ঢাকা শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ৫ মাঘ ১৪২৭
১৮ °সে

উহারাও সভ্যতার বাহিরে নহে

উহারাও সভ্যতার বাহিরে নহে

দেশের সংবিধান, ফৌজদারি দণ্ডবিধির ভাষ্য, এমনকি সরকারের কোনো পরিপত্রে উল্লেখ নাই—কোনো প্রাণী মানুষের দ্বারা অন্যায়-অবিচারের শিকার হইলে বিচার চাহিতে পারিবে কি না। উহারা জিডি কী জিনিস জানে না, মামলা কীভাবে করিতে হয়—তাহাও উহাদের জানা নাই। কিন্তু কোনো প্রাণী শারীরিকভাবে উপস্থিত হইয়া, ইশারায় হউক, ইঙ্গিতে হউক, মানুষের বিরুদ্ধে যদি বিচার চাহিয়াই বসে—তাহা হইলে করণীয় কী? নিশ্চয়ই তখন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বণ্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের দিকে তাকাইতে হইবে। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে! এমনি একটি ফরিয়াদ লইয়া একদল হনুমান উপস্থিত হইয়াছে যশোর জেলাধীন কেশবপুর থানায়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানাইয়াছেন, প্রথমে একটি মা-হনুমান কোলে বাচ্চা লইয়া থানায় আসে। ইহার পর ২০-২৫টি হনুমান দলবদ্ধভাবে থানার প্রধান ফটকের সামনে এবং ডিউটি অফিসারের কক্ষে উপস্থিত হয়। তিনি জানাইয়াছেন, কোলের বাচ্চাটিকে মারধর করিয়া আহত করা হইয়াছে বলিয়া মনে হইতেছে। ইহার পূর্বেও হনুমানগুলি দল বাধিয়া নালিশ জানাইতে আসিয়াছে বলিয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানাইয়াছেন। উল্লেখ্য, দেশের বন সংরক্ষণ আইনে দেশে বিদ্যমান তিন প্রজাতির হনুমানকে সংরক্ষিত বলিয়া ঘোষণা করা হইয়াছে।

হনুমান দল হয়তো বুঝিতে পারিয়াছে যে দেশে অন্তত বিচার প্রার্থনার মতো পরিবেশ তৈরি হইয়াছে। পূর্বকালে অনেক ক্ষেত্রেই মানুষেরই তো বিচার চাহিবার সুযোগ হয় নাই! কিন্তু তাহার পরও আমরা মনে করি, দেশকে আমাদের এমন জায়গায় লইয়া যাইতে হইবে, যখন হনুমানেরও বিচার চাহিবার প্রয়োজন পড়িবে না। আমরা জানি, দেশে এখনো পশুর প্রতি অবহেলা রহিয়াছে মাত্রাতিরিক্ত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হইতে প্রায়শই খবর পাওয়া যায়, বিলুপ্তপ্রায় কোনো প্রাণীকে এলাকাবাসী পিটাইয়া হত্যা করিয়াছে অথবা গুরুতর আহত করিয়াছে, যাহা খুবই দুঃখজনক। মহাত্মা গান্ধী বলিয়াছিলেন, একটি জাতি কতটা সভ্য তাহা বুঝা যায় সেই জাতির পশুর প্রতি আচরণ দেখিয়া। আমাদের অসদাচরণের ফলে দেশ হইতে বহু প্রজাতির প্রাণী এখন বিলুপ্তির পথে। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখিবার জন্যও জরুরি। অর্থাত্ এই প্রাণিকুলের টিকিয়া থাকিবার সঙ্গে মানুষের স্বার্থ নিহিত রহিয়াছে। ইহা ভাবিতে হইবে। সংবাদ হইতে আরো জানা গিয়াছে, ঐ অঞ্চলে পাঁচ শতাধিক কালোমুখো হনুমান রহিয়াছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর হইতে উহাদের জন্য প্রতিদিন ৩৫ কেজি কলা, দুই কেজি বাদাম এবং দুই কেজি পাউরুটি বরাদ্দ রহিয়াছে। এই খাদ্য অপ্রতুল হওয়ায় উহারা খাদ্যের সন্ধানে মানুষের ঘরবাড়ি এমনকি অফিসে ঢুকিয়া পড়ে, যাহা পশু ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্ককে তিক্ত করিয়া তুলিতেছে। ভাবিয়া দেখিতে হইবে, উহাদের জন্য খাদ্য বরাদ্দ খানিকটা বাড়ানো যায় কি না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন