ঢাকা বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
২৭ °সে


ব্রিটেনে বিতর্ক জিইয়ে রাখলেন ট্রাম্প!

ব্রিটেনে বিতর্ক জিইয়ে  রাখলেন ট্রাম্প!
যুক্তরাজ্য সফরে সস্ত্রীক ডোনাল্ড ট্রাম্প

তালেব রানা

নানা উদ্ভট ও বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে বলা চলে সব সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গেল সপ্তাহে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাজ্যে গিয়েও সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন ট্রাম্প। যদিও তার সফরের আগেই ধারণা করা হচ্ছিলো, এবারো কিছু বিতর্কের জন্ম দেবেন তিনি।

কয়েকদিন আগেই লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ‘নারী ও ইসলাম সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভুল ধারণার’ তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘বিংশ শতাব্দীর ফ্যাসিস্টদের’ সাথে তুলনা করেন। আর এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, সাদিক খান একজন ‘স্টোন-কোল্ড লুজার’। এ কারণে সাদিক খানের সঙ্গে যে তুমুল বাগযুদ্ধ হবে সেটা আগে থেকেই অনুমেয় ছিল। সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিশ্বের জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেন সাদিক খান। জবাবে ট্রাম্প বলেন, সাদিক খানকে কখনোই তার ভালো মেয়র মনে হয়নি। বরং তাকে নেতিবাচক শক্তি বলে অভিহিত করেন তিনি।

বিরোধী দল লেবার পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতাসহ বেশ কিছু রাজনীতিবিদ ট্রাম্পের সম্মানে দেওয়া নৈশভোজ বয়কট করার কথা জানান। লন্ডনে বিক্ষোভকারীরা তার সফরের প্রতিবাদ জানাতে এমন একটি মানবাকৃতির বেলুন উড়ান যাতে ট্রাম্পকে এক অতিকায় ন্যাপি-পরা শিশু হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এছাড়াও সফরের আগে রাজপরিবারের সদস্য মেগান মার্কেলকে নিয়ে ট্রাম্পের করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথের নাতি প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী, ডাচেস অব সাসেক্স, মেগান মার্কেলকে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তাকে ‘ন্যাস্টি’ অর্থাত্ খারাপ বলার একটি টেপ প্রকাশ করেছে এক ব্রিটিশ পত্রিকা। তবে এরকম কথা অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প।

তবে ট্রাম্পের সফরে মূল বিতর্কের জন্ম হয়েছে রাজপ্রাসাদেই। সফরের প্রথম দিন বাকিংহ্যাম প্রাসাদে রানি এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। সেখানে রাজকীয় নৈশভোজে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের পিঠে হালকাভাবে হাত দিতে দেখা যায় ট্রাম্পকে। এরপরই শুরু হয়ে যায় বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, এই আচরণের ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কি ব্রিটেনের রাজপরিবারের প্রোটোকল ভেঙ্গেছেন? অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে রানির কঠোর পরিশ্রম, যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সবই উল্লেখ করেন ট্রাম্প। কথা শেষ হতে উঠে দাঁড়ান ট্রাম্প। তার পরেই রানির পিঠে সেই হাল্কা চাপড়। রানি অবশ্য তাতে একেবারেই নির্বিকার ছিলেন। কিন্তু তাতে বিতর্ক থামেনি। একটি ব্রিটিশ পত্রিকা জানিয়েছে, রানিকে স্পর্শ করার বিষয়টি বরাবরই নিয়ম-বহির্ভূত। রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করতে হবে, তার অলিখিত কিছু নিয়ম আছে। এটিও তার মধ্যে পড়ে।

এখানেই শেষ নয়। গতবার ব্রিটেন সফরে উইনসরে গিয়ে রানিকে ট্রাম্প উপহার দিয়েছিলেন একটি ঘোড়ার মূর্তি। এবার রানি সেই মূর্তিটি দেখান ট্রাম্পকে। জিজ্ঞেস করেন, কিছু কি মনে পড়ছে? কিছুটা ‘বিব্রত’ দেখায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে, বলে ওঠেন না। ব্রিটিশ পত্রিকার খবর, মূর্তিটা দেখে ট্রাম্পের কিছুই মনে না পড়ায় ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। মূর্তির দিকে তাকিয়ে মেলানিয়াই বলেন, আমার মনে হয় এটা আমরাই রানিকে দিয়েছিলাম। এই বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টা-সমালোচনার জোয়ার সোশ্যাল মিডিয়ায়। গতবার ব্রিটেন সফরে রাজকীয় গার্ড অব অনারের সময় রানি এলিজাবেথের আগে আগে হেঁটেছিলেন ট্রাম্প। যা নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়। ট্রাম্প অবশ্য এসবে কর্ণপাত করে একেবারেই সময় নষ্ট করেননি। তিনি মহা উত্সাহে টুইট করে জানিয়েছেন, লন্ডন সফর দারুণ হচ্ছে। রানি আর রাজপরিবারের সবাই অসাধারণ। ব্রিটেনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক বেশি শক্তিশালী।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন