ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৪ °সে


দুধে ক্ষতিকর উপাদান নিয়া বিতর্ক

দুধে ক্ষতিকর উপাদান নিয়া বিতর্ক

সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বাংলাদেশে ডেইরি শিল্প উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করিয়াছে। দেশের অর্থনীতি ও পুষ্টিক্ষেত্রে ইহার ইতিবাচক প্রভাব পড়িয়াছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেত্রে অগ্রগতির আরো সুযোগ রহিয়াছে। কিন্তু সম্প্রতি দেশের ডেইরি শিল্পের উপর কালো ছায়া নামিয়া আসিয়াছে। প্রথমে দেশের বিভিন্ন কোম্পানির বাজারজাতকৃত পাস্তুরিত দুধে মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন উপাদান পাওয়া যায়। পরে ইহা লইয়া একাধিক গবেষণা সংস্থার মধ্যে বাগিবতণ্ডা চলিতে থাকে। কারো গবেষণায় দুধে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যায়, কারো গবেষণায় দুধকে নিরাপদ বলা হয়। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) পাস্তুরিত দুধে কোনো ক্ষতিকর উপাদান পায় নাই। কিন্তু বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএসএফএ) ৯৬টি পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত নমুনার মধ্যে ৯৩টিতে ক্ষতিকর উপাদান পাইয়াছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এমন বিষয়ে দুই সংস্থার বিপরীতমুখী বক্তব্যে ভোক্তা সাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্স সেন্টার হইতে দুই দফায় প্রকাশিত রিপোর্টেও দুধে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গিয়াছে বলিয়া নিশ্চিত করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োম্যাডিকেল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক গত ২৫ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলিয়াছিলেন, বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাতটি প্যাকেটজাত (পাস্তুরিত) দুধের নমুনা পরীক্ষা করিয়া সেগুলোতে মানুষের চিকিত্সায় ব্যবহূত শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাইয়াছেন তাহারা। পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় মন্তব্য করিয়া তিনি বলেন, নমুনার সবগুলোতেই লিভোফ্লক্সাসিন ও সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং ছয়টি নমুনায় এজিথ্রোমাইসিনের উপস্থিতি পাওয়া গিয়াছে। এ ছাড়া পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধের চারটি নমুনাতে ডিটারজেন্ট ও অপাস্তুরিত দুধে একটি নমুনাতে ফরমালিন পাওয়া যায়।

ইহার পরে সরকারের ও প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ এই গবেষণাগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলিতে থাকেন। তাহারা বলেন, প্রাণ, মিল্কভিটা ও আড়ংসহ অন্যান্য কোম্পানির দুধে কোনো প্রকার ক্ষতিকর উপাদান নাই। এসব দুধ নিশ্চিন্তে পান করার আহ্বান জানান তাহারা। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতির কথা জানিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট গবেষকদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুমকি দেন কেউ কেউ। ইহার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সোমবার মন্তব্য করিয়াছেন, দুধ নিয়া অপপ্রচার দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ইহার ফলে দেশের খামার ব্যবসা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হইয়াছে। তিনি, বিদেশ হইতে যেসব গুঁড়া দুধ দেশে আসে সেগুলোও পরীক্ষা করার কথা বলেন।

যাহারা দুধ নিয়া পূর্বে গবেষণা করিয়াছিলেন তাহাদের গবেষণা নিয়া প্রশ্ন উঠিয়াছে; এখন তাহাদের উচিত হইবে সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া। প্রয়োজনে দেশের বাহিরের গবেষণাগার হইতে নমুনা পরীক্ষা করিয়া আনিতে হইবে। প্রকৃতপক্ষে দুধে বিষাক্ত উপাদান আছে কি না তাহা জনস্বার্থে উদ্ঘাটন হওয়া প্রয়োজন; দেশবাসীর সেটা জানিবার অধিকার আছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন