ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে


মিতব্যয়ী হতে নির্দেশ দেয় ইসলাম

মিতব্যয়ী হতে নির্দেশ দেয় ইসলাম

ইসলাম মানব জাতির কল্যাণের ধর্ম। সেই কল্যাণের আভাস পাওয়া যায় ধনী-দরিদ্রের সমঝোতার মাধ্যমে। আর এই সমঝোতা আসে ধনীদের সম্পত্তি দরিদ্রের মাঝে বণ্টনে। কিছু মানুষ সম্পত্তির পাহাড় জমাবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত (অপচয়) খরচ করার পরও, আর কিছু মানুষ অসহায় জীবন কাটাবে, তা ইসলাম সমর্থন করে না। তাই সবাইকেই জীবন চালাতে সম্পত্তি ব্যয় করতে হবে হিসাব করে। এই হিসাবে খরচ যেন বেশি না হয়, আবার যেন কৃপণতাও না হয়। অর্থাত্, খরচটা যেন হয় মধ্যমপন্থার। আর এই মধ্যমপন্থার খরচ করাকে মিতব্যয় বলা হয়। শুধু খরচের ক্ষেত্রেই মিতব্যয়ী হলে যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন কথাবার্তা, হাঁটাচলা, খানাপিনা—এক কথায় সর্বক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা।

সর্বপ্রথম মিতব্যয়িতা শুরু করতে হবে হাঁটাচলা ও কথাবার্তা দিয়ে। কোরআনের ভাষায়, ‘পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন করো এবং কণ্ঠস্বর নিচু করো।’ (সুরা লোকমান :১৯) বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ ক্ষুধার্ত এবং অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। অথচ সমাজের কিছু মানুষ আছে, যারা এত পরিমাণ খাদ্য নষ্ট করছে, যা দিয়ে এসব ক্ষুধার্তের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব। আর সে জন্যই খাদ্যের ক্ষেত্রেও মধ্যমপন্থা অবলম্বন কিংবা অপচয় থেকে দূরে থাকার নির্দেশ কোরআনে রয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘তোমরা খাও এবং পান করো, আর অপচয় কোরো না; তিনি (আল্লাহ) অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আরাফ :৩২) শুধু তাই নয়, অপচয়কারীদের মহান রব্বুল আলামিন শয়তানের ভাই বলে অভিহিত করেছেন। কোরআনের ভাষায়, ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ (সুরা বনি ইসরাইল :২৭)

প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস মুমিনদের জন্য কাম্য নয়। তাই তা মিতব্যয়িতার অংশ নয়, বরং শয়তান এর অংশীদার। কেননা, তাতে রয়েছে দরিদ্রের হক। হাদিসে এসেছে, হজরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স) বলেন, ‘কারো ঘরে একটি বিছানা তার জন্য, অপরটি তার স্ত্রীর জন্য, তৃতীয়টি মেহমানদের জন্য এবং চতুর্থটি শয়তানের জন্য।’ (সহিহ মুসলিম) যেহেতু বিলাসিতার কোনো শেষ নেই, তাই ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির জীবনযাত্রার প্রতি তাকালে কেউই নিজের আয় দিয়ে তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে না। তার আয় অভাব ও চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত মনে হবে। পৃথিবীর সমুদয় সম্পদের দ্বিগুণও তার অভাব পূরণ করতে পারবে না। ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে থাকা চাহিদাই তার জীবনের হতাশা ও উদ্বেগের কারণ হবে। হাদিসে এসেছে, ‘হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (স) বলেন, ‘দুনিয়ায় এমনভাবে জীবন যাপন করো, যেন তুমি বিদেশি অথবা পথিক।’ (সহিহ বোখারি) পবিত্র কোরআনুল কারিমে অপচয় ত্যাগের কঠোর নির্দেশ জারি করে ইরশাদ রয়েছে। রাসুলে করিম (স)ও অপব্যয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ছিলেন। ‘একদা রাসুলুল্লাহ (স) হজরত সা’দ (রা)কে অজুতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যয় করতে দেখে বললেন, ‘হে সা’দ! অপচয় করছ কেন? হজরত সা’দ (রা) বললেন, হে আল্লাহর নবি (স), অজুতেও কি অপচয় হয়? নবীজি (স) বললেন, হ্যাঁ। প্রবহমান নদীতে বসেও যদি তুমি অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করো, তা অপচয়।’ (সহিহ ইবনে মাজাহ)

অপচয় ও কৃপণতা কোনোটিই অনুমোদিত নয় ইসলামে। যারা অপচয় ও কৃপণতার পথ পরিহার করে মিতব্যয়িতার পথ অবলম্বন করবে; আল্লাহ তাদের (মিতব্যয়ীদের) পরিচয় হিসেবে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করেছেন, ‘(রহমানের বান্দা তো তারাই) যারা অপব্যয়ও করে না আবার কৃপণতাও করে না। তাদের পন্থা হয় উভয়ের মধ্যবর্তী (মিতব্যয়ী)।’ (সুরা ফুরকান :৬৭)

লেখক :আলেম, খতিব ও গবেষক

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন