ঢাকা বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৮ °সে


বলিভিয়া সংকট ও বহিঃশক্তির মেরুকরণ

বলিভিয়া সংকট ও বহিঃশক্তির মেরুকরণ

তৌহিদ আজিজ

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। একপর্যায়ে তিনি দেশ ছেড়ে বন্ধু দেশ মেক্সিকোতে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেন। কিন্তু তারপরও দেশটির সংকট কাটছে না। প্রায় প্রতিদিনই মোরালেস সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। এ পর্যন্ত ২৭ জনেরও বেশি মারা গেছে। মোরালেসের পদত্যাগের পর দেশটির বিরোধী দলের সিনেটর জেনিন অ্যানেজ নিজেকে ‘অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার পর সহিংসতার মাত্রা আরো বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার ও মোরালেস সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে একটা সমাঝোতাও হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেখানে সহিংসতা কমছে না। এদিকে লাতিন আমেরিকার এই দেশটিকে নিয়ে এরইমধ্যে বহিঃশক্তির মেরুকরণ শুরু হয়ে গেছে। খোদ মোরালেসই বলেছেন, বলিভিয়া থেকে তাকে সরানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে। তারা নতুন অন্তর্বর্তী সরকার তথা বিরোধী দলকে সমর্থন দিচ্ছেন। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, এই সমর্থনের পাল্লা ভারী করছে যুক্তরাজ্য, কলম্বিয়া ও জার্মানি। অপরদিকে রাশিয়া, ইরান, মেক্সিকো, ভেনিজুয়েলাসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশ মোরালেসের পক্ষে কথা বলছেন। তাদের বক্তব্য, সেনাবাহিনীর চাপের মাধ্যমে মোরালেসকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

কেউ কেউ বলছেন, বিষয়টি এখন বাম ও ডানপন্থিদের মধ্যে বিরোধ হিসাবে দেখা দিয়েছে। আর এ কারণেই এখন বিভিন্ন দেশের মধ্যে বলিভিয়া নিয়ে এক বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান মিশেল বেচলেট বলেছেন, বলিভিয়া সংকট ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে করে পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে সেখানে আর আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে না। ১০ নভেম্বর মোরালেস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগের পর এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বলিভিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলিভিয়ায় অভ্যুত্থান পরিস্থিতির সৃষ্টি ও মোরালেসকে দেশত্যাগে বাধ্য করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। ইরান জানায়, যে কোনো দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী জনগণ। তারাই ব্যালটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দেবেন কে থাকবেন আর কে থাকবেন না। তবে দেশটির এই অবস্থার মধ্যেও একটু আশার আলো দেখা দিয়েছিল। ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোরালেসের দল ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে নতুন নির্বাচনের ব্যাপারে একটা সমঝোতা হয়েছিল। মুভমেন্ট ফর সোশ্যালিজম পার্টির নেতা মনিকা ইভা কোপা মুরগা এই সমঝোতার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দেশকে অস্থিতিশীলতা থেকে রক্ষায় সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে একটা সমঝোতা হয়েছে। কিন্তু সমঝোতা ঘোষণা দেওয়ার পরও বলিভিয়া পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং এক অনিশ্চিত পথে রয়েছে দেশটি।

বলিভিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ আদিবাসী জনগণের মধ্য থেকে উঠে আসা এ প্রেসিডেন্টের হাত ধরেই গত দেড় দশকে বলিভিয়ার অর্থনীতিতে প্রভূত উন্নতি হয়েছে; লাতিনের অন্যতম দরিদ্র দেশ থেকে পরিণত হয়েছে সম্ভাবনাময় দেশে। তাই নতুন এই পরিস্থিতিতে বলিভিয়া কতখানি নিজেকে সামলে সামনে এগোতে পারবে তা-ই এখন দেখার বিষয়।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন