ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


গ্রিনল্যান্ড রূপসীর প্রতি ট্রাম্পের কেন লোভ?

গ্রিনল্যান্ড রূপসীর প্রতি ট্রাম্পের কেন লোভ?

কথায় আছে—‘অর্থ থাকিলে নাকি বাঘের চোখও মেলে’। অর্থাত্, অর্থ দিয়া জগতের অর্থবহ যে কোনো কিছুরই মালিক হওয়া যায়! কিন্তু প্রবাদের বাহিরেও কিছু কথা থাকিয়া যায়। সম্প্রতি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড ক্রয় করিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করিয়া তুমুল বিতর্কের মুখে পড়িয়াছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইহাতে অবশ্য ভীষণভাবে নাখোশ হইয়াছে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানাধীন রাষ্ট্র ডেনমার্ক। ট্রাম্পের মুখের ওপর ডেনমার্ক জবাব দিয়াছে—‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রয়ের জন্য নহে’। ডেনমার্কের এমন রুক্ষ জবাবে পালটা নাখোশ হইয়াছেন ট্রাম্প। এতটাই মনঃক্ষুণ্ন হইয়াছেন যে, ড্যানিশ রানি দ্বিতীয় মারগ্রেথের আমন্ত্রণে আগামী ২ সেপ্টেম্বর ডেনমার্ক সফরসূচিই বাতিল করিয়া দিয়াছেন ট্রাম্প।

কিন্তু কেন গ্রিনল্যান্ড ক্রয় করিতে চাহেন ট্রাম্প? আপাতভাবে ট্রাম্পের অভিমত হইল—রিয়েল এস্টেট ব্যবসার দিক হইতে দেখিলে গ্রিনল্যান্ড ক্রয়ের ‘ডিল’টি অত্যন্ত লাভজনক। তাহা ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা হাতে রাখিতে গিয়া বত্সরে কম করিয়া ৭০ কোটি ডলার লোকসান গুনিতে হইতেছে ডেনমার্ককে। ট্রাম্প এই বোঝা হইতে তাহার ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ ডেনমার্ককে মুক্ত করিতে চাহেন। তবে অনেকের মতে ইহা ট্রাম্পের কেবল উপরি ভাবনা মাত্র। প্রকৃতপক্ষে গ্রিনল্যান্ড ক্রয়ের ইচ্ছা আমেরিকার নূতন নহে। ১৯৪৬ সালেও আমেরিকা এই দ্বীপ ক্রয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব সেই সময়ও খারিজ করিয়া দেয় ডেনমার্ক। তাত্পর্যপূর্ণ ব্যাপার হইল, গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি রহিয়াছে। মহাকাশে নজর রাখিবার জন্যও এই দ্বীপকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক অবস্থানের দিক দিয়াও গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া আর আমেরিকার মাঝখানে আর্কটিক এই বিশাল ভূমি সামরিক স্থাপনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থান। সামরিক দিক ছাড়াও প্রাকৃতিক সম্পদের দিক হইতেও গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত সমৃদ্ধ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দ্বীপটিতে বরফ গলনের মাত্রা বৃদ্ধি পাইয়াছে, উন্মোচিত হইতেছে নূতন নূতন ভূমি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ। সেই কারণে সময় থাকিতেই গ্রিনল্যান্ড কিনিয়া বাজিমাত করিতে চাহে আমেরিকা। যদিও গ্রিনল্যান্ড ক্রয় করিবার বিষয়টি এখন আর এত সহজ ‘ডিল’ নহে। উল্লেখ থাকে যে, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীনে হইলেও তাহাদের স্বায়ত্তশাসন রহিয়াছে। পৃথক সরকার তথা পার্লামেন্টও রহিয়াছে। যদিও নিজের বিশেষ প্রয়োজনে বিভিন্ন অঞ্চল ক্রয়ের ইতিহাস নূতন নহে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যটি যুক্তরাষ্ট্র ১৮০৩ সালে ফ্রান্সের নিকট হইতে কিনিয়া লইয়াছিল। ১৮৬৭ সালে রাশিয়া হইতে ৭২ লক্ষ ডলারের বিনিময়ে আলাস্কা কিনিয়া লইয়াছিল যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ ১৯১৭ সালে ডেনমার্ক হইতেই ড্যানিশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিনিয়াছিল যুক্তরাষ্ট্র—যাহার বর্তমান নাম ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ড।

সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড ক্রয়ের ইচ্ছাপ্রকাশে বিস্ময়ের কিছু নাই। অনেকের মতে, গ্রিনল্যান্ড ক্রয়ের ইচ্ছা প্রকাশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাহার নূতন বিশ্বব্যবস্থার ছক তৈরির মনোভাব প্রকাশ করিয়াছে। কিন্তু একটি ভূমি নিজের অর্থশক্তি দিয়া যখন খুশি তখন ক্রয় করা যায় কি? ইহা যেন অন্যের রূপসী বধূ দেখিয়া তাহাকে নিজের পেশিশক্তি দিয়া করায়ত্ত করিবার মতো অনৈতিক ইচ্ছা। ইহাকে ‘ধরাকে সরা জ্ঞান করা’ ছাড়া আর কী বা বলা যায়!

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন