ঢাকা শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


অনলাইনে হয়রানি ও তাহার প্রতিকার

অনলাইনে হয়রানি ও তাহার প্রতিকার

বর্তমান কাল সোশ্যাল মিডিয়ার। এই সময়ে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্যের আদান-প্রদান বহুগুণে বৃদ্ধি পাইয়াছে। সেই সঙ্গে বাড়িয়াছে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও ভিডিও অপব্যবহার করিয়া ব্লাকমেইলিংসহ নানা রকম হয়রানির ঘটনা। এই সব ঘটনা অনেক সময় ভুক্তভুগীর অজ্ঞাতেই ঘটিতেছে। সম্প্রতি ইউনিসেফ এক প্রতিবেদনে জানাইয়াছে, বাংলাদেশের শতকরা ৪৫ ভাগ শিশু ও তরুণ অনলাইনে হয়রানির শিকার। এই সংখ্যা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। ইউনিসেফ ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতাবিষয়ক জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি (এসআরএসজি) কর্তৃক প্রকাশিত এক জরিপে এই তথ্য উঠিয়া আসিয়াছে। ১৩ হইতে ২৪ বছর বয়সি ১ লক্ষ ৭০ হাজারের বেশি ইউ-রিপোর্টার এই জরিপে অংশ নেন। বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, বলিভিয়া, ব্রাজিলসহ ৩০টি দেশে এই জরিপ চালানো হয়। যুবসমাজের সম্পৃক্ততায় ইউ-রিপোর্টের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখিয়া এই জরিপে অংশ নেন। ইহাতে বলা হয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশে প্রতি তিন জনে এক জন এই হয়রানির শিকার হন। যাহাদের মধ্যে আবার প্রতি পাঁচ জনের এক জন সাইবার হয়রানির কারণে স্কুল বাদ দেওয়ার কথা জানাইয়াছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের তিন-চতুর্থাংশ বলিয়াছেন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলি অনলাইন উত্পীড়নের সবচাইতে পরিচিত স্থান।

অনলাইন হয়রানির নানা ধরন রহিয়াছে। যেমন, ফেসবুক বা ই-মেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা, ফেক আইডি খুলিয়া আপত্তিকর ছবি/ভিডিও শেয়ার করা, উগ্র ধর্মীয়-সন্ত্রাসবাদী কনটেন্ট শেয়ার করা, অন্যকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তাহার বিকৃত তথ্য ও ছবি ব্যবহার, হুমকি দিয়া টাকা আদায়, অনলাইনে প্রশ্নফাঁস ইত্যাদি। এই সমস্ত ব্যাপারে সর্বপ্রথম ব্যবহারকারীকে সতর্ক হইতে হইবে। শিশু-কিশোরদের এই ক্ষেত্রে সতর্ক করিবার দায়িত্ব পিতা-মাতার। ইউনিসেফ বাংলাদেশের আরেকটি সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ২৫ শতাংশ শিশু ১১ বছর বয়সের পূর্বেই ডিজিটাল জগতে প্রবেশ করিতে শুরু করে। ইহা ছাড়া, শিশুদের একটি বড়ো অংশ (৬৩ শতাংশ) প্রাথমিকভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের স্থান হিসাবে তাহাদের নিজেদের কক্ষটিকেই ব্যবহার করে। এটা ‘বেডরুম কালচার’-এর ব্যাপকতা নির্দেশ করে, যা অপেক্ষাকৃত কম নজরদারির মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে।

আমাদের জানা প্রয়োজন, অনলাইন হয়রানির শিকার হইলে কী কী করা প্রয়োজন। সরকারি কী ব্যবস্থা রহিয়াছে এই ব্যাপারে। প্রথমেই নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করিতে হইবে। ই-মেইলে অভিযোগ জানানো যাইবে। অথবা সরাসরি কথা বলার প্রয়োজনবোধ করিলে চলিয়া আসিতে হইবে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ডিভিশনের সাইবার ক্রাইম ইউনিট অফিসে। কথা বলিতে পারেন দায়িত্বরত কর্মকর্তার সঙ্গে। পাশপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকালে আমাদের নিজেদের কয়েকটি ব্যাপারে সতর্ক থাকিতে হইবে। যেমন, অচেনা, অপরিচিত কাহারো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করা যাইবে না; ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা যাইবে না; ফেসবুক প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিংস চেক করিতে হইবে। অন্য কারো পোস্টে নিজেকে ট্যাগ করিবার অপশন উন্মুক্ত রাখা যাইবে না। প্ররোচিত হইয়া উসকানিমূলক ছবি/ভিডিও শেয়ার করা হইতে বিরত থাকিতে হইবে।

সর্বোপরি সরকার ও দায়িত্বশীল সকলকে অনলাইনে শিশু ও তরুণ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হয়রানির ঘটনা মোকাবিলা ও প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়া আগাইয়া আসিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন