ঢাকা রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
৩০ °সে


আমেরিকা-তালেবান গোপন আলোচনা স্থগিত

আমেরিকা-তালেবান গোপন আলোচনা স্থগিত

তালেবান নেতৃত্ব ও আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সহিত রবিবার অনুষ্ঠিতব্য গোপন বৈঠকগুলি শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ বাতিল করিয়া দিয়াছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার কাবুলে এক বিস্ফোরণের ঘটনায় একজন আমেরিকান সেনাসহ ১২ ব্যক্তির নিহত হইবার প্রতিক্রিয়ায় বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হইয়াছে বলিয়া জানাইয়াছেন ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আমেরিকান সেনার প্রাণহানির বিষয়টি সবিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। তালেবান এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করিয়াছে। মাসের পর মাস ধরিয়া দুই পক্ষের মধ্যে গোপন আলাপ-আলোচনার পরে শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকের মধ্য দিয়া আফগানিস্তানে কিছুটা হইলেও শান্তি ফিরিয়া আসিবে বলিয়া অনেকেই আশাবাদী হইয়া উঠিয়াছিলেন। এক্ষণে অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করিতেছেন যে বৈঠক বাতিলের মধ্য দিয়া আফগান পরিস্থিতি পুনরায় অনিশ্চয়তার দিকেই চলিয়া যাইবে।

ট্রাম্প ক্ষমতায় আসিবার পর হইতেই আফগানিস্তান হইতে সেনা প্রত্যাহারের কথা বলিয়া আসিতেছেন। এইদিকে তালেবানের দাবিও ঠিক একই। এই সেনা প্রত্যাহার কেমন করিয়া হইবে এবং এই প্রত্যাহারের বিনিময়ে তালেবান কী করিবে এইসব লইয়াই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরিয়া গোপন দর-কষাকষি চলিতেছে। আমেরিকার চাহিদা হইতেছে সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে আল-কায়েদা ও আইএসের মতন সংগঠনগুলিকে আফগান ভূমি ব্যবহার করিতে না দেওয়ার ব্যাপারে তালেবানের অঙ্গীকার। অন্যদিকে, তালেবান মনে করিতেছে যে আফগানিস্তান হইতে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারকেই তাহারা নিজেদের বিজয় হিসাবে প্রতিষ্ঠা করিতে সক্ষম হইবে। প্রশ্ন হইতেছে, আফগানিস্তানের বৈধ সরকারকে পাশ কাটাইয়া আমেরিকা কেন তালেবানের সহিত রফা করিতেছে? উত্তরটি পীড়াদায়ক হইলেও সত্য যে কাবুলে একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত থাকিলেও তালেবানরা দেশের বিশাল একটি অংশ বর্তমানে নিজেদের দখলে রাখিয়াছে। তালেবানেরা আফগানিস্তানের সরকারকে স্বীকৃতিও দেয় না। এইদিকে আফগান সরকার আবার তালেবানের সহিত অব্যাহত আলাপ-আলোচনায় আমেরিকার উপরে যারপরনাই নাখোশ। বৈধ সরকারকে অন্তর্ভুক্ত না করিলে যে কোনো সংলাপ ব্যর্থ হইবে বলিয়াই তাহারা দাবি করিতেছে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নানারকমের আশঙ্কা কাজ করিতেছে। ইহাদের অনেকেই মনে করিতেছেন যে ট্রাম্প যেইভাবে বৈঠক বাতিল করিলেন তাহার মধ্যে কোনো কূটনৈতিক প্রজ্ঞা নহে বরং একটি চলমান প্রক্রিয়ার উপরে একজন ব্যক্তির মতামতই প্রধান হইয়া উঠিয়াছে। মাসের পর মাস ধরিয়া গোপনে আলাপ-আলোচনার পর আচমকা বৈঠক বাতিলের মধ্য দিয়া কী সুফল অর্জিত হইতে পারে, তাহাও জানিতে চাহিতেছেন অনেকে। বিবিসির সহিত আলাপকালে কাবুলের এক মুদি দোকানদার একটি প্রশ্ন তুলিয়াছেন। একজন আমেরিকান সেনার মৃত্যুতে বৈঠক বন্ধ হইয়া যাওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করিয়া তিনি বলেন, ‘এই যে এতগুলি বত্সর ধরিয়া আফগানরা নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়া চলিয়াছে, তাহাদের রক্তের কি কোনো মূল্য নাই?’ প্রশ্নটি ভাবিবার মতন বটে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন