ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৯ °সে


পর্যটন খাতের বিশাল সম্ভাবনা

পর্যটন খাতের বিশাল সম্ভাবনা

পর্যটন বর্তমান বিশ্বের উল্লেখযোগ্য একটি সমৃদ্ধ শিল্প খাত। অনেক দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হইল পর্যটন। বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৭০০ কোটি মানুষের মধ্যে ১৪০ কোটি মানুষ এক দেশ হইতে অন্য দেশে ঘুরিতে যায়। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০৫০ সাল নাগাদ পৃথিবীর জনসংখ্যা হইবে ৯৫০ কোটি, তখন বার্ষিক পর্যটকের সংখ্যা হইবে ৪৫০ কোটি, যাহার অর্ধেক আসিবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে। ফলে ইহা আমাদের জন্য একটি দারুণ সম্ভাবনাময় খাত। পর্যটন খাতের অগ্রগতি শুধু অর্থনৈতিকভাবেই নয় বরং সার্বিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে। অথচ এই খাতে বাংলাদেশ এখনো পিছাইয়া আছে, বাংলাদেশের জিডিপিতে এই খাতের অবদান মাত্র ২ দশমিক ১০ শতাংশ। পর্যটনক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম, ভারতের ৩৪তম, শ্রীলঙ্কার ৭৭তম, নেপালের ১০২তম, পাকিস্তানের ১২১তম; বাংলাদেশের অবস্থান কেবল পাকিস্তানের উপরে, বাকি সকল দেশের অবস্থান বাংলাদেশের উপরে। নিঃসন্দেহে এই অবস্থানের অগ্রগতি লাভ করিতে হইবে।

দেশের পর্যটন খাতের অগ্রগতি নানা কারণে মন্থর। এই খাতে পেশাদারিত্ব এখনো গড়িয়া উঠে নাই। বাংলাদেশের পর্যটন স্পটগুলি আধুনিক, টেকসই বা যুগোপযোগী করা সম্ভব হয় নাই নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতার কারণে। ২০১৯ সালের জন্য ঢাকাকে ‘সিটি অব ট্যুরিজম, ঘোষণা করিয়াছিল ইসলামিক সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি)। কিন্তু এই ব্যাপারে সরকার তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা চালায় নাই। ইউএনডব্লিউটিওর ভাষ্যমতে, ২০১৮ সালে বিশ্বের মোট কর্মসংস্থানের ১০ শতাংশ সৃষ্টি হইয়াছে পর্যটন খাতে। আগামী বছরগুলোতে সেই হার আরো বেশ কয়েক শতাংশ বাড়িবে। গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিষদের (ডব্লিউইএফ) ভ্রমণ ও পর্যটনবিষয়ক সূচকে দেখা গিয়াছে, বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই হার ১ দশমিক ৯ শতাংশ। সংস্থাটির হিসাব মতে, বাংলাদেশের মোট কর্মসংস্থানের ১ দশমিক ৯ শতাংশ বা ১১ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ জন পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত। ২০১৭ সালে যাহা ছিল ১১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৬৯০ জন। পর্যটন কর্মসংস্থানে পিছাইয়া থাকিবার জন্য অনেক কারণ চিহ্নিত করা যায়। ইহার মধ্যে রহিয়াছে দক্ষ অভিজ্ঞ জনবলের অভাব, পর্যটনকে আলাদাভাবে শিল্প হিসাবে ঘোষণা করিবার পরও যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়া, পর্যটননীতিকে আইনে পরিণত না করা, পর্যটনসংশ্লিষ্ট পেশায় আগ্রহী ব্যক্তিদের সামাজিক প্রতিবন্ধকতা প্রভৃতি।

এতত্সত্ত্বেও সামপ্রতিক সময়ে দেশে অভ্যন্তরীণ পর্যটন অনেকটা বৃদ্ধি পাইয়াছে। ইহা অবশ্যই ইতিবাচক দিক। কিন্তু বিদেশি পর্যটক সেই অনুপাতে না বাড়িলে পর্যটন খাত সত্যিকারের সমৃদ্ধি অর্জন করিতে পারিবে না। এইজন্য ইহার প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি প্রদান কাম্য। অনেক দেশে বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ পর্যটন জোন তৈরি করা হয়, আমাদের দেশে সেইরূপ বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিয়া কোনো পৃথক জোন তৈরি করা যায় কি না, তাহা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করিতে হইবে। সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সুদৃষ্টি ও যথাযথ গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাতের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সাধিত হইবে বলিয়া আমাদের প্রত্যাশা।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন