ঢাকা বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৮ °সে


ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্ত

ইউক্রেন নিয়ে মাথাব্যথা কেন?
ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্ত

শিফারুল শেখ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা স্থগিত করেছিলেন? যুক্তরাষ্ট্রে জনগণ বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন এটি। এই প্রশ্নকে ঘিরেই ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসন করার প্রক্রিয়া চলছে। ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে সাক্ষীদের সাক্ষ্য এখন প্রকাশ্যে নেওয়া হচ্ছে যা টেলিভিশনে লাখ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ করছেন। ইউক্রেন কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য নয়। আবার দেশটি দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে পরিচিত।

n কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ইউক্রেন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৯ হাজার মাইলের বেশি দূরের এবং টেক্সাস অঙ্গরাজ্য থেকেও ছোটো দেশ ইউক্রেন। অথচ সেই দেশটিই বিশ্বের ক্ষমতাশালী দেশটির কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ বা মাথাব্যথার কারণ তা বর্তমান অবস্থা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। এক কথায় উত্তর : ভৌগোলিক অবস্থান। ইউক্রেনের ২৮ বছরের স্বাধীনতার ইতিহাসে কখনো এটা স্পষ্ট হয়নি যে, দেশটি প্রতিবেশী সমাজতান্ত্রিক রাশিয়া না পুঁজিবাদী পশ্চিমা দেশের সঙ্গে মিত্রতার সম্পর্ক গড়ে তুলবে। কিন্তু ২০১৪ সালে এই চিন্তার সমাপ্তি ঘটে। ইউক্রেনে রুশপন্থি প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করা, পালটা প্রতিশোধ হিসেবে পূর্বাঞ্চল ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ায় ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট ইউরোপের সঙ্গে মিত্রতা গড়ার ঘোষণা দেন। এ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১৩ হাজার মানুষের জীবন গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন আদর্শিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে ইউক্রেনকে সমর্থন দেয়। ইউক্রেনের তার মিত্র বেছে নেওয়ার অধিকার আছে বলে উল্লেখ করা হয়। কারণ রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ ঐতিহাসিক। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আগের মনোভাবে পরিবর্তন আসে। ইউক্রেনও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আগের মতো ভরসা করতে পারছে না।

n ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তবে ২০১৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে ১০৫ কোটি ডলার সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর বেশির ভাগই ব্যয় হয় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও আধুনিকায়নে। এরপর থেকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী অনেক সংগঠিত ও আধুনিক হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ৩৯২ মিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা স্থগিত করে।

n মার্কিন সহায়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ

সামরিক এবং প্রতীকী দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী যখন বুঝতে পারে যে তাদের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী আছে তখন আর চিন্তা থাকে না। কিন্তু বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যে তারা দুর্বল হচ্ছে। আর কিয়েভের এই দুর্বলতার সুযোগে রাশিয়া শক্তিশালী হচ্ছে। শান্তি নিয়ে সমঝোতা বা দর কষাকষির পাল্লা রাশিয়ার দিকেই ভারী।

n অভিশংসন তদন্তে ইউক্রেন কীভাবে এলো

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ : গত ২৫ জুলাই তিনি ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন যেন তিনি সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং তার ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করেন। বাইডেন আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী। ট্রাম্পের অভিযোগ, ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন জো বাইডেন ইউক্রেনকে একটি অপরাধ তদন্ত না করার ব্যাপারে চাপ দিয়েছিলেন। যে তদন্তে তার ছেলে হান্টার বাইডেনের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা বের হয়ে আসতে পারত। হান্টার বাইডেন ইউক্রেনের মালিকানাধীন গ্যাস কোম্পানি ইউক্রেন ওলিগার্কের বোর্ডের সদস্য ছিলেন। অভিশংসন তদন্তে ইউক্রেনের নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের এমন ব্যক্তি বা কূটনীতিক যারা ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন বা করছেন। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ইউক্রেন ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ঐ সময় ইউক্রেনের একটি রুশপন্থি দলের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার ব্যবস্থাপক পল ম্যানাফোর্টকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

n ভবিষ্যতের শঙ্কায় ট্রাম্প

সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসন করা সম্ভব নয়। কিন্তু তারপরও তদন্ত হচ্ছে কেন? এ বিষয়ে বিবিসির বিশ্লেষক অ্যান্টনি জার্কার বলেন, উত্তর হচ্ছে ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচন-পূর্ব রাজনীতির হিসাবনিকাশ। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন অভিশংসিত না হলেও আগামী নির্বাচনে এর ফল ভোগ করতে হবে তাকে। কারণ প্রকাশ্যে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগৃহীত হলে জনমত ট্রাম্পের বিপক্ষেই যাবে। অনেক ডেমোক্র্যাট মনে করেন, অভিশংসন একটা নৈতিক দায়িত্ব, কারণ প্রেসিডেন্ট আইন ভেঙেছেন ও শপথবাক্য লংঘন করেছেন। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তার অর্থ হবে এতে পরোক্ষ সম্মতি দেওয়া এবং আরো আইন ভাঙতে তাকে উত্সাহিত করা। তবে এটা রাজনৈতিকভাবে বিজয়ী হওয়ার মতো ইস্যু হবে কিনা এ নিয়ে ডেমোক্র্যাট শিবিরের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন