ঢাকা শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


শিশুদের স্থূলতায় সচেতনতা

শিশুদের স্থূলতায় সচেতনতা

বাংলাদেশের মহানগরগুলিতে শিশুদের স্থূলতা সমস্যা ক্রমশ বাড়িতেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়াছে, ঢাকার মতোই এখন জেলা শহরেও স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে স্থূলতা বাড়িতেছে। উক্ত গবেষণায় দেখা গিয়াছে, একটি জেলা শহরের ১৪ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত স্থূলকায়, মেয়েদের তুলনায় ছেলে শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার প্রায় দ্বিগুণ; কিন্তু শিশুর অতিরিক্ত ওজন নিয়া সচেতন নহেন শহুরে মায়েদের অধিকাংশই। প্রায় ৭০ শতাংশ মা জানেন না শৈশবের অতিরিক্ত স্থূলতা শিশুর কী ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা তৈরি করিতে পারে। মায়েদের এইরূপ অসচেতনতা দেশে ক্রমবর্ধমান হারে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বড়ো বাধা বলিয়া মনে করিতেছেন বিশেষজ্ঞগণ। শিশুদের পুষ্টিহীনতায় ভুগিতে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলিতে গত দুই দশক ধরিয়া স্থূলতার সমস্যা বাড়িতে শুরু করিয়াছে। জাতিসংঘের হিসাবে, ১৯৭৬-২০১৬ পর্যন্ত ৪০ বত্সরের ব্যবধানে শিশু-কিশোরদের স্থূলতার হার ১০ গুণ বাড়িয়াছে।

বয়সের তুলনায় ওজন বেশি হইলে তাহাকে চিকিত্সাবিজ্ঞানের ভাষায় অবিসিটি বা স্থূলতা বলা হয়। ইহার অনেকগুলি কারণ রহিয়াছে। ইহার জন্য প্রধানত বংশানুক্রমিক ধারা, হরমোনজনিত ও পরিবেশগত কারণই দায়ী। পরিবেশগত কারণের মধ্যে আছে শিশুর জীবনাচরণ তথা দৈনন্দিন কাজ, খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক শ্রম। জেলা শহরগুলিতেও ছোটো ছোটো অ্যাপার্টমেন্টে কিন্ডারগার্টেন স্কুল তৈরি হইতেছে। এই সকল স্কুলে শিশুদের খেলিবার জায়গা নাই। ঘরে ঘরে স্মার্ট টেলিভিশন দেখা, মোবাইল ফোনে বসিয়া দীর্ঘক্ষণ গেম খেলিবার বাতিক তো আছেই। মায়েরাও পড়ালেখার দিকে মাত্রাতিরিক্ত জোর দিতে গিয়া শিশুদের শারীরিক স্থূলতার দিকে মনোযোগ দেন না। পুষ্টি সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না থাকায় কেহ অতিরিক্ত শর্করা গ্রহণ করিতেছে, অথবা প্রক্রিয়াজাত খাবার, কোমল পানীয়, তেলে ভাজা ও চর্বিযুক্ত খাবার খাইতেছে। প্রায় ৬৫ শতাংশ মা শিশুদের স্থূলতাকে কোনো সমস্যাই মনে করেন না। গবেষণায় দেখা গিয়াছে, অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক তত্পরতার অভাব, মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার এবং টিভির সামনে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, উন্মুক্ত খেলার জায়গার অভাব ইত্যাদির সহিত স্থূলতার কোনো সম্পর্ক আছে কি না তাহাও অধিকাংশ মা জানেন না। জাঙ্ক ফুড, ফাস্টফুড ও কোমল পানীয় খাইলে শিশুরা মোটা হয়। অথচ জরিপ অনুযায়ী—এই ব্যাপারেও কোনো ধারণা নাই ৭০ শতাংশ মায়ের। অধিকাংশ মা জানেন না—শিশুর স্থূলতার কারণে মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হইতে পারে। বরং ৩৪ শতাংশের বেশি মা মোটা হওয়াকে সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ বলিয়া মনে করেন! আরও দেখা গিয়াছে, শিশুর কম ওজন ও পুষ্টিহীনতা মায়েরা ঠিকঠাক শনাক্ত করিতে পারিলেও অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা শনাক্ত করিতে পারেন না।

উন্নত দেশগুলির মতো প্রকট না হইলেও বর্তমানে আমাদের শহরাঞ্চলে শিশুদের স্থূলতা নূতন বিড়ম্বনা তৈরি করিতেছে। স্থূলতার কারণে শিশু-কিশোররা শারীরিক ও মানসিক নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হইতেছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। এখন অপুষ্টির পাশাপাশি শিশুদের স্থূলতা সমস্যার প্রতিও আমাদের গুরুত্বারোপ করিতে হইবে। শিক্ষার মূল লক্ষ্য শারীরিক ও মানসিক বিকাশ। প্রত্যাশিত বিকাশের জন্য শিশুরা যাহাতে দুই ঘণ্টার বেশি টেলিভিশন না দেখিতে পারে, দৈনিক এক ঘণ্টা ঘাম ঝরাইয়া খেলিতে পারে, নিজের কাজ নিজে করে, কৃত্রিম দুধ বা খাবার গ্রহণ না করে, যথাসম্ভব ফাস্ট ফুড ও কোমল পানীয় বর্জন করে—ইত্যাদি ব্যাপারে অভিভাবকদেরই আগে সতর্ক থাকিতে হইবে। বলা আবশ্যক, মায়েদের মধ্যে স্থূলতার বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা গড়িয়া তুলিতে এই জরিপ কাজে লাগিবে। একই সঙ্গে বলা প্রয়োজন, স্কুলের শিক্ষকেরাও শিশুদের স্থূলতা কমাইতে বড়ো ভূমিকা রাখিতে পারেন। শিক্ষা অধিদপ্তরের স্কুল হেল্থ কর্মসূচি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। স্কুলে মিড ডে মিল চালু করিলে শিশুদেরকে শাকসবজিসহ পুষ্টিকর খাবারে অভ্যস্ত করিয়া তোলাও সম্ভব।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন