ করিতে হইবে। বিশেষত বিএসটিআই অননুমোদিত বৈদ্যুতিক পণ্য বেচাকেনা ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা জরুরি।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন