ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৮ °সে


চাই উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

চাই উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

বর্জ্য পদার্থের আধুনিক ও নিরাপদ অপসারণব্যবস্থার অপ্রতুলতা দেশের অন্যতম পরিবেশগত সমস্যা। রাজধানী ঢাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ প্রক্রিয়ায় বিক্ষিপ্তভাবে গড়িয়া উঠিতেছে ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা। এইসব অবকাঠামোর জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বর্জ্য নিষ্কাশনের আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা নাই। ফলে অসংখ্য বাসগৃহ হইতে প্রচুর পরিমাণ গৃহস্থালি বর্জ্য রাস্তার পার্শ্বে এখানে-সেখানে নিক্ষিপ্ত হইতেছে। বর্তমানে রাজধানীতে কঠিন বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক ও সেকেলে। বর্ষা মৌসুমে বর্জ্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ডাস্টবিন উপচাইয়া কঠিন বর্জ্য রাস্তার পার্শ্বে ড্রেনে পড়িয়া পয়ঃনিষ্কাশনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ অচল করিয়া দেয়। ঢাকায় দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাইতেছে; কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বর্জ্যের তুলনায় ডাস্টবিনের সংখ্যা কম। আবার মানুষের অজ্ঞতা ও অসাবধানতার কারণে ডাস্টবিনগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় না। অনেক পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন এলাকায় নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ করা হয় না বলিয়াও অভিযোগ আছে। ইহাছাড়া শহর-নগরে বসবাসের কিছু নিয়মকানুন রহিয়াছে। শহরের পরিবেশ সমুন্নত রাখিতে প্রত্যেক নাগরিকের সচেতনতার পরিচয় দেওয়া আবশ্যক; কিন্তু অনেকেই বাসাবাড়ির আশেপাশে এমনকি গেটের সম্মুখেও ময়লা-আবর্জনা ফেলিয়া রাখেন। এইভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আসলে কাগজে কলমে রহিয়াছে, বাস্তবে তাহার প্রতিফলন তেমন একটা নাই।

দেশে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের হাজার হাজার টন বর্জ্য তৈরি হইতেছে। ইহার মধ্যে রহিয়াছে শিল্পকারখানার বর্জ্য, ইলেকট্রনিক বর্জ্য, চিকিত্সা বর্জ্য, গৃহস্থালি বর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য প্রভৃতি। নীতিগত দিক দিয়া বিবেচনা করিলে বর্তমানে দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুনির্দিষ্ট কোনো আইনও তেমন কার্যকর নহে। তবে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে আমাদের কিছুটা সাফল্য রহিয়াছে; কিন্তু সারা বত্সরের নিত্যদিনকার বর্জ্য অপসারণে আমরা তেমন সফলতার পরিচয় দিতে পারি নাই। রেললাইনের ধারে, বাস বা লঞ্চ টার্মিনাল ও ফুটপাতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করা মানুষ যেখানে-সেখানে আবর্জনা ছড়াইয়া-ছিটাইয়া রাখে, যাহা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বর্জ্য অপসারণে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত কমিটি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা সবচাইতে জরুরি। এই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারের অর্থসংকটের কথা বলা হয়; কিন্তু হিসাব করিলে দেখা যাইবে তাহারা বিভিন্ন খাত হইতে কম রাজস্ব আহরণ করেন না। তবে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের কারণে তাহাদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা দিতে গিয়া তেমন আর উন্নয়নের সুযোগ থাকে না।

আমাদের আবাসন ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের ছোঁয়া লাগিতেছে বটে, তবে এসটিপিসহ আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়িয়া তুলিতে অনেকেরই অনীহা পরিলক্ষিত হইতেছে। বাসাবাড়ি নির্মাণের সময় প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়িয়া তুলিতে হইবে। সারাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গ্রহণ করিতে হইবে মহাপরিকল্পনা। সাম্প্রতিককালে বিশ্ব জুড়িয়া পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বিশ্ব উষ্ণতা হ্রাস ইত্যাদি ইস্যুতে সচেতনতা বাড়িতেছে। কেননা আমাদের জীবনযাত্রায় তৈরি হওয়া নানা প্রতিকূলতা, অসুখ-বিসুখ ইত্যাদির জন্য দায়ী মূলত পরিবেশদূষণ। পানি, বায়ুসহ বিভিন্ন দূষণ রোধ করিতে হইলে সর্বাগ্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি দরকার। বিশ্বের অনেক ধনী ব্যক্তির মূল ব্যবসা হইল বিভিন্ন শহরের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ। এইজন্য এইক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা দরকার। যেহেতু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সহিত স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই এই ব্যাপারে আমাদের অবহেলা প্রদর্শনের অবকাশ নাই।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন