ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৬ °সে


উপবৃত্তির অর্থ লইয়া অনিয়ম

উপবৃত্তির অর্থ লইয়া অনিয়ম

বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতিকল্পে সরকার উপবৃত্তি প্রদান করিয়া থাকে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে উপবৃত্তি প্রকল্প পরিচালিত হইয়া থাকে। বর্তমানে প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায় চলিতেছে। এর মেয়াদ শেষ হইবে আগামী ডিসেম্বরে। উপবৃত্তি পাইয়া থাকে ১ কোটি ৪০ লক্ষ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিভেদে ৫০ টাকা হইতে শুরু করিয়া ৩০০ টাকা পর্যন্ত উপবৃত্তি দেওয়া হয়। ইহা দেওয়া হয় রূপালী ব্যাংকের ‘শিওর ক্যাশ’ নামক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মায়েদের হিসাবে। প্রাথমিকের এই উপবৃত্তি প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়ে কথা উঠিয়াছে। অনিয়মটি একটু জটিল পদ্ধতিতেই করা হইয়াছে। এই উপবৃত্তি বিতরণের জন্য সেবা মাশুল পূর্বে ছিল দেড় শতাংশ, যাহা গত বত্সর দুই শতাংশ করা হয়। ইহাতে বাড়তি ৬ কোটি টাকা বেশি আয় হয়। সেই টাকায় প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, রূপালী ব্যাংক ও উপবৃত্তি প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ১২ জন এক দফা বিদেশ সফর করিয়াছেন। এখন পুনরায় আরেক দফা সফরের প্রস্তুতি চলিতেছে। এখানেই শেষ নহে, বাড়তি সম্মানি ও প্রশিক্ষণের টাকাও খরচ হইতেছে সেবা মাশুল হইতে। এই টাকা পাইতেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহাপরিচালক, প্রকল্প পরিচালক হইতে শুরু করিয়া গাড়ির চালক পর্যন্ত। সেবা মাশুল কী কারণে দেড় শতাংশ হইতে বাড়াইয়া দুই শতাংশ করা হইল তাহা লইয়া প্রথম প্রশ্নটি উঠিবে; দ্বিতীয়ত, কোন নিয়মে তাহারা বিদেশ সফরের আয়োজন করিলেন ও বাকি টাকা সম্মানি হিসাবে নিজেদের মধ্যে ভাগ করিয়া লইলেন তাহা বোধগম্য নহে। সংবাদ হইতে জানা গিয়াছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব পাইয়াছেন ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) পাইয়াছেন ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, যুগ্মসচিব (উন্নয়ন) ও যুগ্মপ্রধান (পরিকল্পনা) পাইয়াছেন ৮০ হাজার করিয়া। ইহা ব্যতীত নিচের পদের আরো ১৩ জনকে ৮ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা করিয়া দেওয়া হইয়াছে। ইহা ছাড়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের জন্য অতিরিক্ত সচিবের সমান ও প্রকল্প পরিচালকের জন্য যুগ্মসচিবের সমান বরাদ্দ রাখা হয়। আমরা দেখিতে পাইতেছি, মন্ত্রণালয় ও প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই বাড়তি সেবা মাশুলের সুবিধাভোগী। ইহা অবশ্যই মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থদের অজ্ঞাতসারে হয় নাই। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা যখন কোনো বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন তখন তাহা অমান্য করা অধীনস্থ কাহারো পক্ষে সম্ভব হয় না। তাহা হইলে এই দায় কাহার উপর বর্তাইবে? এই অনিয়ম কোনো ক্রমেই কাঙ্ক্ষিত হইতে পারে না।

বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় বাড়তি মনোযোগ প্রদান করিয়াছে। ইহার ফলে প্রাথমিক শিক্ষার হার বাড়িয়াছে, শিক্ষার মান উন্নত হইয়াছে। সেই প্রচেষ্টা যেন কোনো ভাবেই কোনো মহলের সুবিধাবাদী কর্মকাণ্ডের ফলে ব্যাহত না হয়, সেই দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখিতে হইবে। সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অনিয়ম দূর করিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন