ঢাকা বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২০ °সে


চীন ঘনিষ্ঠ গোতাবায়া কি ভারতের জন্য উদ্বেগের!

চীন ঘনিষ্ঠ গোতাবায়া কি  ভারতের জন্য উদ্বেগের!

তালেব রানা

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হচ্ছেন গোতাবায়া রাজাপক্ষে। সরকারি ফলাফল গতকাল বিকাল পর্যন্ত ঘোষণা করা না হলেও রাজাপক্ষে জয় দাবি করেছেন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাজিথ প্রেমাদাসা পরাজয় মেনে নিয়েছেন।

গত এপ্রিলে শ্রীলঙ্কার গির্জা ও হোটেলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। এ হামলার পর প্রথম নির্বাচনে তাই শ্রীলঙ্কার প্রতি নজর ছিল বিশ্বের। এবারের নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ৩৫ জন। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে এটি রেকর্ড। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অবতীর্ণ হন সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের ভাই গোতাবায়া রাজাপক্ষে এবং নিহত সাবেক প্রেসিডেন্ট রণসিংঘে প্রেমাদাসার ছেলে তথা ইউএনপির মন্ত্রী সাজিথ প্রেমাদাসা।

আনন্দবাজার পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে, গোতাবায়া ‘চীন-ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত। নির্বাচন পূর্ববর্তী একাধিক সমীক্ষায় তিনিই এগিয়ে ছিলেন। অন্যদিকে সাজিথ বরং ‘কালো ঘোড়া’। যদিও তার প্রতি দিল্লির প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে বলে অনেকেই দাবি করেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে নরেন্দ্র মোদির প্রথম শ্রীলঙ্কা সফরে সাজিথকেই তার ‘মিনিস্টার ইন ওয়েটিং’ করা হয়। তাই ভোট শ্রীলঙ্কার হলেও, লড়াইটা আসলে চীন ও ভারতের বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। গোটা অঞ্চলে চীনের প্রভাব বাড়া-কমার প্রশ্নে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভারতের কাছে।

শনিবার কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ হয়। রাজাপক্ষের ভোটব্যাংক মূলত বৌদ্ধরা। আর সাজিথের দলের প্রতি তামিল ও মুসলিম সমর্থন বেশি। গতকাল বিবিসির খবরে বলা হয়, প্রায় অর্ধেক ভোট গণনা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে রাজাপক্ষে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন। প্রেমাদাসা পেয়েছেন প্রায় ৪৩ শতাংশ ভোট। জয়ী দলের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাজাপক্ষে ৫৩-৫৪ শতাংশ ভোট পেতে চলেছেন। অন্যদিকে প্রেমাদাসা প্রকাশ্যে হার মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানায়। এক টুইট বার্তায় গোতাবায়া রাজাপক্ষে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শ্রীলঙ্কার প্রতিটি মানুষ এই যাত্রার অংশ। আজ সোমবারই তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে পারেন।

গোতাবায়া রাজাপক্ষে প্রতিরক্ষা সচিব ছিলেন। সেনাবাহিনীতেও দীর্ঘদিন কাটিয়েছেন তিনি। এমনকি এলটিটিইর বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের অবসানও তার হাত ধরেই। এই অভিজ্ঞতাই নির্বাচনী লড়াইয়ে কাজে লেগেছে। সংখ্যালঘু মুসলিম এবং তামিলরা তার ওপর অসন্তুষ্ট হলেও, সংখ্যাগুরু সিংহলীদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা অনেক। জয়ের জন্য তার সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানকেই কৃতিত্ব দিচ্ছেন অনেকে।

গতকালই গোতাবায়া রাজাপক্ষেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টুইটারে মোদি লিখেছেন, গোতাবায়া রাজাপক্ষে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভের জন্য আপনাকে শুভেচ্ছা। আমাদের দুই দেশ এবং দেশের নাগরিকদের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গোটা উপমহাদেশের নিরাপত্তার জন্য আপনার সঙ্গে একজোট হয়ে কাজ করতে অপেক্ষায় রয়েছি।

তবে আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, গোতাবায়া শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় সামান্য হলেও অস্বস্তিতে ভারত। কারণ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে চীনের মধ্যে বরাবর সেতু হিসেবে কাজ করেছে রাজাপক্ষে পরিবার। ২০১৫ সালে মাহিন্দা রাজাপক্ষের নির্বাচনী প্রচারে বেইজিং কোটি কোটি টাকা ঢেলেছিল বলেও দাবি করেন অনেকে। তাই গোতাবায়ার আমলে ভারতের তুলনায় চীনকেই শ্রীলঙ্কা বেশি গুরুত্ব দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। তার ওপর আগামী বছরের শুরুতে আবার সংসদীয় নির্বাচন শ্রীলঙ্কায়। তাতে ফের প্রধানমন্ত্রী পদ ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাবেন মাহিন্দা রাজাপক্ষে। তিনি জয়ী হলে, রাজাপক্ষে ভাইদের হাতেই উঠবে শ্রীলঙ্কার শাসনব্যবস্থার রাশ। তাতেই দুশ্চিন্তা আরো বেড়েছে ভারতের।

ভারতের এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়েছে, রাজাপক্ষের পরিবারের ক্ষমতায় ফেরাটা ভারতের জন্য উদ্বেগের হতে পারে। কারণ চীনের দিকে ঝুঁকে ছিলেন মাহিন্দা রাজাপক্ষে। তিনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন ভারতকে না জানিয়ে চীনের দুটি সাবমেরিনকে ভিড়তে অনুমতি দিয়েছিলেন তিনি। তার সময়ে চীন শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক পরিমাণ ঋণ দেয়। হাম্বানটোটা বন্দর লিজ নেয় চীন। এই হাম্বানটোটা ভারত মহাসাগরে চীনা যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের জ্বালানি নেওয়ার জন্য আদর্শ জায়গা। অতীতের এসব ঘটনা একটু হলেও অস্বস্তির কারণ হচ্ছে ভারতের জন্য।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন