ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬
৩৭ °সে

‘বিনোদন, শিক্ষামূলক ও মানুষের সহায়ক চ্যানেল এটি’

‘বিনোদন, শিক্ষামূলক ও মানুষের সহায়ক চ্যানেল এটি’

তারেক আখন্দ। বর্তমানে বেসরকারি টেলিভিশন বাংলাভিশনে অনুষ্ঠান প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। চ্যানেলটির সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন তিনি। একাধিক জনপ্রিয় নাটক ও অনুষ্ঠান নির্মাণ করেছেন এই প্রতিভাবান মানুষটি। তার নির্মিত জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে—মেহের আফরোজ শাওনের উপস্থাপনায় ‘হুমায়ূন আহমেদের হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম’, বিপাশা হায়াতের উপস্থাপনায় ‘বিপাশার অতিথি’ প্রভৃতি। অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সম্প্রতি কথা হলো চ্যানেলটির অনুষ্ঠান প্রধানের সঙ্গে। সাক্ষাত্কারের চুম্বকীয় অংশ তুলে ধরছেন খালেদ আহমেদ

চলতি বছরে বাংলাভিশনের অনুষ্ঠান ভাবনার কথা জানতে চাই।

আমরা আসলে একটা পরিবর্তনশীল সমাজে বাস করি, এখানে প্রতিটা কনটেন্ট নতুন করে বাজারে ছাড়তে হয়। অনুষ্ঠান সংযোজন ও বিয়োজন একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এটা যে বছরের প্রথম থেকে হয় তা নয়; আমাদের প্রত্যেক প্রান্তিক ধরে ধরে আমাদের অনুষ্ঠান সূচি ত্রি-মাসিক হিসেবে করা হয়। প্রত্যেক সময়ই যে আমাদের অনুষ্ঠান পরিবর্তন হয় তা নয়, কিন্তু আমরা কিছু দিন পরপর আমাদের অনুষ্ঠান পরিবর্তন করতে থাকি। আমাদের লাইফস্টাইলের উপর সামনে একটা নতুন অনুষ্ঠান আসছে, এবং কিছুদিন আগেই আমরা গত বছরের কিছু নতুন অনুষ্ঠান ছেড়েছি। গত বছরের পাঁচটা ভালোমানের অনুষ্ঠান, কিন্তু খুব বড় পরিসরে বলা যাবে না। আমাদের সামর্থ্যের ভিতরে থেকে আমরা ভালো কাজটা করার চেষ্টা করেছি। টিভি ফিকশন ও ননফিকশনগুলো খুব তাড়াতাড়ি পরিবর্তন হয় না, একটা অনুষ্ঠান হয়ত দুই বছর বা তিন বছর চলে, ক্লিক না করলে হয়ত এক বছরও চলে। কয়েকটি নতুন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা আছে, যেমন— লাইফস্টাইল, ফোক মিউজিক ইত্যাদি।

ইউটিউবে দর্শকরা খুব সহজেই সকল কনটেন্ট দেখতে পাচ্ছে? ইউটিউবের জনপ্রিয়তা এদেশে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো কি আরেকটি প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ছে?

দেশে তো বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেল আছে। আমি মনে করি প্রতিযোগী বেশি হলে কাজের মানও ভালো হয়। আবার এর একটা খারাপ দিকও আছে। যেমন—যখন অনেক কাজ হয়, তখন কিছু কাজ ভালো হয়, কিছু কাজ মধ্যম মানের হয়, কিছু কাজ খারাপ হয়। তো খারাপ কাজগুলোকে যারা খুঁজে বের করে তারা মনে করে এই কাজগুলোর কনটেন্টগুলো ভালো না, যারা ভালো কাজগুলো দেখছে তারা বলছে এখন তো অনেক অত্যাধুনিক মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভালো মানের কাজ হচ্ছে। আবার কিছু কাজ তো গতানুগতিক, সব সময় হয়। এই বিষয়গুলো নির্ভর করে আপনি কোন পর্দায় দেখছেন, কিভাবে দেখছেন তার উপর। আমার মনে হয় কনটেন্টের ঘাটতি আমরা অনেকটাই লাঘব করতে পেরেছি। আর আমরা একটা ইনফটেনমেন্ট চ্যানেল। আমরা দর্শকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ দেই, রুচিশীল বিনোদন দেই, বিনোদনের কিছু ভাগ আছে—এর ভিতর মূল ভাগটা হচ্ছে নাটক। নাটকের ক্ষেত্রে আমি জোর দাবি নিয়ে বলতে পারি, মানুষ এখনো যে ২/৩টা চ্যানেলে আস্থা রাখতে পারে তার মধ্যে বাংলাভিশন একটা বড় জায়গা নিয়েছে। আমি মনে করি, দর্শকের চাহিদা মেটাতে আমরা অনেকটাই সফল। ইউটিউব হলো একটা টেকনোলজিকেল ফর্ম। আমরা যদি ৮০’র দশক থেকে হিসাব করি তাহলে এই ৪ দশকে কিছু নতুন ফেজ এসেছে। একদম শুরুর কথা যদি চিন্তা করি, তখন ভিসিয়ারের প্রচলন শুরু হয়েছিল। তারপর সিডির প্রচলন শুরু হয়েছিল। এইভাবে আমরা এখন এমন একটা সময়ে বাস করছি যেখানে মানুষ স্মার্ট ফোন আর টিভি ব্যবহার করছে। এর ফলে তাদের রুচির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ যে ফোনটাকে শুধু কথা বলার জন্য ব্যবহার করত এখন সেটা তার বিনোদনের প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের নিয়মিত অভ্যাসের একটা বড় পরিবর্তন হয়েছে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারণে। ফলে মানুষ এখন তার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাক্টিভ থাকে বেশি। সে নিজেকে প্রচার করে, আর এটা সে তার মৌলিক চাহিদার সময় থেকে করে না, সময়টা বের করে বিনোদনের সময় থেকে।

উন্নয়নশীল দেশে টেলিভিশন চ্যানেল বিনোদনের পাশাপাশি অন্যতম একটি শিক্ষার মাধ্যম হতে পারে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

উন্নয়নশীল দেশে আমরা টিভি চ্যানেল দিয়ে প্রতিভাকে বিকশিত করতে পারি তাদের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে। যেমন—এখন ফেব্রুয়ারি মাস। একুশে বই মেলা চলছে, এটাকে কিন্তু সবাই প্রতিদিন দেখায় না, কিন্তু আমরা এটাকে দেখাচ্ছি এবং যারা প্রতিভাবান তাদের খুঁজে বের করে তাদের সাক্ষাতকার নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমি মনে করি এটা একটা বড় মাধ্যম। আমরা স্কুলভিত্তিক কিছু অনুষ্ঠান করি, যেটা শিশুদের মানসিক বিকাশে অনেক ভূমিকা রাখে। আমাদের কিছু দিন আগের একটা অনুষ্ঠান পরীক্ষা ও প্রস্তুতি, যেখানে আমরা সরাসরি একটা পরীক্ষার বিষয় নিয়ে আলোচনা করতাম। এই রকম আরও অনেক অনুষ্ঠান আছে যেগুলোর মাধ্যমে আমরা সমাজে একটা বড় পরিবর্তন আনতে পারি। সবশেষে একটা কথাই বলব, বাংলাভিশন সব সময় বিনোদন, শিক্ষামূলক ও মানুষের সহায়ক একটি চ্যানেল।

ছবি তুলেছেন তম্বয় মির্জা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৭ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন