ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে


ঐতিহ্যবাহী গফরগাঁও তেরশ্রী মসজিদ

ঐতিহ্যবাহী গফরগাঁও তেরশ্রী মসজিদ

হযরত শাহজালালের (রহ) আগমনের ২৫০ বছর আগে ৪৪৫ হি./ ১০৫৩ খ্রি. হযরত শাহ্ মুহাম্মদ সুলতান কমর উদ্দিন রুমি (রহ) বৃহত্তর ময়মনসিংহে ইসলাম প্রচার করেন। মুঘল সেনানায়ক গাফফার খান স্মরণে গফরগাঁও নামকরণ। মুঘল সেনাপতি মানসিংহ ও বাংলার বারো ভূঁইয়াদের নেতা ‘মসনদে আলা’ ঈসা খাঁর সম্মুখ যুদ্ধটি গফরগাঁওয়ের বাশিয়া গ্রামে সংঘটিত হয়েছিল। গফরগাঁওয়ের মসজিদের মিনারে মিনারে ধ্বনিত হয় তাওহিদ-রিসালাতের অমীয়বাণী। তা-ই আজো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ৬শ’ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য, গফরগাঁওয়ের তেরশ্রী জামে মসজিদ। উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের তেরশ্রী গ্রামে মসজিদটির অবস্থান। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকীকরণের ছোঁয়া পেলে মসজিদটি হয়ে ওঠবে পর্যটনের গুরুত্বে আকর্ষণীয়।

ইংরেজি ১৪শ সাল তথা মুঘল আমলে এক গম্বুজ বিশিষ্ট তেরশ্রী জামে মসজিদ তৈরি করা হয়। আয়তন ৪৮৪ বর্গফুট (২২– ২২ ফুট)। মসজিদের চার কোণে খাম্বার ওপর চারটি, মাঝের দু’পাশে খাম্বার ওপর চারটিসহ মোট ৮টি ছোট মিনার রয়েছে। দেয়ালের ব্যাস ৪ ফুট থেকে ৬ ফুট। মসজিদের দু’পাশে দু’টি দরজা ও দু’টি করে জানালা রয়েছে। মসুর ডালের মিশ্রণ ও চুণ-সুরকির গাঁথুনিতে গড়া তেরশ্রী মসজিদ নির্মাণে ব্যবহূত হয়েছে পাতলা ইট ও মূল্যবান টালি। মসজিদের পশ্চিম দেওয়ালের মেহরাবে রয়েছে ছয়টি কুঠরি। মসজিদের অভ্যন্তরীণ অলঙ্করণে দেয়ালে দেয়ালে শোভিত হয়েছে নানান গুল্ম, লতাপাতা ও ফুলেল কারুকাজ। অথচ আজ ঐ সৌন্দর্য সুষমা অযত্ন অবহেলায় কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। শিলালিপিটিও এখন অস্পষ্ট ও মলিন। অনেক আগেই মসজিদের অভ্যন্তরীণ অলঙ্করণ খসে গেছে, আর ইটগুলোর ক্ষয়ে ক্ষয়ে ধ্বংসের প্রান্ত সীমায় পৌঁছেছে নীরব অভিমানে। তবু এখনও ঝুঁকিপূর্ণ এ মসজিদের ভেতরেই দু’কাতার করে স্থানীয় মুসল্লি ও দর্শনার্থীগণ নিয়মিত নামাজ আদায় করেন। সর্বসাধারণের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও অর্থায়নই পারে বৃহত্তর ময়মনসিংহের গর্ব ও ৬০০ বছরের ঐতিহ্য গফরগাঁওয়ের তেরশ্রী মসজিদকে বিলুপ্তির করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে।

লেখক :সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন