ঢাকা রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬
২৭ °সে


ইসরাইলে নির্বাচন

ইসরাইলে নির্বাচন

শনিবার চলতি বত্সরের মধ্যে দ্বিতীয়বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইয়াছে ইসরাইলে। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টি অপেক্ষা মাত্র একটি আসন বেশি পাইয়া অগ্রগামী হইয়াছে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টি। এই দুই দল যথাক্রমে ৩১টি ও ৩২টি আসন পাইয়াছে। ১২০ আসনবিশিষ্ট আইনসভা নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৬১টি আসন প্রয়োজন হয়। এমতাবস্থায় গতবারের মতো এইবারও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বেশ প্রকট হইয়া উঠিয়াছে। তবে উল্লেখ করিবার মতো বিষয় এই যে, গত কয়েক বারের মতো কেবল ইহুদি কট্টরপন্থি দলগুলিই নহে বরং ভেদাভেদ ভুলিয়া একজোট হইয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ইসরাইলের আরব জাতিসত্তার মানুষের জোট জয়েন্ট লিস্ট এইবার কোয়ালিশন গঠনের দরকষাকষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করিবে। জয়েন্ট লিস্ট এই নির্বাচনে ১৩টি আসন পাইয়া তৃতীয় স্থান অধিকার করিয়াছে। জয়েন্ট লিস্টভুক্ত দলগুলি হইতেছে বালাদ, হাদাস, তাআল এবং ইউনাইটেড আরব লিস্ট।

নির্বাচনে নেতানিয়াহু বরাবরের মতোই উগ্র জাতীয়তাবাদী লাইন ধরিয়াছিলেন। তিনি ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইহুদি বসত বাড়াইবার অঙ্গীকার করিয়াছেন এবং দেশের ভিতরকার আরব জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় বিষোদগার করিয়া উগ্র জায়নবাদের ভিত্তিতে ভোট জয়ে সচেষ্ট হইয়াছেন। নেতানিয়াহুর দাবিমতে—ইসরাইলি আরবরা হইতেছে বিশ্বাসঘাতক ‘পঞ্চম বাহিনী’। তাহার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্লু অ্যান্ড হোয়াইটের বেনি গান্জ নির্বাচনী প্রচারাভিযানে নেতানিয়াহুর বিভেদের রাজনীতির বিপক্ষে কথা বলিয়াছেন এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলাগুলির দিকে জনগণের দৃষ্টি জোরালো করিবার চেষ্টা করিয়াছেন। অবশ্য নেতানিয়াহুর মতো গান্জও ডানপন্থিদের মন পাইবার জন্য পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসত বাড়াইবার কথা বলিয়াছেন। ইসরাইলি আরবদের বিরুদ্ধে কড়া কথাবার্তা বলিয়া গত নির্বাচনে বেশ ভালো ফল করিয়াছিলেন নেতানিয়াহু; কিন্তু এইবার ইহাতে ফল হইয়াছে বিপরীত। সকল পর্যবেক্ষক এক্ষণে একমত যে, নেতানিয়াহুর ক্রমাগত হুমকিমূলক কথাবার্তা অনৈক্য-আকীর্ণ আরব রাজনৈতিক দলগুলিকে এইবার একজোট হইয়া ভোটযুদ্ধে নামিবার প্রেরণা যোগাইয়াছে। আরব দলগুলির একজোট হইতে পারার এই সক্ষমতার কারণে ইসরাইলি আরবদের মধ্যে ভোটদানের প্রবণতাও এইবার বাড়িয়াছে। গত নির্বাচনের ৪৯ শতাংশের বিপরীতে এইবার ৬১ শতাংশ আরব ভোটার ভোটদান করিয়াছে। উল্লেখ্য, ইসরাইলের জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ মানুষ হইতেছে আরব। এত বৃহদাকার গোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও জায়নবাদী নীতির কারণে আরবরা রাষ্ট্রীয়ভাবেই বৈষম্য ও উত্পীড়নের শিকার।

ভোটের পরপরই ব্লু অ্যান্ড হোয়াইটের সহিত জয়েন্ট লিস্টের সরকার গঠনবিষয়ক প্রাথমিক কথাবার্তা শুরু হইয়াছে। তবে এই দুই দল মিলিয়াও নেসেটে প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা পূরণ করিতে পারিবে না বিধায় এইবারও ক্ষুদ্রকায় কট্টর ইহুদিবাদী দলগুলি সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করিবে। আগামী কয়েক দিনের দরকষাকষিতে শেষাবধি কে সরকার গঠন করিবে তাহা এক্ষণে মোটেই স্পষ্ট নহে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন