ঢাকা রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬
২৭ °সে


গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন

গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বন্দর আমিন আবাসিক এলাকায় উত্পাদিত গৃহস্থালি বর্জ্যের অধিকাংশই ফেলা হইতেছে শীতলক্ষ্যা নদীতে। এই কারণে নদীর পাড়ে গড়িয়া উঠিয়াছে বর্জ্যের স্তূপ। বন্দর সেন্ট্রাল ফেরিঘাটসংলগ্ন শেফা ডকইয়ার্ড হইতে শুরু করিয়া স্কুলঘাট পর্যন্ত নদীপাড়ের প্রায় ১০০ গজ এলাকা পরিণত হইয়াছে ময়লার ভাগাড়ে। সেই বর্জ্যের কিয়দংশ নদীর পানিতে মিশিয়া যাইতেছে। ইহাতে নদী যেমন দূষিত হইতেছে, তেমনি পচা বর্জ্যের কারণে নদীপাড়সংলগ্ন সড়ক দিয়া চলাচল করা কঠিন হইয়া পড়িতেছে। অগত্যা পথচারীদের নাক চাপিয়া চলাচল করিতে হইতেছে। ইহাতে এলাকার পরিবেশ দূষিত হইতেছে মারাত্মকভাবে। স্থানীয় অধিবাসীরা বলিতেছেন, বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত ময়লা নিতে আসেন না। সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে ৬০ টাকা সার্ভিস চার্জ নেওয়ার কথা থাকিলেও তাহারা নেন ১০০ হইতে ১৫০ টাকা। এই অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অনিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহের কারণে এলাকাবাসীর অনেকে যত্রতত্র ময়লা ফেলিতেছেন। আর বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান বলিতেছে, এই অল্প টাকায় বর্জ্য সংগ্রহ করা সম্ভব নহে।

এইদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন বলিতেছে, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করিতে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত কমিটি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি উপকমিটি কাজ করে। কিন্তু দিনের পর দিন একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পাড়ে ময়লা ফেলা হইলেও তাহারা কেন এই ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না? এই প্রশ্নের উত্তরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেহ কেহ এইজন্য স্থানীয় অধিবাসীদের মন-মানসিকতা ও অসচেতনতাকেই দায়ী করেন। তাহারা বলেন, সামান্য কয়েকটা টাকা বাঁচাইতে গিয়া তাহারা যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলিতেছেন। শীতলক্ষ্যায় এইভাবে ময়লা ফেলিবার বিষয়টিতে আমাদের বিস্মিত হইবার কিছু নাই। বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানী ঢাকা শহরের চারিপাশের নদ-নদীতেও ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় একইভাবে। বুড়িগঙ্গাকে আবর্জনামুক্ত করিতে গিয়া কয়েকবার অভিযানও পরিচালিত হইয়াছে। কিন্তু কিছুদিন না যাইতেই আবার পূর্বাবস্থা তৈরি হয়। শুধু ঢাকা নহে, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহর এলাকায় স্থানীয় অধিবাসী কর্তৃক নদীদূষণের বহু উদাহরণ রহিয়াছে। চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হইল স্থানীয় অধিবাসীদের দ্বারা নদী-খাল-নালার ভরাট ও দূষণ সাধন। নদীর পাড় দখলের উদ্দেশ্যেও অনেক সময় পরিকল্পিত উপায়ে নদীর পাড়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়।

সাম্প্রতিককালে সারাবিশ্বেই পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বিশ্ব উষ্ণতা হ্রাস ইত্যাদি ইস্যুতে বিশ্ববাসীর সচেতনতা বাড়িয়াছে বহুগুণ। কেননা আমাদের জীবনযাত্রায় তৈরি হওয়া নানা প্রতিকূলতা, অসুখ-বিসুখ ইত্যাদির জন্য দায়ী মূলত পরিবেশ দূষণ। পানি, বায়ুসহ বিভিন্ন দূষণ রোধ করিতে পারিলে জাতীয় ব্যয়ের বহু অর্থ সাশ্রয় সম্ভব। কিন্তু পরিবেশ মন্ত্রণালয় গঠন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বিশেষ তহবিল সৃষ্টি ইত্যাদিসহ সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করিলেও এখনো আমাদের জনগণের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত সচেতনতা তৈরি হয় নাই। গৃহস্থালি বর্জ্য অপসরণে আমরা সামান্য টাকা বিনিয়োগ করিতেও কাপর্ণ্য করি। বিশ্বের অনেক ধনী ব্যক্তির মূল ব্যবসা হইল বিভিন্ন শহরের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ। তাহার কারণ তাহাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যেমন উন্নত, তেমনি সেখানকার নাগরিকগণ এইজন্য প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যয় করিতে ইচ্ছুক। অতএব, এই ব্যাপারে আগে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা জরুরি। এইরূপ ক্ষেত্রে সরকার জরিমানার বিধান করিতে পারে কি না তাহাও ভাবিয়া দেখা প্রয়োজন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন