ঢাকা বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬
২৭ °সে


নাব্যসংকটের সুরাহা প্রয়োজন

নাব্যসংকটের সুরাহা প্রয়োজন

দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখিতে যোগাযোগব্যবস্থাকে গতিশীল রাখার কোনো বিকল্প নাই। লক্ষ করিলেই দেখা যাইবে যে, যেই দেশের যোগাযোগব্যবস্থা যত ভালো, সেই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও তত গতিশীল। পরিবহনের জন্য বিভিন্ন দেশে আকাশ, সড়ক ও নৌপথ ব্যবহূত হইয়া থাকে। তবে যাহাদের নৌপথে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের সুবিধা রহিয়াছে, তাহাদেরকে ভাগ্যবানই বলা যায়। কারণ নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যয় অপেক্ষাকৃত বেশ কম। সেই অর্থে আমরা, অর্থাত্ বাংলাদেশ ভাগ্যবানদের দলে। আমরা জানি, বাংলাদেশ নদীমাতৃক হওয়ায় বাণিজ্যিক পরিবহনের জন্য নৌপথ প্রধানতম এবং বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই নৌপথগুলি সর্বদা নির্বিঘ্ন নহে। দেশের বহু নৌপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিকূলতা লক্ষ করা যায়। তাহারই একটি চট্টগ্রাম-ঢাকা নৌরুট। নিঃসন্দেহে এটি দেশের সবচাইতে বড়ো এবং ব্যস্ত নৌপথ। এই পথে প্রতিদিন কম করিয়া হইলেও ২০০ হইতে ২৫০টি লাইটারেজ জাহাজ চলাচল করিয়া থাকে। এইগুলি মাদার ভেসেল হইতে পণ্য লইয়া ঢাকা তথা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছাইয়া দেয়। অথচ এই নৌপথে রহিয়াছে একাধিক প্রতিবন্ধকতা। দৈনিক ইত্তেফাকের এক প্রতিবেদন হইতে জানা গিয়াছে, নাব্যসংকটে চট্টগ্রাম-ঢাকা নৌপথ ঝুঁকিপূর্ণ হইয়া উঠিয়াছে। পণ্যবাহী জাহাজ প্রায়ই চলাচলের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার শিকার হইতেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ছয়-সাতটি জাহাজ দুর্ঘটনার সম্মুখীন হইয়াছে। সাগরের দিকে রুট সরিয়া যাওয়ায় এবং ডুবোচরের কারণে অধিকাংশ জাহাজ ধারণ ক্ষমতার চাইতে কম পণ্য লইয়া যাতায়াত করিতেছে। ইহার ফলে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাইতেছে। জানা গিয়াছে, পুরাতন রুট সরাইয়া নূতন যে রুট তৈরি করা হইয়াছে সেইখানেও কোনো কোনো স্থানে ভাটার সময় এমনকি পানির গভীরতা তিন মিটারে নামিয়া আসিতেছে। সবচাইতে বড়ো কথা এই রুটের কোনো কোনো বিপজ্জনক স্থানে বয়া-বাতি নাই। যাহার ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরো বাড়িয়া গিয়াছে।

নাব্যসংকট একটি প্রাকৃতিক বিষয়। হইতেই পারে। তবে অস্বাভাবিক নাব্যসংকট হওয়া নিশ্চয়ই উদ্বেগজনক। কিন্তু আমরা যদি নিয়মকানুন মানিয়া চলি, তাহা হইলে এই দুর্ঘটনা এবং চলাচলেরর ঝুঁকি অনেকটাই কমাইয়া আনা যায়। প্রথমত নির্দেশিত রুট অনুসরণ করা অপরিহার্য। অভিযোগ আছে, বহু জাহাজ পথ সংক্ষেপ করিবার জন্য সঠিকভাবে দিক নির্দেশনা মানে না। দ্বিতীয়ত, দক্ষ পাইলট দ্বারা লাইটারেজ পরিচালনা করা প্রয়োজন। জানা গিয়াছে, প্রায় আড়াই শত লাইটারেজের মধ্যে মাত্র ৩২ জন অভিজ্ঞ পাইলট রহিয়াছে। সুতরাং যত শীঘ্রই সম্ভব দক্ষ পাইলটের ব্যবস্থা করিতে হইবে। নাব্যসংকটের কথা উঠিলেই আমরা কেবল ড্রেজিংয়ের কথা চিন্তা করিয়া থাকি। কিন্তু নৌপথে চলাচল নির্বিঘ্ন করিতে ড্রেজিং কয়েকটি শর্তের একটি শর্ত মাত্র। কেবল ড্রেজিং করিয়া গোটা পথ সুগম করা সম্ভব নহে। উহা ব্যয়বহুলও বটে। সুতরাং নাব্যসংকট এড়াইয়া চলিতে বাকি শর্তগুলিও পালন করা আবশ্যক।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন