ঢাকা বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬
২৭ °সে


চিহ্নিতরা আত্মগোপনে যায় কী করিয়া

চিহ্নিতরা আত্মগোপনে যায় কী করিয়া

কথায় বলে, পুলিশ ইচ্ছা করিলে পারে না কী? তাহার উপর সেই পুলিশের যদি থাকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সর্বোচ্চ সুবিধা, তাহা হইলে তো কথাই নাই; কিন্তু সেই কাজ পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী করিতে ব্যর্থ হইলে আমরা কী ভাবিতে পারি? সরকারের ইচ্ছায় বর্তমানে সারাদেশে শুদ্ধি অভিযান চলিতেছে। এই বিষয়ক দৈনিক ইত্তেফাকের এক প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, কিছুদিন আগেও যাহারা চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় দোর্দণ্ডপ্রতাপে আধিপত্য বিস্তার করিতেছিল, এখন তাহাদের খুঁজিয়া পাওয়া যাইতেছে না। অর্থাত্ তাহারা আত্মগোপন করিয়াছেন।

কী করিয়া তাহারা আত্মগোপনে গেলেন, আমাদের প্রশ্ন এইখানেই। দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বহু শাখা রহিয়াছে। রহিয়াছে পুলিশ, র্যাব; রহিয়াছে ডিবি, সিআইডি, ডিএসবিসহ অনেক গোয়েন্দা সংস্থা। ইহা ছাড়াও আরো কয়েকটি সংস্থার গোয়েন্দা শাখা রহিয়াছে। যেমন মানি লন্ডারিং করিলে দুদক, কর ফাঁকি দিলে এনবিআরের নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র রহিয়াছে। প্রশ্ন হইল, তাহাদের চক্ষুর সম্মুখ হইতে চিহ্নিত ব্যক্তিরা উধাও হইয়া যায় কী করিয়া? বিশেষ করিয়া যাহাদের বিরুদ্ধে একাধিক খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাত্, মানি লন্ডারিং মামলা রহিয়াছে তাহাদের উপর তো এমনিতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর থাকিবার কথা! সেই সন্ত্রাসী বা অপরাধী বলিয়া চিহ্নিত ব্যক্তি যেই রাজনৈতিক দলের হউক না কেন, যত প্রভাবশালী হউক না কেন সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিকট তাহার ঠিকুজি থাকিবার কথা। তাহাদের আত্মীয়স্বজন কোথায় কে রহিয়াছে উহারও একটি খোঁজ পুলিশের নিকট থাকে। ইহা ব্রিটিশের সময় হইতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মপদ্ধতির অংশ হিসাবে চালু রহিয়াছে। তদুপরি বর্তমানে বাহিনীগুলিকে সরকার আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারসহ লজিস্টিক সাপোর্ট বলিতে যাহা বুঝায় তাহার সবই দিয়া থাকে। আরেকটু খুলিয়া বলিতে হয়। ধরা যাক, যে কোনো একটি মোবাইল সেটের কথা (বিশেষ করিয়া এন্ড্রয়েড ফোন। বর্তমানে একেবারে হতদরিদ্র মানুষ ছাড়া সকলেই এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করিয়া থাকে)। ঐ সেটটি বন্ধ থাকিলেও উহা কোথায় অবস্থান করিতেছে, কোন এলাকায়, কোন বাড়িতে তাহাও পুলিশ-র্যাব স্বল্প সময়ে বাহির করিতে পারে। এই কাজের জন্য পুলিশ ও র্যাবের স্পেশাল শাখা রহিয়াছে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে প্রায় সকলেই সমপ্রকৃতির (হোমোজেনিয়াস) জাতি। ছোটো দেশ, এইখানে নাই আলাদা আলাদা প্রদেশ, নাই আফগানিস্তানের মতো দুর্গম এলাকা, ব্রাজিলের মতো বিশাল বনাঞ্চল অথবা যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিস্তৃত ভূমি। প্রায় গোটা দেশেই লক্ষ করা যায়, একটি মহল্লার সকলেই সকলকে চেনে। এইরকম সুবিধাজনক বিষয় থাকিতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখের সম্মুখ হইতে চিহ্নিত ব্যক্তিদের উধাও হইয়া যাওয়া কী লজ্জার বিষয় নহে? অতএব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতায় কোনো গাফিলতি আছে কি না তাহা খতাইয়া দেখিতে হইবে। সেইসঙ্গে বাহিনীগুলি মাথা খাটাইয়া সূক্ষ্ম নজর রাখিলেই উধাও হইয়া যাওয়া ব্যক্তিদের খুঁজিয়া পাইবে বলিয়া আমাদের ধারণা। পুলিশ ইচ্ছা করিলে পারে—এমন বিশ্বাস আমাদের এখনো রহিয়াছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন