ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬
২৫ °সে


পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি প্রিয় নবি (স)-এর মহান মর্যাদা

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি প্রিয় নবি (স)-এর মহান মর্যাদা

বিশ্বজগত্ আল্লাহ জাল্লা শানুহুর কুদরতের এক অপূর্ব নিদর্শন। নূরে মুহাম্মাদি সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বজগত্ সৃষ্টির সূচনা করেন। তিনি প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সৃষ্টি করে তাকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। তার খ্যাতি ও আলোচনাকে সমুন্নত করেছেন। তিনি একমাত্র তাকেই নিজের হাবিব, অর্থাত্ প্রেমাস্পদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। নিজের নাম মুবারকের পাশে তার হাবিবের নাম যুক্ত করেছেন এইভাবে :লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ্। আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু তার হাবিবকে উদ্দেশ করে ইরশাদ করেছেন :আমি কি আপনার বক্ষ আপনার কল্যাণে প্রশস্ত করে দিইনি? আমি আপনার বোঝা দূর করে দিয়েছি এবং আপনার খ্যাতিকে সুমাহান মর্যাদায় উন্নীত করেছি। (সুরা ইনিশরাহ :আয়াত ১-৪)। আল্লাহ তার প্রতি দরুদ পাঠ করেন, ফেরেশতারাও তার প্রতি দরুদ পাঠ করেন এবং মুমিনদের আল্লাহ্তাআলা দরুদ পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে :নিশ্চয়ই আল্লাহ্ এবং তার ফেরেশতারা নবির প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তার প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও। (সুরা আহ্যাব :আয়াত ৫৬)।

এই বিশ্বচরাচর সৃষ্টির পটভূমি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের খাতিরেই বিরাট বিশ্বজগত্ সৃষ্টি করেছেন এবং একে করেছেন সুশোভিত ও সুসজ্জিত। আল্লাহ্ হচ্ছেন রব্বুল আলামিন, অর্থাত্ বিশ্বজগতের রব। আর তার হাবিব হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তিনি করেছেন রহমাতুল্লিল আলামিন—বিশ্বজগতের জন্য রহমত। এর মধ্যেই প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুমহান মর্যাদা নিহিত রয়েছে। রউফুর রহিম আল্লাহ্র দুখানি মুবারক গুণবাচক নাম। আল্লাহ্ তার এ দুটি গুণবাচক নামে তার হাবিবকেও পরিচিত করেছেন। কুরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে :তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের নিকট এক রসুল এসেছেন। তোমাদের যা বিপন্ন করে তা তার জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি তিনি রউফুর রহিম—দয়ার্দ্র পরম দয়ালু। (সুরা তওবা :আয়াত ১২৮)।

প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আদম আলাইহিস্ সাল্লামের বহু পূর্বে ঊর্ধ্বজগতে নবুওতের অভিষেকে অভিষিক্ত হন। আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু তারই মাধ্যমে নবুওতের দীর্ঘ ধারাবাহিকতার সূচান করেন এবং তার দ্বারাই পৃথিবীতে নবি আগমন ধারার সমাপ্তি ঘটান। তিনিই সর্বপ্রথম এবং তিনিই সর্বশেষ। তিনি সাইয়েদুল মুরসালিন, আবার তিনিই খাতামুন্নাবিয়িন। তিনি বলেছেন :আমি রসুলগণের ভূমিকা, আমি নবিদের উপসংহার—এতে আমার কোনো ফখর (অহংকার) নেই। প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমেই আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দিন আল ইসলাম পরিপূর্ণতা লাভ করে। আমরা জানি, প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে যারপরনাই জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন সইতে হয়েছে। তার প্রাণনাশেরও চেষ্টা করা হয়েছে বহুবার। তিনি একপর্যায়ে আল্লাহ্র নির্দেশে মক্কা মুয়াজ্জমা থেকে মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরত করেছেন। এখানে গড়ে তুলেছেন এক আদর্শ কল্যাণ রাষ্ট্র। কিন্তু শত্রুরা বসে থাকেনি। মক্কার কাফির-মুশরিকরা মদিনায় ইয়াহুদি ও মুনাফিকদের সঙ্গে জোট বেঁধে মদিনাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। যুদ্ধের পর যুদ্ধ হয়েছে। সব যুদ্ধই ছিল শত্রু বাহিনীর আক্রমণকে প্রতিহত করার। সব যুদ্ধে শত্রু বাহিনী পরাজিত হয়েছে। অতঃপর মক্কা বিজয় হয়েছে। ঘোষিত হয়েছে :সত্য সমাগত, মিথ্যা দূরীভূত, নিশ্চয়ই মিথ্যা দূর হবার।

৬৩২ খ্রিস্টাব্দের ৯ জিলহজ ইন্তিকালের মাত্র ৯০ দিন পূর্বে তিনি হজ করতে এসেছেন প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে। বিদায় হজ নামে পরিচিত এই হজকে হুজ্জাতুল ইসলাম, হুজ্জাতুল বালাগ নামেও অভিহিত করা হয়। তিনি সেদিন আরাফাত ময়দানের সেই বিশাল জনতাকে উদ্দেশ করে যে ভাষণ দেন, তা বিদায় হজের ভাষণ বা খুতবা নামে পরিচিত। তিনি সেদিন এই দীর্ঘ ভাষণ শেষে সবাইকে আলবিদা জানান। আর তখন নাযিল হয় :আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দিনকে পরিপূর্ণ করলাম, আমার সব নিয়ামত তোমাদের ওপর সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দিন হিসেবে সানন্দে অনুমোদন দান করলাম। (সুরা মায়িদা :আয়াত ৩)

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু এতই ভালোবাসেন যে তিনি তার নাম ধরে ডাকেননি। কুরআন মজিদে ইয়া আদাম! ইয়া মুসা! ইত্যাদিভাবে নবীগণকে সম্বোধন করা হয়েছে, সেখানে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করা হয়েছে এভাবে—ইয়া আইয়োহান্নাবি, ইয়া আইয়োহাল মুদ্দাছিছর, ইয়া আইয়োহাল মুয্যাম্মিল। অতএব, ঈদে মিলাদুন্নবি (স) উপলক্ষে আসুন আমরা তাঁর প্রতি জানাই দরূদ ও সালাম।

লেখক :পীর সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরিফ; সাবেক পরিচালক :ইসলামী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৪ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন