ঢাকা রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
২৭ °সে


চট্টগ্রাম ওয়াসা কেন লোকসান গুনিবে?

চট্টগ্রাম ওয়াসা কেন লোকসান গুনিবে?

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, কাট ইউর কোট অ্যাকোরডিং টু ইউর ক্লোথ। ইহার সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ বাংলা প্রবাদটি হইল—আয় বুঝিয়া ব্যয় কর; কিন্তু এই নীতিবাক্য আমরা মুখে আওড়াইলেও আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইহার প্রতিফলন তেমন দেখা যায় না। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইহা যেন আরো প্রযোজ্য। সরকারি এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রহিয়াছে যাহা বত্সরের পর বত্সর কেবল লোকসান গুনিয়া যাইতেছে। এইসব লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করিয়া জনগণের ট্যাক্সের অর্থ সাশ্রয়ের কোনো উদ্যোগ নাই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবিবেকোচিত ভর্তুকি দেওয়া হইতেছে। ভর্তুকির টাকা লইয়া হরিলুট চলিলেও সেদিকে তেমন কোনো ভ্রুক্ষেপ নাই। প্রসঙ্গত চট্টগ্রাম ওয়াসার কথা বলা যায়। ওয়াসা নিশ্চয়ই একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান; কিন্তু সেবা দিতে গিয়া যদি কেবল লোকসানই হয়, তবে সেই প্রতিষ্ঠান টিকিয়া থাকিবে কীভাবে? খবরে বলা হইতেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি চরম আর্থিকসংকটে নিপতিত। বত্সরে ইহার আয় প্রায় ১০৮ কোটি টাকা আর ব্যয় ১২০ কোটি টাকা। তাই আয়-ব্যয় সমন্বয় করিতে তাহারা মন্ত্রণালয়ে ভর্তুকি চাহিয়া পাঠাইয়াছে। এইভাবে ভর্তুকি ও সাহায্যনির্ভর কোনো প্রতিষ্ঠান নিজের পায়ে দাঁড়াইতে পারে না, শক্তিশালীও হইতে পারে না।

কেহ কেহ বলিয়া থাকেন যে, রাষ্ট্রীয় সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান লোকসান দিয়া হইলেও চালাইতে হইবে। কোনো কোনো সেবার ক্ষেত্রে ইহা হয়তো সত্য; কিন্তু যেইখানে আয়-ব্যয় ঠিক রাখিয়া চলিবার সামর্থ্য ও সুযোগ আছে, সেইখানে অব্যাহতভাবে লোকসান গুনিতে হইবে কেন? পানির ব্যবসা করিয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি যখন ক্রমশ উন্নতি লাভ করিতেছে, তখন সরকারি প্রতিষ্ঠান কেবল লোকসানের কাহিনি শুনাইবে কেন? এই পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম ওয়াসাকে আয় বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়াছে। আমরা মনে করি, এই বিষয়টি ভাবিয়া দেখিবার অবকাশ আছে। যেইখানে বর্তমান বাজারে বোতলজাত হাফ লিটার পানির মূল্য ১৫ টাকা, সেইখানে আবাসিকে ওয়াসার প্রতি ১ হাজার লিটার পানির মূল্য মাত্র ৯ টাকা ৯২ পয়সা। অনাবাসিকে ২৭ টাকা ৫৬ পয়সা। সবকিছুর দাম বাড়িলে ওয়াসার পানির দাম কেন বাড়িবে না? এইজন্য সম্প্রতি ওয়াসার বোর্ড সভায় ইহা যথাক্রমে ১৬ টাকা ও ৪০ টাকা করিবার প্রস্তাব অনুমোদন হইয়াছে।

সরকারি হউক আর বেসরকারি হউক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাইতে হইলে আমাদের কিছুটা মূল্য দিতে হইবে। তবে ইহাও ঠিক, কেবল দাম বাড়াইলেই চলিবে না, তাহার সহিত সার্বক্ষণিক ও সুষ্ঠুভাবে সেবা প্রদান করিতে হইবে। পানির মান যেন ভালো হয় তাহাও সুনিশ্চিত করিতে হইবে। আর ইহা করিতে গেলে ওয়াসায় যেইসব অনিয়ম ও দুর্নীতি রহিয়াছে তাহাও দূর করিতে হইবে। তাহার সহিত প্রয়োজন অপচয় ও অপব্যয় বন্ধ করা। অবৈধভাবে পানির লাইন দিয়া যেইসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের পকেট ভারি করিতেছেন তাহাদের ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ নিতে হইবে। বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে চট্টগ্রাম ওয়াসার ঘাড়ে এখন ঋণের বোঝা ৭ হাজার ৬৫১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা। ফলে ২০২২ সাল হইতে এই প্রতিষ্ঠানকে কেবল ঋণবাবদ সুদে-আসলে বত্সরে ১০০ কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করিতে হইবে। এই বিষয়গুলি মাথায় রাখিয়াই চট্টগ্রামের ওয়াসাকে পথ চলিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন