ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে


প্রশংসনীয় এই উদ্যোগের প্রভাব থাকিবে সুদূরপ্রসারী

প্রশংসনীয় এই উদ্যোগের প্রভাব থাকিবে সুদূরপ্রসারী

শিক্ষা কেবল অবৈতনিক এবং বাধ্যতামূলক করিলেই সেই শিক্ষা আত্মস্থ করিবার মতো অবস্থা বাংলাদেশের সকল শিশুর থাকে না। আমরা নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে শামিল হইলেও এখনো আমাদের লক্ষ লক্ষ শিশু আধপেটা খাইয়া কিংবা না খাইয়া স্কুলে যায়। এই সমস্যা কেবল আমাদের দেশের নহে, সমগ্র উপমহাদেশের। এতদঞ্চলে শত অভাবের মধ্যেও যেইসকল বাবা-মা তাহাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠান, শেষাবধি দেখা যায় ঐ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় ঠিকমতো মন দিতে পারে না। কারণ, আধপেটা কিংবা অনাহারে থাকিয়া আর যাহাই হউক বিদ্যার পুলসুরাত পার হওয়া যায় না। ক্ষুধার রাজ্যে এমনিতেই পৃথিবী হইয়া উঠে গদ্যময়। আশার কথা হইল, ২০২৩ সালের মধ্যে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দুপুরে খাবার দেওয়ার প্রকল্প হাতে লইয়াছে সরকার। শুরুতেই এই সুবিধা দেওয়া হইবে চর, হাওর ও দুর্গম এলাকার স্কুলগুলিতে। পর্যায়ক্রমে প্রাথমিকের সকল শিক্ষার্থীদের খাবার হিসাবে রান্না করা খাবার বা ডিম, কলা ও উন্নত মানের বিস্কুট দেওয়া হইবে। এমন বিধান রাখিয়া ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি ২০১৯’-এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়াছে মন্ত্রিসভা।

নিঃসন্দেহে একটি সময় আসিয়া এই উদ্যোগের সুদূরপ্রসারী প্রভাব দৃশ্যমান হইবে। ভারতে সেই ১৯৯৫ সালেই মিড ডে মিল প্রকল্প চালু হয়। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে চালু হয় ২০০৩ সালে। যেইসকল অনিবার্য কারণে ভারতে মিড ডে চালু করা হইয়াছে, সেইসকল কারণ প্রায় একই মাত্রায় বাংলাদেশেও দৃশ্যমান। সুতরাং এক অর্থে যথেষ্ট বিলম্ব হইলেও শেষাবধি শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় স্কুল মিল নীতি চালু করা হইতেছে—ইহার প্রশংসা করিতেই হয়। স্কুল মিল নীতিমালা খসড়া করিবার আগে পাইলট প্রকল্পে দেখা গিয়াছে, যেইসকল স্কুলে মিল চালু করা হয় সেইসকল স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি শতভাগ নিশ্চিত হইয়াছে, উপস্থিতির হার আগের তুলনায় ৫ হইতে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাইয়াছে। স্কুল হইতে শিক্ষার্থীদের ঝরিয়া পড়িবার হারও কমিয়াছে সাড়ে ৬ শতাংশ। বলিবার অপেক্ষা রাখে না, দেশের ১ লক্ষ ৩৪ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পৌনে দুই কোটি শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের কাজ। বিশেষ করিয়া খাবারের গুণমান বজায় রাখা। স্কুল মিল কর্মকৌশলে বলা হইয়াছে, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ক্যালরির ন্যূনতম ৩০ শতাংশ স্কুল মিল হইতে আসা নিশ্চিত করা হইবে। খাবারের ধরন নির্বাচনের ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করা হইবে স্বাদ ও রুচি বিবেচনায় সাপ্তাহিক ভিত্তিতে। খাদ্যে বৈচিত্র্য আনিতে তৈরি করা হইবে পুষ্টি চাল, পুষ্টি তেল, মৌসুমি তাজা সবজি ও ডিম দিয়া খাবার। অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে রান্না করা খাবারকে। উচ্চ পুষ্টিমানসমৃদ্ধ বিস্কুটও দেওয়া হবে।

তবে রান্না করা খাবারের ক্ষেত্রে রান্নাঘরের পরিবেশ, রান্নার মান ঠিক রাখা খুব সহজ কাজ নহে। মিড ডে মিল খাইয়া শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হইবার ঘটনা পার্শ্ববর্তী দেশে কখনো-কখনো ঘটিয়া থাকে। সুতরাং রান্না করা খাবারের মাধ্যমে কোনো দুর্ঘটনা যাহাতে না ঘটে সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন