ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬
২৯ °সে


বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও বাংলাদেশ

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও বাংলাদেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচাইতে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলির অন্যতম বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও নদীবিধৌত বদ্বীপ বাংলাদেশ আরও নানা প্রাকৃতিক সংকটের সম্মুখীন। এখন উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের হিমবাহ গলিতে থাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে প্রাণঘাতী দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়া গিয়াছে। বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে বাংলাদেশের ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলভাগ থাকায় দিন দিন সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি পাইতেছে। ইহাতে আমাদের বেশ কিছু স্থলভাগ সমুদ্রগর্ভে তলাইয়া যাইবার আশঙ্কা সর্বাধিক। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রহিয়াছে বলিয়া উল্লেখ করিয়াছে। উপকূলীয় অঞ্চলের ভাঙনের ফলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের ১৭ শতাংশ ভূমি বিলীন হইতে পারে। ফলে খাদ্য উত্পাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়া যাইতে পারে। বাংলাদেশের উপর আইএমএফের করা এই বছরের কান্ট্রি রিপোর্টে এইসব তথ্য উল্লেখ করা হইয়াছে। ইউএনএফসিসিসির (UNFCCC) দেওয়া তথ্যমতে, বিংশ শতাব্দীতে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা ১০-২০ সেন্টিমিটার বাড়িয়াছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ততার বিচারে বিশ্বব্যাপী গবেষকগণ বাংলাদেশকে ‘পোস্টার চাইল্ড’ হিসাবে আখ্যা দিয়া থাকেন।

এইদিকে ‘দ্য সায়েন্টিফিক কমিটি অন অ্যান্টার্কটিক রিসার্চ’ (SCAIR) জানাইয়াছে, যে হারে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলিতেছে, তাহাতে ২১০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়িবে পাঁচ ফুট। বিগত দিনের পরিসংখ্যানের প্রায় দ্বিগুণ এই হিসাবের প্রেক্ষিতে ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ডিএফডিআই (DFDI) এই পরিমাণ উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সমুদ্রে তলিয়ে যাইবার আশঙ্কা প্রকাশ করিয়াছে। বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০ম। অবশ্য বিশ্বের কোনো কোনো মহল জলবায়ু পরিবর্তন ও ইহার অভিঘাত সংক্রান্ত বিষয়াদিকে সহজে মানিয়া লইতে অপারগ। তাহারা মনে করেন, প্রকৃতির ভাঙাগড়া আদিকাল হইতেই চলিয়া আসিতেছে, ইহা নূতন কোনো ঘটনা নহে। নূতন ঘটনা না হইলেও সচেতনতার মাধ্যমে আমরা আমাদের বিপর্যয় কিছুটা হইলেও কমাইয়া আনিতে পারি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশের বিপর্যয়ের এই ঘটনাকে বাংলাদেশ সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নব্বইয়ের দশকে প্রণীত ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান (NEMAP)-এ দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশে একাধারে সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা সমস্যা, হিমালয়ের বরফ গলার কারণে নদীর দিক পরিবর্তন, বন্যা ইত্যাদি সব দিক দিয়াই ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে কেহ কেহ কার্বন কর আরোপের সুপারিশ করিয়াছেন। তবে বর্তমান সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাতে বার্ষিক বরাদ্দের ৬ থেকে ৭ শতাংশ ব্যয় করিতেছে। বত্সরে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ। এই বিপুল বিনিয়োগের সঙ্গে আরও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, আর্থিক পরিকল্পনা, তদারকি, রিপোর্টিং ও কার্যকর নীতি গ্রহণ করিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন