ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৭
১৭ °সে

শেয়ারবাজার বিনিয়োগবান্ধব করুন

শেয়ারবাজার বিনিয়োগবান্ধব করুন

শেয়ারবাজার অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ হইলেও এই বাজারটি লইয়া আক্ষেপ বুঝি আর শেষ হইল না। ক্রেতার যেমন পুঁজি হারাইবার আক্ষেপ, তেমনি বাজারেরও ক্রেতা আকর্ষণে ব্যর্থ হইবার আক্ষেপ। নীতিনির্ধারকদের মুখে আশাব্যঞ্জক নানা কথা, কিছু পদক্ষেপের কথাও শোনা গিয়াছিল। বলা হইয়াছিল, বাজারটি ভালো হইবে। আদতে, দেখা গেল ‘নীরবতা’ই শুধু বাড়িতেছে। বিনিয়োগকারীরা আর ঝুঁকি নেওয়ার সাহস পাইতেছেন না। শুধু কি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী? বিদেশি বিনিয়োগকারীও যেন তীব্র বেগে ছুটিতেছেন পেছনের দিকে। যাহা কিছু আছে, বিক্রি করিয়া শেয়ারবাজার হইতে যেন পালাইতে পারিলেই বাঁচে!

এই বাজার লইয়া আমরা আগেই লিখিয়াছিলাম। আস্থাহীনতা বাজারকে এমন এক জায়গায় নিয়া গিয়াছে, তাহা আর ফেরত আনিবার পর্যায়ে নাই। উপরন্তু, বিনিয়োগকারীরাই বা আর কতদিন বোকা থাকিবেন? তাহারা কয়েক দফা কারসাজির প্রত্যক্ষদর্শী, এমনকি ক্ষতিগ্রস্তও। ইহার পরও তাহারা কীভাবে বাজারের প্রতি আকৃষ্ট হইবেন? তদুপরি, যদি বাজার পড়তেই থাকে তবে নতুন বিনিয়োগকারীদেরও আসিবার পথ রুদ্ধ হইয়া যাইবে। পরিসংখ্যানমতে গত সপ্তাহ জুড়িয়া দেখা গিয়াছে, বাজারের সূচকের পতন ঘটিয়াছে। গত বুধবার সূচক নামিয়াছে ফের ৫ হাজারের নিচে। এই অবস্থায় শিল্পে পুঁজি আহরণের বিকল্প উত্স নিয়া শঙ্কিত না হইবার কোনো কারণ থাকে না। গত ২৫ আগস্ট ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। আর গত ৪ সেপ্টেম্বর বাজার মূলধন নামিয়াছে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকায়। বাজারের এই অব্যাহত পতন দেখিয়া বিনিয়োগকারীর অনেকেই আর শেয়ারবাজারে থাকিতে চাহেন না। লোকসান মানিয়া অনেকেই ইতিমধ্যে বাজারকে গুডবাই বলিয়াছেন। ইহাদের সংখ্যা ২ লক্ষের কম হইবে না। দিন দিন তাহা আরও বাড়িবে। বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যেই অভিজ্ঞ হইয়াছেন যে, ক্রমবাজার পড়তির ঘটনাটি নতুন ‘আপদেরও’ উপলক্ষ্য। বাজারের পতনের সুযোগে একসময় নতুন ‘কারসাজি’র মাধ্যমে দুর্বল কোম্পানির শেয়ায়ের দাম বাড়িয়া যায়। যাহা প্রকারান্তরে বাজারকে প্রভাবিত করিয়া স্বার্থান্বেষীমহলের স্বার্থই অক্ষুণ্ন রাখে। আর এইসব স্বার্থান্বেষী, কিংবা কারসাজিতে জড়িতদের শাস্তি না হওয়ায় বাজারে আস্থা ফিরিতেছে না। যেইখানে আস্থা নাই, সেইখানে বিনিয়োগ ও বিনিয়োগকারীদের সহাবস্থান হইবে কীভাবে?

বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট বিবেচনা করিলে দেখা যায়, অর্থনীতি ভয়াবহ ক্রান্তিকালের দিকে অগ্রসর হইতেছে। চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব সর্বত্রই পড়িতেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি বিশ্ব অর্থনীতি লইয়াও নেতিবাচক পূর্বাভাস দিয়াছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্ব পরিস্থিতির ঘাত-প্রতিঘাত কতটা মোকাবিলা করিতে পারিবে, ইহাও বড়ো প্রশ্ন। শেয়ারবাজারে ব্যাংকিং খাতের বড়ো ভূমিকা রহিয়াছে। ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার কথা বলাই বাহুল্য। ফলে, বাজার লইয়া ইতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণী বিনিয়োগকারীদের সামনে নাই। সারাক্ষণই পুঁজি হারাইবার বেদনা আর ভবিষ্যত্ আশঙ্কা তাহাদের মনোলোকে এমনভাবে কুঠারাঘাত করিতেছে, বাজারের সংস্পর্শ ত্যাগ না করিয়া তাহাদের সামনে উপায় থাকিতেছে না, যাহা ভবিষ্যত্ অর্থনীতির জন্য মোটেই সুখকর নহে। আমাদের প্রত্যাশা, স্পর্শকাতর এই বাজারে আস্থা ফিরাইবার জন্য করণীয়গুলো নির্ধারণ করা হউক, যাহাতে বিনিয়োগকারীরা বাজারের প্রতি আকৃষ্ট হইবেন। লাভ-লোকসানের ঝুঁকি লইয়া বিনিয়োগ করিবেন। শুধু আশ্বস্ত করিতে হইবে যে, কারসাজির মাধ্যমে যেন তাহাদের পুঁজি আর লোপাট না হয়!

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন