ঢাকা সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৭ °সে

মুজিববর্ষে রঙের উত্সব ‘ফাগুয়া’

মুজিববর্ষে রঙের উত্সব ‘ফাগুয়া’

নজরুল ইসলাম মুহিব

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

বাংলাদেশের চা বাগানগুলোতে নানা গোষ্ঠীর বাস। অখণ্ড ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, মাদ্রাজ, তেলেঙ্গানাসহ বিভিন্ন প্রদেশ থেকে এসে আবাস গড়া চা শ্রমিকদের যেমন রয়েছে নিজেদের পৃথক ভাষা, তেমন পৃথক সংস্কৃতিও। ভাষা ও সংস্কৃতিতে একেকটি চা বাগান যেন একেকটি দেশ। তবে ফাল্গুনের ‘ফাগুয়া’ উত্সবে এসে সবাই এক হয়ে তারা মেতে ওঠে রঙের উত্সবে। দরিদ্র তবে পরিশ্রমী চা জনগোষ্ঠীর ফাগুয়াকে আরও রঙিন করে তুলতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রথমবারের মতো ফাগুয়া উত্সবের আয়োজন করলো ফাগুয়া উত্সব উদযাপন পরিষদ। চা জনগোষ্ঠী থেকে জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রে নেতৃত্বে ওঠে আসা ব্যক্তিদের সম্মিলনে শ্রীমঙ্গল শহরের অদূরে ফুলছড়া চা বাগানের মাঠে আয়োজন করা হয় এই ফাগুয়া উত্সব।

গত শুক্রবার বিকেলে ফুলছড়া মাঠে নানা বয়সী হাজারও নারী পুরুষ আবির নিয়ে রঙের খেলায় মেতে উঠলে সবুজ চায়ের বাগানের হূদয় কিছুক্ষণের জন্য হয়ে ওঠে নানারঙে রক্তিম।

উত্সবে কেবল রঙের হোলিই নয়, ছিল ভিন্ন সংস্কৃতির অন্তত ১৩টি পরিবেশনা। পত্রসওরা, নৃত্যযোগী, চড়াইয়া নৃত্য, ঝুমর নৃত্য, লাঠি নৃত্য, হাঁড়ি নৃত্য, পালা নৃত্য, ডং ও নাগরে, ভজনা, মঙ্গলা নৃত্য, হোলিগীত, নিরহা ও করমগীত একসঙ্গে উপভোগ করতে পেরে যেমন আনন্দে ভেসেছেন চা শ্রমিকরা তেমনই অভিভূত হয়েছে উত্সবে আসা নাগরিক সমাজও।

উত্সবে আসা সাংবাদিক আকমল হোসেন নিপু বলেন, ‘একসঙ্গে নৃত্যগীতের এত বৈচিত্র্যপূর্ণ আয়োজন দেখে অন্য সবার মতো আমিও অভিভূত। আমার বিশ্বাস চা বাগানের সংস্কৃতি এই অঞ্চল তথা দেশের একটি সম্পদ। এটি চর্চা ও সুরক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। এই উত্সব অব্যাহত রাখতে হবে।

সিলেট থেকে উত্সবে যোগ দিতে আসা তরুণী কাজল গোয়ালা বলেন, ‘আমি নিজে উদীচীর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু চা বাগানেই যে এত নৃত্য-গীতের সমাহার এখানে না এলে আমার জানা হতো না। নিরহা, করমগীত আমি প্রথমবার দেখলাম।

বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন স্থানীয় সাংসদ, সাবেক চিফ হুইপ আব্দুস শহীদ। তিনি বলেন, ‘চা বাগান একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকা। সরকার চা শ্রমিক এবং তাদের সংস্কৃতির সুরক্ষায় অত্যন্ত আন্তরিক।’

আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব কালিঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালা বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এই আয়োজন হলেও আয়োজনটি জাতির জনককে উত্সর্গ করা হয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে চা শ্রমিকদের এটি একটি বিশেষ আয়োজন। আশা করি পরবর্তী বছর আরও বড় আয়োজনে ফাগুয়া উত্সব আয়োজন করা হবে।’

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০১ জুন, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন