ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৭
১৫ °সে

কী করিয়া কমিবে পেঁয়াজের দুর্মূল্যের ঝাঁজ?

কী করিয়া কমিবে পেঁয়াজের দুর্মূল্যের ঝাঁজ?

কেজি দরে পেঁয়াজ অবশেষে শতক হাঁকাইয়াছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হইতেছে, পেঁয়াজের এলিসিন (যাহার কারণে পেঁয়াজে ঝাঁজ হয়) ঢুকিয়া পড়িয়াছে ইহার বিক্রয়মূল্যে। এই বত্সর ভারতে পেঁয়াজ উত্পাদন কম হইবার কারণে উহার প্রভাব পড়িয়াছে আমাদের বাজারেও। ভারতীয় পেঁয়াজের সহিত পাল্লা দিয়া লাগামহীন হইয়াছে দেশীয় পেঁয়াজের দাম। গত কয়েক দিনে পেঁয়াজ হইয়া উঠিয়াছে পত্রপত্রিকা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উল্লেখযোগ্য ঝাঁজালো বিষয়। দেখা গিয়াছে, টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্রে সাশ্রয়ী মূল্যে পেঁয়াজ ক্রয় করিতে দীর্ঘ লাইন দিয়াছেন শত শত মানুষ।

বাজার অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ী চাহিদা ও জোগানের মাধ্যমে ওঠানামা করিয়া থাকে যে কোনো পণ্যের মূল্য। এই ক্ষেত্রে জোগানের আসন্ন সংকটে রাতারাতি চাহিদার পারদ চড়া হইয়া গিয়াছে। জানা গিয়াছে, গত এক মাসে কয়েক দফায় পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির পর ৩০ টাকা হইতে বৃদ্ধি পাইয়া সর্বোচ্চ ৬৫ টাকায় উঠিয়াছিল গত সপ্তাহে। ইহার পর মূল্য কিছুটা কমিয়া ৫৫-৫৮ টাকায় স্থির হইলেও গত রবিবারের হঠাত্ মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকায় উঠিয়া গিয়াছে। অনেকেই মনে করেন, কোনো কিছুর জোগানে টান পড়িলে উহার আরো বেশি মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় সাধারণ ক্রেতারা ঐ পণ্যটি অধিক হারে সংগ্রহ করিয়া রাখিতে চাহেন। তাহাতে উহার চাহিদা আরো বাড়িয়া যায় এবং মূল্যবৃদ্ধিও লাগামহীন হইবার সুযোগ পায়। সুতরাং মূল্যবৃদ্ধির সময় সাধারণ ক্রেতারা যদি সম্মিলিতভাবে চাহিদার মাত্রা কমাইয়া দিতে পারেন, তাহা হইলে উহার মূল্য লাগামহীন হইবার সুযোগ পায় না। এই কারণে অনেকে মনে করেন, সাময়িকভাবে পেঁয়াজ একটু কম খাইলে এমন কী ক্ষতি? ইহা ঠিক যে, পেঁয়াজ নানা খাদ্যগুণে ভরপুর। দুর্মূল্যের সময় সেই গুণ যেন মনের কোণে আরো বেশি করিয়া ধরা দেয়। পেঁয়াজে রহিয়াছে ভিটামিন সি, বি এবং পটাশিয়াম। ইহাতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও থাকে। জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ নিবারণেও পেঁয়াজ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। পেঁয়াজ তিতা, টক, মিষ্টি বা ঝাল—এমন ধরনের কোনো স্বাদ যোগ না করিলেও সালফার কম্পোনেন্ট থাকিবার কারণে পেঁয়াজ খাবারের যে কোনো স্বাদকে অনেক বেশি তীব্র করিয়া তোলে। এই সকল কারণে পেঁয়াজের জনপ্রিয়তার কোনো কমতি নাই।

দুঃখের ব্যাপার হইল, মৌসুমে কৃষকরা অনেক সময়ই পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পান না, অথচ এখন দাম আকাশচুম্বী। এই বর্ধিত টাকাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উত্পাদক কৃষকরা পান না। পেঁয়াজ পচনশীল বলিয়া ইহা সংরক্ষণের দিকে মনোযোগী হইতে হইবে, যাহাতে সারা বত্সরই পেঁয়াজের সরবরাহ অব্যাহত রাখা যায়। বাংলাদেশে ১৫ অক্টোবর হইতে রবি মৌসুম শুরু হইবে। অন্যদিকে নূতন পেঁয়াজ উত্পাদন হইতে আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত লাগিয়া যাইবে। সুতরাং দেশীয় নূতন মৌসুমের পেঁয়াজ দিয়া চলমান সংকট মিটানো সম্ভব নহে। যেহেতু ভারতীয় বাজারেও পেঁয়াজের মূল্য অস্থিতিশীল হইয়া উঠিয়াছে, সেই কারণে আমদানির বিকল্প উেসর মাধ্যমে দেশের পেঁয়াজের সংকট কাটাইতে হইবে। ইতিমধ্যে মিশর ও চীন হইতে পেঁয়াজ আসিয়াছে। মিয়ানমার হইতেও নিয়মিতভাবে আমদানি হইতেছে পেঁয়াজ। ইহার সহিত বাজার মনিটরিং ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরো বলিষ্ঠ হইতে হইবে। আশা করা যায় পেঁয়াজের দুর্মূল্যের ঝাঁজ কমানো সম্ভব হইবে সুপরিকল্পনা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন