ঢাকা বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬
২৭ °সে

লোকসংস্কৃতি উত্সব

‘অস্তিত্বের সন্ধানে, শিকড়ের টানে’

‘অস্তিত্বের সন্ধানে, শিকড়ের টানে’

মুহাম্মদ দিদারুল আলম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

লোকসংস্কৃতি আমাদের ঐতিহ্য, লোক উত্সব আমাদের প্রেরণা। অথচ ভোগবাদের বিশ্বায়নের এই যুগে অনেকের কাছে লোকসংস্কৃতি বা লোক উত্সব যেন গ্রহান্তরের কোনো বিষয়। গ্রামবাংলার আবহমান সংস্কৃতিকে নগরজীবনে অভ্যস্ত মানুষের কাছে তুলে ধরতে চট্টগ্রাম নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দু-দিনের লোকসংস্কৃতি উত্সব। ‘অস্তিত্বের সন্ধানে, শিকড়ের টানে’—শ্লোগান নিয়ে সমাজ সমীক্ষা সংঘ সপ্তমবারের মতো এই উত্সবের আয়োজন করে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির অনিরুদ্ধ মুক্তমঞ্চে দু-দিনব্যাপী লোকসংস্কৃতি উত্সবের উদ্বোধন করা হয়। লোকনৃত্য, চট্টগ্রামের চিরায়ত আঞ্চলিক গান, মাইজভাণ্ডারি গানসহ নানা পরিবেশনায় উত্সবমুখর হয়ে ওঠে শিল্পকলা প্রাঙ্গণ।

উত্সবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেন, ‘আমাদের লোকসংস্কৃতি আজ হুমকির মুখে। আমাদের লোকায়ত সংস্কৃতি আমাদেরই রক্ষা করতে হবে, কোনোভাবে তার ব্যত্যয় হলে আমাদের অস্তিত্ব চরম সঙ্কটের মুখে পড়বে। নতুন প্রজন্মকে নিজের কৃষ্টি-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সম্বন্ধে জানতে হবে এবং জাতিগত বিকাশের পথ খুঁজে বের করতে হবে।’ তিনি অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ লড়াইয়ে সকলকে আপোষহীন হওয়ার আহ্বান জানান। ওডিসি অ্যান্ড টেগর ড্যান্স মুভমেন্টের শিল্পীদের উদ্বোধনী নৃত্যের মাধ্যমে উত্সবের সূচনা হয়। উদ্বোধনী দিনে আলোচনা সভা শেষে প্রমা অবন্তীর পরিচালনায় লোকনৃত্য পরিবেশন করে ওডিসি অ্যান্ড টেগর ড্যান্স মুভমেন্টের শিল্পীরা। এরপর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান পরিবেশন করেন শিল্পী জয় সেন হিরো ও ববি মনি, মাইজভাণ্ডারি গান পরিবেশন করে শিল্পী সৈয়দ মানিক ও তার দল। সবশেষে বাউল গান পরিবেশন করেন আরশিনগর সংগীত একাডেমি, কুষ্টিয়ার বাউল শিল্পীবৃন্দ। উত্সবের প্রথমদিন উত্সর্গ করা হয় বিশিষ্ট নাট্যকার, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমেদকে। এছাড়া প্রথমদিন সকাল ৯টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রণব মিত্র চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চসিক কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মিঠু কুমার শীল ও সৈকত রুদ্র সেতু।

মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চুর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় অতিথি ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিহাব চৌধুরী বিপ্লব। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন দেবাশীষ রায় ও সাইফুদ্দিন আহমেদ মিনহাজ। উত্সব ঘোষণা পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য চিন্ময় দাশ। এছাড়া অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এফ কবির মানিক ও এইচ এম সোহেল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কল্লোল দাশ। উত্সবের দ্বিতীয় দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠানমালায় ছিল উখিয়া সাহিত্য কুঠিরের পরিবেশনায় হঁলা, বান্দা, ভাইট্টালি, হাইল্ল্যাগীতি, মুরারকূইল্যা ও হালদা ফাডা গান। বিকেল সোয়া ৪টায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষানুরাগী মো. আজিজুর রহমান। এরপর লোকসংস্কৃতি উত্সব উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। উত্সবের দ্বিতীয় দিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল সুনামগঞ্জ থেকে আগত দেবদাস চৌধুরী ও তুলিকা ঘোষ চৌধুরীর পরিবেশনায় হাসন রাজা, শাহ আব্দুল করিম ও রাধারমণের গান। এরপর নান্টু দেবনাথ ও প্রিয়া ভৌমিকের পরিবেশনায় ছিল পল্লীগীতি। আদিবাসী নৃত্য পরিবেশনায় ছিল কক্সবাজার থেকে আগত আরিয়ান রাখাইন শিল্পীগোষ্ঠী। সবশেষে সংগীত দল মাটির গানের পরিবেশনায় ছিল ভাদু, টুসু, ঝুমুর, নাচনী, লেটো, চটকা ও আলকাপ।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৮ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন