ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে


চলাফেরায় ইসলামের নীতি

চলাফেরায় ইসলামের নীতি

১. রাস্তায় চলাকালীন ধীরস্থিরে বিনয়ের সঙ্গে পা রাখা চাই। মহান আল্লাহর বাণী হচ্ছে—

‘রাহমান’ (আল্লাহর) এর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্র্রভাবে চলাফেরা করে —’(সুরা-ফুরকান : ৬৩)

২. দম্ভভরে চলাফেরা করা মহান আল্লাহ পছন্দ করেন না। তাই তিনি ইরশাদ করেন—

‘এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে চলাফেরা-বিচরণ করো না ; নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো উদ্ধত , অহংকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা-লোকমান : আয়াত নম্বর-১৮) অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেছেন—‘ভূ-পৃষ্ঠে দম্ভভরে বিচরণ করো না : তুমি তো কখনোই পদভরে ভূ-পৃষ্ঠ বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনোই পর্বতসম হতে পারবে না।’ (সুরা-বনী ইসরাঈল : ৩৭)

৩. পথিমধ্যে চলাফেরা কালীন এদিক-ওদিক উঁকি-ঝুঁকি করা এবং গায়রে-মাহরাম নারীদের প্রতি তাকানো নিষেধ। মহান আল্লাহর বাণী হচ্ছে— ‘আপনি মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে (নিচু করে চলে)’—(সুরা-নূর : আয়াত নম্বর-৩০)

৪. মহানবি (স)-এর পবিত্র অভ্যাস ছিল, তিনি পথচলা কালে এমন গতিতে চলতেন যেমন কি না কেউ উঁচুস্থান হতে ঢালুর দিকে আসছে। এমন ভঙ্গিতে চলাকে ইংরেজিতে বলে ‘ব্রিস-ওয়াক’-(Brisk Walk) আর এটিকে মানব স্বাস্থ্যের সুস্থতার পক্ষে হাঁটার সর্বোত্তম ধারা-প্রক্রিয়া বলা হয়।

৫. নারীদের বাজনা বা শব্দ হয় এমন অলংকার উদাহরণত, পায়ের খাড়ু বা ঘুঙ্ঘুর ইত্যাদি পরিধান করে চলার ক্ষেত্রে মাটিতে যেন জোরেজোরে পা ফেলা না হয়। কারণ, তার শব্দে শ্রবণকারীদের মনে কু-মন্ত্রণা জাগতে পারে। মহান আল্লাহর বাণী হচ্ছে— ‘তারা যেন তাদের গোপন আভরণ প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে।’ (সুরা-নূর : আয়াত নম্বর-৩১)

৬. ভদ্র নারী যখন ঘর থেকে বের হবে তখন কোনো বড়ো চাদর কিংবা বোরকার দ্বারা নিজের সমস্ত শরীর ঢেকে নেবে। যার কারণে তার আসল পোশাক ও রূপ-সৌন্দর্যের সবকিছু ঢাকা পড়বে। চাদর বা স্কার্প/নেকাব দ্বারা মুখমণ্ডল এমনভাবে আবৃত করতে হবে যেন পর-পুরুষ রূপ-সৌন্দর্য বিষয়ে অবহিত হতে না পারে। মহান আল্লাহর বাণী হচ্ছে— ‘হে নবি! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলে দিন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। তাতে তাদেরকে চেনা (এরা নারী) সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্ত্যক্ত করা হবে না।’ (সূরা আহযাব : আয়াত নম্বর-৫৯) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে—‘আর মুমিন নারীদেকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিচু করে চলে ও তাদের লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে ; তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশ থাকে তা ব্যতীত তাদের আভরণ (অলংকার বা আকর্ষণীয় পোশাক) প্রদর্শন না করে, তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে, আর তারা যেন স্বামী, ...ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে’ (সূরা-নূর : আয়াত নম্বর-৩১)

৭ . নারীদের পক্ষে কোনো সুগন্ধী ব্যবহার করে রাস্তায় বের হওয়া ঠিক নয়। এর দ্বারা অন্যের মনে আকর্ষণ জাগে; এবং নারীর এমন মনোভাব প্রকাশ পায় যে, লোকজন যেন তার প্রতি মনোযোগ দেয়।

৮. পথিমধ্যে নারী-পুরুষের মিলেমিশে একাকার হয়ে চলাফেরা করা ঠিক নয়; একইভাবে কোনো পুরুষের দুজন নারীর মাঝে দিয়ে চলাও ঠিক নয়। নারীদের জন্য সমীচীন , তারা রাস্তার একপাশ দিয়ে চলবে। অথচ পুরুষদের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো—তারা রাস্তার মধ্যখান দিয়ে (গাড়ি চলাচলের রাস্তা না হলে) চলবে! মহানবি (স) নারীদেরকে রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ)

৯. রাস্তা দিয়ে চলাকালীন আদব ও ভদ্রতার প্রতি লক্ষ্য রাখবে। এমনকি যদি বোঝা যায় যে , নামাজের জামাত শুরু হয়ে গেছে, তাহলে সেক্ষেত্রেও দৌড়ে তাতে শরিক হতে যাবে না। নবি করিম (স) ইরশাদ করেছেন, ‘যদি মসজিদে ইকামতের তাকবীর শুরু হয়ে যায় অথবা জামাত দাঁড়িয়ে যায় তা হলে দৌড়ে গিয়ে তাতে শরিক হবে না। বরং তোমরা ধীরেস্থিরে, ভদ্রভাবে এসে জামাতে শরিক হবে।’ (সহীহ মুসলিম)

১০. গলিপথে ও চিপা-চাপায় চলতে গিয়ে পবিত্র ও পরিচ্ছন্নতার নিয়তে পায়ে জুতো পরিধান করবে। নবি করিম (স) ইরশাদ করেছেন, ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে জুতো পরিধান করো, কারণ জুতো পরিধানকারীও একরকম যেন বাহনে আরোহী অবস্থায় থাকে’। (আবু দাউদ)

১১. জুতো উভয় পায়ে পরিধান করতে হবে অথবা উভয় পা জুতোবিহীন থাকবে। এমন যেন না হয় যে, একপায়ে জুতো এবং অন্য পা জুতো ছাড়া। (আবু দাউদ) তবে গৃহাভ্যন্তরে কখনো প্রয়োজনে উক্তরূপে দুচার কদম হাঁটলে তাতে সমস্যা নেই। (তিরমিযী) মহানবি (স) নিজগৃহে খালি পায়ে চলেছেন মর্মেও প্রমাণ পাওয়া যায়।

লেখক : মুফতি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন,

বায়তুল মোকাররম, ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন