ঢাকা সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৪ °সে


জ্বালানি তেলে ভেজাল

জ্বালানি তেলে ভেজাল

জ্বালানি তেলের বিশুদ্ধতা অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ইহার উপর একদিকে যানবাহনের ইঞ্জিন ও কলকবজার স্থায়িত্ব অন্যদিকে পরিবেশ দূষণের হার নির্ভর করে। সাম্প্র্রতিক সময়ে সংবাদপত্রে জ্বালানি তেলে ভেজালের খবর বারবার আসিয়াছে। এই ভেজাল রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও বিএসটিআইয়ের উদ্যোগ আমরা দেখিয়াছি। কিন্তু কোনোভাবেই ইহা বন্ধ করা যাইতেছে না। দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক সংবাদ মারফত জানা গিয়াছে, দেশে মানহীন জ্বালানি তেল বাজারজাত করিতেছে স্বয়ং সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এমনকি বাধ্যবাধকতা থাকিলেও পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের মানসনদ গ্রহণ করিতেছে না সংস্থাটি। বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ জানাইয়াছে, এইরূপ মান পরীক্ষা না করিয়া পণ্য বাজারজাত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু বিপিসি সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিএসটিআই কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিতেছে না। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হইয়াও বিপিসির এইরূপ নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। অন্যদিকে বেসরকারি রিফাইনারিগুলির ভূমিকাও একই রকম। জানা গিয়াছে, বেসরকারি খাতের ১৩টি রিফাইনারি পেট্রোবাংলার নিকট হইতে কনডেনসেট ক্রয় করিয়া প্রক্রিয়াজাত পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল, সলভেন্টসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য উত্পাদন করিয়া থাকে। কিন্তু তাহাদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের পণ্য উত্পাদন, ভেজাল মিশানো এবং অবৈধভাবে বিক্রয়ের অভিযোগ রহিয়াছে। ইহা ছাড়া এই বেসরকারি রিফাইনারিগুলি শুধু ফ্রাকসেনেশন (উপজাত হইতে জ্বালানি পণ্য) করিতেছে, নির্দিষ্ট মানদণ্ড রক্ষা করিয়া পরিশোধনের ক্ষমতা এইগুলির নেই। আমাদের প্রশ্ন, এতগুলি বেসরকারি রিফাইনারির যদি পরিশোধনের উপযোগী আধুনিক যন্ত্রপাতিই না থাকে তাহা হইলে কী করিয়া তাহাদের অনুমোদন দেওয়া হইল? অপরদিকে সরকারি তেল কোম্পানিগুলিতেও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সঠিকভাবে চলিতেছে না। সরকারের একটি তেল কোম্পানি যাত্রীবাহী বিমানেও তেল সরবরাহ করিয়া থাকে। কিন্তু প্রায়শই অভিযোগ শুনিতে পাওয়া যায়, তাহারা মানসম্মত তেল এবং সঠিক সময়ে সরবরাহ করিতে পারে না।

পেট্রোল-অকটেনে ভেজাল হিসাবে মিশানো হইতেছে দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলি থেকে পাওয়া কনডেনসেট (উত্তোলিত গ্যাসের সহিত পাওয়া তরল জ্বালানি)। পেট্রোল-অকটেন ও কনডেনসেটের মধ্যকার মূল্যের পার্থক্যের কারণে ভেজাল হিসাবে কনডেনসেট মিশানো হয়। ভেজাল মিশানো ছাড়াও পেট্রোল-অকটেনের মান এমনিতেও খারাপ। বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মানমাত্রা অনুযায়ী সেই জ্বালানিই অকটেন হিসাবে গণ্য হইবে, যাহাতে অন্তত ৯৫ শতাংশ অকটেন অণুকণা থাকিবে। আর পেট্রোলে অকটেন অণুকণা থাকিতে হইবে অন্তত ৮৫ শতাংশ। তবে দেশের বাজারে সরবরাহ করা অকটেনে ৯০ শতাংশের কম এবং পেট্রোলে ৮০ শতাংশের কম অকটেন অণুকণা রহিয়াছে। অপরদিকে, দেশে সরবরাহ করা ডিজেলে সালফারের পরিমাণ প্রায় ২০০০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন)। অথচ পাশের দেশ ভারতে ব্যবহূত ডিজেলে সালফারের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১০০ পিপিএম। অতিরিক্ত সালফারযুক্ত ডিজেল ব্যাপক বায়ুদূষণের কারণ। পাশাপাশি ভালো মানের ইঞ্জিনের অনুপযোগী এই ডিজেল। আমরা আশা করি, যানবাহন ও পরিবেশের ক্ষতি বিবেচনায় নিয়া সরকার জ্বালানি তেলের ভেজাল রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে। ভেজাল নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন জ্বালানি পণ্যের মধ্যকার মূল্যের সমন্বয় করিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন