ঢাকা বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
২৭ °সে


শুল্ক-যুদ্ধ মোকাবিলা

একাট্টা হচ্ছে চীন ভারত রাশিয়া!

একাট্টা হচ্ছে  চীন ভারত রাশিয়া!

তৌহিদ আজিজ

বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক যখন তিক্ততায় ঠিক সে সময়েই ওয়াশিংটনকে মোকাবিলায় একটা নতুন কৌশলগত দিকে যাচ্ছে বেইজিং। আর এই লড়াইয়ে চীনের সঙ্গে পাল্লা ভারী করছে ভারত ও রাশিয়া। আগামী ১৩ জুন কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে শুরু হচ্ছে এসসিও (সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন) সম্মেলন। এরই মধ্যে মোটামুটি ঠিক হয়ে গেছে ত্রিদেশীয় নেতারা সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে মিলিত হবেন। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘নয়া বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’ গড়ে তোলা।

তিন দেশের নেতা যথাক্রমে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই সম্মেলনের মাঝে বৈঠক করবেন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে যে জিনিসটি বেরিয়ে এসেছে তা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শুল্ক-যুদ্ধের একটি বিকল্প ভাবনা তৈরি করা, যাতে করে তারা একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারেন। এ ব্যাপারে তিন দেশের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না এলেও এরই মধ্যে তারা ঘোষণা দিয়েছেন, এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে তারা একে অপরের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলবেন। ভারতের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে , প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন। নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এটা হবে বিদেশের মাটিতে কোনো নেতার সঙ্গে তার প্রথম বৈঠক। সেই বিবেচনায় এই বৈঠক ফলপ্রসূ হবে বলে অনেকে মনে করছেন। একই ধরনের ঘোষণা চীন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকেও এসেছে। তাদের ঘোষণার মর্মার্থ এটাই যে এই ত্রিদেশীয় নেতারা তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আলোচনায় চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধের বিষয়টিই মূলত গুরুত্ব পাবে। কারণ চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের হাত থেকে বাঁচতে তার শক্তি বৃদ্ধিতে অন্যান্য বড় শক্তির সমর্থন প্রয়োজন। কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখন বিভিন্ন দিক থেকে চীনকে ঘায়েল করতে চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রেখেছে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতেও নাক গলাচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই— চীনকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে ফেলা। তবে চীন হুঁশিয়ারি আরোপ করে বলেছে, তাদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো পদক্ষেপ কোনো রাষ্ট্র নিলে তারাও হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। এর সমুচিত জবাব দিতে তারাও জানেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে অলিখিত এই তিন শক্তির ‘জোট’ গড়তে ভারত কেন মাথা ঘামাচ্ছে? এর উত্তরে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী কোনো প্রাপ্তিই জোটেনি ভারতের থলেতে। আরো পরিষ্কার করে বললে ভারতের ক্ষুব্ধ হওয়ার পিছনের কারণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘জেনারেইলাজড ট্রেডিং প্রেফারেন্স’-এর সুবিধা হারানো। এটি নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য নিঃসন্দেহে একটি দুঃসংবাদ।

আবার বেইজিংয়ের উপর চাপ আরো বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ২০ হাজার কোটি ডলার চীনা পণ্যের উপর শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করেছে। ফলে দিনে দিনে বাড়ছে এই শুল্ক-যুদ্ধের উত্তাপ। আর এসব কারণেই তিন দেশ ওই বৈঠকের ফাঁকে তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা তুলে ধরবেন। জানাবেন তাদের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার কথা। এছাড়া চীন এরই মধ্যে মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানিয়েছেন, আমেরিকা লড়তে চাইলে, তাঁরাও শেষ পর্যন্ত লড়বেন। ভারত প্রকাশ্যে এ ধরনের কোনো হুমকি না দিলেও এই সম্মেলনে তারাও যে তাদের ক্ষত তুলে ধরতে চাইবেন সেটাই স্বাভাবিক। সে বিবেচনায় ভারতের কোনো যুদ্ধংদেহী মনোভাব না থাকলেও বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে অক্ষ গড়ে পরোক্ষভাবে ওয়াশিংটনকে চাপে রাখতে চাইছে নয়াদিল্লি।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন