ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে


ইহরাম থেকে আরাফাত

ইহরাম থেকে আরাফাত

(পূর্ব প্রকাশের পর)

এছাড়া আমাদের এলাকায় মাটির মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি চমত্কার পরিবেশ। নিয়মিত নামাজ, রোজা, ধর্মচর্চার প্রতি এলাকার মুসল্লিদের আগ্রহ ও আন্তরিকতা সেই মাটির তৈরি মসজিদকে গড়ে তুলেছে তিন তলারও অধিক সুুউচ্চ শীতল নিয়ন্ত্রিত ইমারত। রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মিনার। সেখান থেকে সুমধুর আজানের ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। মসজিদের অজুখানা থেকে শুরু করে সাউন্ড সিস্টেম, ডেকোরেশন, মুসল্লিদের বসার স্থান ইত্যাদি মসজিদকে সৌন্দর্যময় করেছে। আমি এই এলাকায় বসবাস করি সেই ষাটের দশক থেকে। আমার বাবাও এই মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন। সেই থেকে মাটির মসজিদের সবার সঙ্গে আমাদের সুম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে। ছেলেরা থেকে নাতিরা এই মসজিদের হুজুরদের কাছে নামাজ, কোরআন পাঠ শিখেছে। আমার মা সবসময় হুজুরদের আপ্যায়ন করতেন, খোঁজখবর নিতেন। তাদের সাহায্য সহযোগিতা করতেন। এখনো আমার বাবা-মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী এই মাটির মসজিদেই অনুষ্ঠিত হয়। তবে সবকিছু সম্ভব হয়েছে মাটির মসজিদের ইমাম মওলানা মাহবুবুর রহমান সাহেবের সার্বিক নেতৃত্বে। তার কণ্ঠ মাধুর্যের বয়ান সবাইকে করেছে আকৃষ্ট এবং মুগ্ধ। তিনিও একাধিকবার হজ করেছেন। প্রতি বছর এলাকার থেকে অনেকে হজে যান। মাটির মসজিদের মোদাররেস মওলানা নূরুল আমীন সাহেবও একাধিকবার মোয়াল্লেম হয়ে অনেক হাজিদের নিয়ে হজে গেছেন এলাকার একজন নাগরিক হিসেবে। মাটির মসজিদের মুসল্লি হিসেবে এসব কিছুই আমাকে প্রভাবিত করেছে। মাটির মসজিদে জুমার নামাজ, ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে একাত্ম হতে সবসময় সচেষ্ট হয়েছি। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পল্লীমা সংসদের বন্ধুদের মধ্যে ময়না, নাসিম, মোশাররফ, হাফিজ ও পল্লীমার জীবনসদস্য বন্ধু সাবেক ক্রিকেটার রকিবুল হাসান, অধ্যাপক শামীম মিসির, মনির হোসেনসহ অনেকের হজব্রত পালন আমাকে উত্সাহিত করে। বিশেষ করে একটি বিষয় আমাকে বেশি স্পর্শ করে। সেটি হচ্ছে আমার ভাড়াটিয়া সাখাওয়াত/লাইলু তাদের ছোট্ট শিশুটিকে নিয়ে পবিত্র হজব্রত পালন করে। ফিরে এসেই সাখাওয়াত অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মৃত্যুবরণ করেন। সেই মর্মান্তিক ঘটনাও আমাকে হজব্রত পালনে প্রভাবিত করে। অন্যদিকে আরেকটি ঘটনা উল্লেখ না করলে আমার হজ যাত্রার প্রেক্ষাপট বর্ণনা অসম্পন্ন থাকবে। যেমন আমার চোখের সামনে আজও ভেসে ওঠে আমার পীরবাবা ক্বারি আবদুর রশিদ জৌনপুরীর হজযাত্রার সেই দৃশ্য। যার সফরসঙ্গী হয়েছিলেন তার ঘনিষ্ঠ মুরিদ সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদ, বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ড. হারুন-উর-রশিদসহ আরো কয়েকজন। পীরবাবা তখন কর্মরত ছিলেন আমীন কোর্টে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল বুক এজেন্সিতে। আমি নিয়মিত সেখানে যেতাম। এছাড়া ঢাকার পূর্বমণিপুর বাইতুর রহীম জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতেন। সেখানে একাধিকবার আমার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। এছাড়া সৈয়দ আবদুর রশিদ আহমেদের মুরিদ ছিলেন সাবেব মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারওয়ার মিলন, জে. (অব.) করিম, সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলী কর্নেল (অব.) আতাউর রহমান, ধানমন্ডির নবী ভাই, দৈনিক বাংলার ফারুক ভাই, অ্যাস্ট্রোলোজার টি আহমেদসহ আরো অনেকে। রাজু ভাইয়ের মাধ্যমেই আমার পীরবাবার সঙ্গে পরিচয় সেই ১৯৭৭ সালে। তারপর অনেক কথা, অনেক ঘটনা যা পরবর্তীকালে বিস্তারিতভাবে বলা যাবে। এখন শুধু হজ প্রসঙ্গে বলতে চাই। সেদিন পীরবাবার সঙ্গে আমার হজে যাওয়ার আশা ছিল কিন্তু সম্ভব হয়নি। যখন সম্ভব হলো, তখন তিনি আর বেঁচে নেই। (চলবে)

লেখক :বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন