ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬
৩০ °সে


তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ন প্রতিবন্ধকতা

তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ন প্রতিবন্ধকতা

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি পড়িয়াছে এক গভীর ফাঁদে, যেইখান হইতে বাহির হইয়া আসার পথ প্রশস্ত না হইয়া বরং ক্রমেই সরু হইয়া আসিতেছে। সরকার পরিচালনার দায়িত্বে যাহারাই থাকুন না কেন, উত্তরণের কাঠিন্য সকলের জন্যই সমান পরিলক্ষিত হয়। লক্ষ করিলেই দেখা যায়, এইসকল দেশের এমন একটি খাত নাই, যেই খাত হইতে সরকার দুই পয়সা আয় করিতে পারে। সর্বক্ষেত্রে ভর্তুকিই যেন অনিবার্য পরিণতি। কিন্তু কাহারো বিচার করিবার ফুরসত থাকে না যে এই ভর্তুকি আসিবে কোথা হইতে। আর এই ভর্তুকিকে প্রাধান্য দিতে গিয়া সরকারকে হাত বাড়াইতে হয় যত্রতত্র। ফলে সরকারের ব্যাংকঋণ, বৈদেশিক ঋণের বোঝা উত্তরোত্তর বাড়িতে থাকে। শেষে ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থায় পতিত হয়। আমাদের দেশই তাহার একটি বড়ো উদাহরণ।

সেই সঙ্গে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে লুটেরা অর্থনীতি প্রকট হইয়া উঠিতে দেখা যায়, যাহা একটি দেশের সামনে আগাইবার পথে সবচাইতে বড়ো অন্তরায়। সর্বক্ষেত্রে, সর্বস্তরে ছড়াইয়া পড়ে লুটপাট। সরকার তখন অপারগ হইয়া অনেক ব্যবসা ব্যক্তিখাতে (প্রাইভেট সেক্টর) ছাড়িয়া দেয়। কিন্তু সেই খাতগুলিও সরকারের সঙ্গে সঠিকভাবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না। অধিকন্তু দেশের প্রচলিত আইনের ব্যত্যয় ঘটিতে দেখা যায় হরহামেশাই। এইভাবেই দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর যাহারা স্বাধীন হইয়াছে, তাহার মধ্যে অনেক দেশ কার্যত দেউলিয়া হইয়া পড়িয়াছে।

আমাদের দেশের বেলায়ও আমরা এই ধরনের ত্রুটি দেখিতে পাই। এইসকল দেশে কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদকে অবহেলা করিয়া শিল্পের দিকে মনোনিবেশ করা হইয়া থাকে। ভালো কথা। অথচ বৈপরীত্যে ভরা সেই শিল্পপ্রচেষ্টা। লক্ষ করা যায়, শিল্পোত্পাদনের প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রেই দেশগুলি কাঁচামাল আমদানি-নির্ভর হইয়া থাকে। ফলে প্রথমেই ফ্রেইট রেইটের কারণে পিছাইয়া পড়িতে হয়। উপরন্তু শিল্পের জন্য যেসকল মেশিনারিজ প্রয়োজন তাহা বিদেশ, বিশেষ করিয়া শিল্পোন্নত দেশগুলি হইতে আমদানি করা হইয়া থাকে। শুধু তাহাই নহে, মেশিনের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের জন্যও নির্ভর করিতে ঐ মেশিন রপ্তানিকারক দেশ বা প্রতিষ্ঠানের উপর। এইভাবে কাঁচামাল হইতে মেশিনারিজ সবকিছু আমদানির উপর নির্ভর করিয়া শিল্প দাঁড়াইবে কী করিয়া? প্রতিবন্ধকতা আরো রহিয়াছে। উদ্যোক্তাদের চড়া ব্যাংক সুদ গুনিতে হয়। শিল্প বিদ্যুতেরও দাম চড়া এবং সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন নহে। সেই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তির অভাব তো থাকেই। এইভাবে আর যাহাই হউক, শিল্পোন্নয়ন সম্ভব কি?

তথাকথিত স্বল্পোন্নত দেশগুলির একটি বড়ো সমস্যা হইল তাহারা নিজেদের শক্তি, সামর্থ্য ও দুর্বলতা সম্পর্কে হয় উদাসীন, অথবা জ্ঞাত নহে। কোন পথে আগানো উচিত, কোন পথে সামর্থ্য রাখে এবং কোন পথে পা বাড়ানো প্রয়োজন সে বিষয় বিবেচনা রাখে না। তাহাদের প্রয়োজন প্রভূত বোধশক্তিসম্পন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা। অপর অনেক দেশের চাইতে বাংলাদেশের একটি বড়ো সুবিধা হইল, আমরা একই ভাষার একই জাতির দেশ। বাংলাদেশের রহিয়াছে পর্যাপ্ত যুবশ্রমশক্তি। সঠিক পরিকল্পনার মধ্য দিয়া, লুটপাট না হইতে দিয়া বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিলে বাংলাদেশের জন্য টেকসই উন্নয়ন মোটেই অসম্ভব নহে। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠিয়া সততার সঙ্গে, প্রতিশ্রুতি মাথায় রাখিয়া কতিপয় দায়িত্ব অর্পিত লোক সরকার-প্রধানের দিকে সহায়তার হাত বাড়াইয়া দিলেই বাংলাদেশ অচিরে পালটাইয়া যাইবে, ইহাতে কোনো সন্দেহ নাই।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন