ঢাকা শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৮ °সে


ডেমু ট্রেনের বেহাল দশা

ডেমু ট্রেনের বেহাল দশা

বাংলাদেশের মতো জনঘনত্বের দেশে রেল হইতে পারিত আদর্শ যোগাযোগমাধ্যম। কারণ রেল একই সাথে সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও আরামদায়ক; কিন্তু তাহা হয় নাই। রেল আমাদের দেশে লাভজনক নহে। ২০১৩ সালে চালু হওয়া ডেমু ট্রেনের ক্ষেত্রেও ইহার ব্যতিক্রম ঘটে নাই। পত্রিকান্তরে জানা গিয়াছে, ডেমু ট্রেন লইয়া বিপাকে পড়িয়াছে রেল কর্তৃপক্ষ। ৬৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চীন হইতে ক্রয় করা ২০ সেট ডেমুর মধ্যে এখন চালু আছে মাত্র ছয় সেট, বাকিগুলি নষ্ট হইয়া পড়িয়া আছে। মূলত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ডেমুগুলির এই অবস্থা, নষ্ট হওয়া ডেমুগুলি সংস্কার করার কোনো কারখানাই দেশে নাই। এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৬ জুলাই নূতন করিয়া আর ডেমু ট্রেন না আনিবার নির্দেশনা প্রদান করেন। আমাদের দেশের আবহাওয়া ও যাত্রী-সংস্কৃতি বিবেচনায় ডেমু ট্রেন যে উপযোগী নহে তাহা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হইয়াছে; কিন্তু ইহা ডেমু ক্রয় করিবার পূর্বেই অনুধাবন করিলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা অপচয় হইতে রক্ষা পাইত।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গিয়াছে, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের অধীনে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে প্রথম ডেমু ট্রেন চালু করা হয়। চালু হওয়ার পর হইতে এখন পর্যন্ত ডেমু ট্রেনে আয় হয় প্রায় ২৪ কোটি, অন্যদিকে পরিচালনা ব্যয় হয় ৩০ কোটি টাকার বেশি। ফলে এখানেও ৬ কোটি টাকার মতো লোকসান হইয়াছে। ট্রেনগুলি পরিচালনা করিয়া যাহা আয় হইতেছে, জ্বালানি ও লোকবলের পেছনে খরচ হইতেছে তাহার ২৫ শতাংশের বেশি। ফলে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠিবে, ৬৫৪ কোটি টাকার বিপুল বিনিয়োগ করিয়া রেল কী পাইল। কীভাবে মাত্র সাড়ে ছয় বত্সরে বেশির ভাগ ডেমু নষ্ট হইয়া গেল, ইহার সদুত্তর কে দিবে? সাধারণত রেলের ইঞ্জিনের গড় আয়ু হইতেছে ২৫ বত্সর, বগির ২০ বত্সর; তবে নিয়মিত মেরামত করিলে ইঞ্জিন ও বগি উভয়ই বহু বত্সর টিকিয়া থাকে। এখনও স্বাধীনতার পূর্ব আমলের ইঞ্জিন ও বগি দেশে চলিতেছে। বিশেষজ্ঞরা বলিতেছেন, ডেমুগুলো নষ্ট হইবার অন্যতম কারণ হইল এইগুলি মূলত স্বল্পপাল্লার দূরত্বে (২০ কিলোমিটার) চলাচলের জন্য উপযোগী; কিন্তু ইহা ব্যবহার করা হইয়াছে দূর পাল্লায়। চট্টগ্রাম-লাকসামের মতো ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে এই ট্রেন চলিয়াছে। পাশাপাশি রহিয়াছে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব।

এখন নূতন করিয়া বলা হইতেছে, দেশে ডেমু ট্রেন মেরামত করিবার কারখানা তৈরি করা হইবে। তবে ইহার সহিত অনেক বিশেষজ্ঞই দ্বিমত পোষণ করেন। তাহাদের মতে ইহা পূর্বের ন্যায় আরেকটি লোকসানি খাতে পরিণত হইবে। আমরাও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের সহিত একমত হইয়া বলিতে চাই, ডেমু ট্রেন লইয়া নূতন কোনো বিনিয়োগ না করাই উত্তম; বরং সার্বিকভাবে দেশের রেল যেন সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় সেইজন্য বর্তমান রেলওয়ে কারখানাগুলি আরও উন্নত ও যুগোপযোগী করা হউক।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন