ঢাকা সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে


গ্যাস সিলিন্ডারচালিত যানবাহন

গ্যাস সিলিন্ডারচালিত যানবাহন

সিএনজিচালিত যানবাহন বর্তমানে বাংলাদেশের অতিপরিচিত। দেশের বেশির ভাগ মহাসড়কে চলিতেছে সিএনজিচালিত যানবাহন। এই সব যানবাহনে ব্যবহূত হইতেছে সিলিন্ডার গ্যাস। জানা গিয়াছে, প্রায় পাঁচ লক্ষ গাড়ি ভয়ানক ঝুঁকির মধ্যে রাস্তায় চলিতেছে। ইহার কোনো কোনো যানে সংযোজিত রহিয়াছে এক হইতে ৪টি সিলিন্ডার। যদিও মোট ছয় লাখের বেশি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার হইতেছে সারা দেশে। অথচ দেশের সিএনজি খাত নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড গত ২২ বত্সরে সিলিন্ডার গ্যাস পুনঃপরীক্ষা করিয়াছে মাত্র ৯৩১৮১টি। আর সেই কারণেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটিয়া ঘটিতেছে। তাহাতে কেবল গাড়ি নহে, মূল্যবান প্রাণও দিতে হইতেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী সিএনজিচালিত যানবাহনগুলোর কারণে প্রতিমাসে প্রায় ১০৪৭ কোটি টাকা কম খরচ হইতেছে; কিন্তু অসচেতনতার কারণে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়াই যাইতেছে। সিএনজি সিলিন্ডার-এর প্রতি বর্গইঞ্জিতে ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড পর্যন্ত চাপে যখন গ্যাস ভরা হয় তখন রাস্তায় চলমান গাড়িগুলি বোমা সমতুল্য হইয়া যায়। গ্যাস ভরার সময় গ্যাস ও সিলিন্ডার দুইটিই উত্তপ্ত হইয়া উঠে। এই জন্য সিলিন্ডারগুলি ভালো মানের না হইলে বিধ্বস্ত হইয়া বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়া থাকে। সিলিন্ডার গ্যাস নিয়ন্ত্রণকারী কোম্পানিতে প্রতি পাঁচ বত্সর পরপর সিলিন্ডার টেস্ট করিবার নিয়ম রহিয়াছে, কিন্তু সিএনজিচালিত গাড়ির মালিক ও চালক তাহা আমলে না নিয়াই গাড়ি চালাইতেছে। ইহাতে পুরাতন সিলিন্ডার গ্যাস বিভিন্নভাবে সড়ক-মহাসড়কে ঝুঁকি বাড়াইতেছে। সড়ক পরিবহন বিভাগ হইতে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য মাঝে মধ্যে সিলিন্ডরগুলি টেস্ট করিবার আহ্বান জানানো হয়; কিন্তু কে শোনে কাহার কথা! চালক ও মালিকদের অশিক্ষা, অজ্ঞতা ও অসতর্কতাকেই এহেন পরিস্থিতির জন্য আমরা দায় দিব।

জানা কথা, মানুষ যদি সতর্কতার সহিত নিয়ম মানিয়া সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে তাহা হইলে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের সম্ভাবনা অনেক কমিয়া যাইবে। ইহার সহিত অবশ্যই মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বাদ দিতে হইবে। এইসব জানিয়াও যদি ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াই তাহারা রাস্তায় গাড়ি রাখেন, তাহা হইলে তো দুর্ঘটনা ঘটিতেই থাকিবে। ইহা হইতে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক করিয়া তুলিতে হইবে। গাড়ির চালককে বেশি সচেতন হইতে হইবে। এক হিসাব অনুযায়ী গত পাঁচ বত্সরে ২০০ জনের বেশি মানুষ সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরণে মারা গিয়াছে। অনুমেয়, এইসব সিলিন্ডার যত পুরানা হইবে, ততই দুর্ঘটনা বাড়িতে থাকিবে। সুতরাং সময় থাকিতেই এ বিষয়টি কঠোর নিয়মের মধ্যে আনিতে হইবে। সিসলিন্ডার টেস্টে মালিকদেরকে বাধ্য করিতে হইবে। প্রতি বত্সর যখন যানবাহন লাইসেন্স নবায়ন করা হয়, তখন সিলিন্ডার টেস্টের কাগজ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করিতে হইবে। ইহাকে ফিটনেসের অপরিহার্য অংশ করিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন