ঢাকা বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬
২৭ °সে


দ্বৈত জন্মনিবন্ধন কাম্য নহে

দ্বৈত জন্মনিবন্ধন কাম্য নহে

জন্মনিবন্ধন হইল একজন মানুষের প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। যে কোনো শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে তাহার জন্মনিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ অনুযায়ী একজন মানুষের নাম, লিঙ্গ, জন্মের তারিখ ও স্থান, বাবা-মায়ের নাম, তাহার জাতীয়তা ও স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারিত নিবন্ধক কর্তৃক রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করিয়া সনদ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। এই বিধি লঙ্ঘনকারী নিবন্ধক বা ব্যক্তি অনধিক ৫০০ টাকা অথবা অনধিক দুই মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিতত হইতে পারেন। মূলত জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে স্বীকৃত নাগরিকের মর্যাদা ও সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদানে রাষ্ট্র এক প্রকার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। পাসপোর্ট ইস্যু, স্কুলে ভর্তি, বিবাহ নিবন্ধন, সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগদান, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যূ, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, জমি রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংক একাউন্ট খোলা, ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি, গাড়ি রেজিস্ট্রেশন প্রভৃতি খাতে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হইয়াছে। এই কারণে জন্মনিবন্ধনের সবিশেষ গুরুত্ব রহিয়াছে।

জন্মনিবন্ধনের এই গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে জন্মের দেড় মাসের মধ্যে নিবন্ধনের হার খুবই কম। তবে সার্বিক জন্মনিবন্ধনের ব্যাপারে মানুষের সচেতনতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাইয়াছে। ইহা একটি আশাব্যঞ্জক দিক; কিন্তু জনসংখ্যার চাইতে যখন জন্মনিবন্ধন বেশি হয় তখন তাহাতে বিস্মিত না হইয়া পারা যায় না। আসলে ইহা আমাদের জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ার এক ধরনের ত্রুটি। যেহেতু বিষয়টি অনেক তাত্পর্যপূর্ণ, তাই জন্মনিবন্ধনের ব্যাপারে জন্মনিবন্ধন কর্তৃপক্ষের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। জন্মনিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, আমাদের দেশে গত ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জন্মনিবন্ধন হইয়াছে ১৭ কোটি ১০ লক্ষ ৫০ হাজার ৮০৫ জনের। আর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) চলতি বত্সরের জুনে আদমশুমারির মধ্যবর্তী অবস্থা তুলিয়া ধরিয়া জানাইয়াছে, আমাদের দেশে বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৬ লক্ষ। এই হিসাবে দেশের মোট জনসংখ্যার চাইতে প্রায় ৬৪ লক্ষ বেশি জন্মনিবন্ধন হইয়াছে। বিষয়টি কি হাস্যকর নহে? তবে ইহার মূল কারণ শহর ও গ্রাম হইতে একাধিক জন্মনিবন্ধন গ্রহণ, মৃত ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন বাতিল না হওয়া, তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে দুর্বলতা, পুরাতন সার্ভারে প্রবেশে সমস্যা ইত্যাদি। বিশেষ করিয়া ভালো স্কুলে ভর্তি করার আশায় অভিভাবকরা কখনো কখনো সন্তানদের একাধিক জন্মনিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করেন যাহা মোটেও কাম্য নহে।

উপর্যুক্ত পরিস্থিতি হইতে আমরা এই উপলদ্ধি করিতে পারি যে, আমাদের দেশে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম নানা সংকটের মধ্য দিয়া চলিতেছে যাহার অবসান একান্ত কাম্য। এমনও অভিযোগ রহিয়াছে যে, তথ্য যাচাইয়ের দুর্বলতার সুযোগ নিয়া বিভিন্ন জায়গায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নাগরিক হিসাবে জন্মনিবন্ধন নিতেছে। এমনকি এইভাবে তাহারা বিদেশে গিয়া চাকুরিও করিতেছে। বিশেষ করিয়া মধ্যপ্রাচ্যে তাহারা কাজ করিতে গিয়া কোনো অন্যায়-অপকর্ম করিলে শেষাবধি তাহার দায়ভার চাপিতেছে বাংলাদেশের উপর। তাই জন্মনিবন্ধন রেজিস্ট্রারের কার্যালয়কে এই ব্যাপারে আরো সজাগ হইতে হইবে। যে কোনো শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে তাহার জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করিতে হইবে। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা ও জনবলের যে অভাব রহিয়াছে তাহা দূর করিতে হইবে। ইহাছাড়া দ্বৈত নিবন্ধন সহজেই খুঁজিয়া পাইতে পারে এমন নূতন সফটওয়ার জন্মনিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে স্থাপন করিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন