ঢাকা বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
২৮ °সে


শেষ রক্ষা হবে মাদুরোর?

শেষ রক্ষা হবে মাদুরোর?

অলক বিশ্বাস

ভেনিজুয়েলার চলমান অস্থিরতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো ভেনিজুয়েলার স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদোকে স্বীকৃতি দিয়ে সামরিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়ার পর দেশটির ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া, চীন, ইরান ও তুরস্ক। ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে চীন-রাশিয়া মিত্র জোটের নতুন করে বিবাদে জড়ানোর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তেলনির্ভর দেশ ভেনিজুয়েলার তেল উত্পাদনও উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ত্রাণের মতো বিদেশি সাহায্যের প্রতি নির্ভরতা বাড়ছে দিন দিন। ভেনিজুয়েলায় চলমান রাজনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

ভেনিজুয়েলায় বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুয়াইদো নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো তাকে স্বীকৃতি দেয়। গুয়াইদোর অভ্যুত্থান প্রচেষ্টারও সমর্থন জানায় যুক্তরাষ্ট্র। অবশ্য বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সেনাবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ সমর্থন লাভ করায় গুয়াইদোর সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। এরপর ভেনিজুয়েলার প্রতি একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও কার্গো ফ্লাইট স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিজ এক ঘোষণায় বলেছে, ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনা ফ্লাইট চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ভেনিজুয়েলার বিদ্যমান পরিস্থিতি যাত্রী, বিমান ও ক্রুদের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। ফলে দেশটিতে মার্কিন বিমান চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে। তবে ভেনিজুয়েলা পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে এই সিদ্ধান্ত নতুন করে বিবেচনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন কঠোর অবস্থানের জবাবে মাদুরোও কড়া ভাষায় জবাব দেন। মাদুরো বলেন, ভেনিজুয়েলা কখনোই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে মাথানত করবে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পক্ষ থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে ভেনিজুয়েলার বর্তমান সরকারের। বিরোধীদলীয় আইন প্রণেতাদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের ত্রুটিযুক্ত সিদ্ধান্তের কারণে দেশটির সমালোচনা করেছে ইইউ। বিচার বিভাগের এই পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণের কারণে ভেনিজুয়েলার চলমান রাজনৈতিক সংকট আরো বেশি জটিল আকার ধারণ করবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে ভেনিজুয়েলায় বিদেশি হস্তক্ষেপ, একতরফা নিষেধাজ্ঞা, বলপ্রয়োগ কিংবা বলপ্রয়োগের হুমকির বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এক সাক্ষাত্কারে শি জিনপিং বলেন, সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভেনিজুয়েলাকে স্বাভাবিক উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে আনতে চীন সব ধরনের সহায়তা করবে।

চীনের মতো রাশিয়াও ভেনিজুয়েলার ক্ষমতাসীন সরকারের পাশে থাকার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ভেনিজুয়েলায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও। ভেনিজুয়েলায় চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে মার্কিন আগ্রাসনের পরিণাম খুবই ভয়াবহ হবে বলে ঘোষণা দেন পুতিন। তিনি দাবি করেন, এমন পদক্ষেপের সমর্থন মার্কিন মিত্ররাও করবে না।

ভেনিজুয়েলার সেনাবাহিনীসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এখনো মাদুরোকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়া-চীনের মতো পরাশক্তিগুলোও প্রকাশ্যে মাদুরোর পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে দারুণ চাপের মধ্যে আছেন মাদুরো। সেই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপও সামাল দিতে হচ্ছে তাকে। তাই শেষ পর্যন্ত মাদুরোর ভাগ্যে কী ঘটে সেটা কেবল সময়-ই বলতে পারে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন