ঢাকা বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬
২৭ °সে


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংকট

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংকট

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হলেন উপাচার্য। উপাচার্য ব্যতীত বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন কর্মকাণ্ড স্বাভাবিকভাবে চলিতে পারে না। অথচ তেমনি এক বাস্তবতা সৃষ্টি হইয়াছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য এ কে এম মাহবুব হাসানের ট্রেজারার পদের মেয়াদ শেষ হইয়াছে গতকাল সোমবার। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্গাপূজার ছুটি উপলক্ষ্যে গত ৩ অক্টোবর ছিল তাহার শেষ কার্যদিবস। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ও ট্রেজারার পদ দুইটি এখন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে। তাহা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টিতে উপ-উপাচার্যের কোনো পদই নাই। এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ট্রেজারার পদ শূন্য থাকায় আগামী ১৮ ও ১৯ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়া সংশয় দেখা দিয়াছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, আসন বণ্টনসহ পরীক্ষা গ্রহণের প্রধান হলেন উপাচার্য। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এ সমস্যা থেকে উত্তরণে অতিসত্বর উপাচার্য নিয়োগ অথবা ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য পদে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া না হইলে ভর্তি পরীক্ষা অনিশ্চিত হইয়া পড়িবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ট্রেজারার না থাকা একটি সঙ্গিন অবস্থা। এই অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই পদক্ষেপ লওয়া উচিত ছিল। এখন আবার ভর্তি পরীক্ষা লইয়া সংকট সৃষ্টি হইয়াছে। যদিও এই সংকটের সূচনা ঘটিয়াছে আরো আগে। পাঁচ মাস পূর্বে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে তত্কালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক ছুটিতে যাইতে বাধ্য হইলে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পান। বিগত পাঁচ মাসে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সমস্যা নিরসন করিয়াছেন। বিশেষ করিয়া আগের উপাচার্যের বিরুদ্ধে যেসব সমালোচনা ছিল তা নিরসন করিয়া বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়া সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ফিরাইয়া আনেন। কিন্তু তাহার মেয়াদ শেষ হইয়া যাওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হইয়াছে। আমরা আশা করি, অতি দ্রুত এই সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়া হইবে এবং নির্ধারিত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হইবে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা রহিয়াছে। নানা সংকট মোকাবিলা করিয়া প্রতিষ্ঠানগুলি শিক্ষা কার্যক্রম জারি রাখে। প্রশাসনিক সংকট ইহার মধ্যে অন্যতম। অনেক সময় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চালানো হয়; শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অব্যাহতি পাওয়া তত্কালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হকও চুক্তিভিত্তিক ছিলেন। অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিকমতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না। দীর্ঘসময় ভারপ্রাপ্তদের দিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চালনো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ নিয়াও বিস্তর অভিযোগ পাওয়া যায়। গবেষণা হয় নামে মাত্র; ইহারই প্রতিফলন ঘটে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে গিয়া। সেইখানে আমাদের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রথম ১ হাজারের মধ্যে স্থান করিয়া নিতে পারে না। তাই দেশের উচ্চশিক্ষার মান লইয়া সংশ্লিষ্ট সকলকে ভাবিতে হইবে, কেননা মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে সার্বিকভাবে দেশের অগ্রগতিও ব্যাহত হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন