ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে


রহমতের নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

রহমতের নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

এই বিশাল পৃথিবীটা যখন অশান্তির চরম দুঃসময় অতিক্রম করছিল, পৃথিবীর মানুষ অপেক্ষা করছিল এমন একজন মুক্তিকামী মহামানবের, যিনি পৃথিবীর অবিন্যস্ত অবয়ব পালটে দিয়ে নতুন করে ঢেলে সাজাবেন পৃথিবীকে। ঠিক সেই মুহূর্তে মহানবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পৃথিবীতে আগমন করলেন সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অপার রহমত হিসেবে। পবিত্র কুরআনুল কারিমে মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ করে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি (আল্লাহ) আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আল-আম্বিয়া, আয়াত নম্বর ১০৭)।

মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পৃথিবীতে আবির্ভূত হন এমন এক কঠিন সময়ে, যখন সমগ্র পৃথিবী আইয়ামে জাহেলিয়াতের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। কোথাও শান্তি ছিল না, স্বস্তি ছিল না, ধর্মের নামে অধর্ম বিরাজ করছিল সর্বত্র। শিরক ও কুফরের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছিল সবাই। নারীদের সম্ভ্রম লুণ্ঠিত হচ্ছিল অবলীলায়, কন্যাসন্তানকে দেওয়া হচ্ছিল জীবন্ত কবর। মারামারি, হানাহানি, খুন-খারাবির উন্মত্ততায় গোটা সমাজ ছিল টালমাটাল। পৃথিবীর সেই করুণ অবস্থা নিরসনের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার প্রিয় হাবিব হজরত মুহাম্মদ (স)কে সিরাজুম মুনিরা বা প্রদীপ্ত চেরাগরূপে প্রেরণ করলেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে নবি! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি; আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তারই দিকে আহ্বানকারীরূপে এবং প্রদীপ্ত চেরাগরূপে।’ (সুরা আহযাব, আয়াত নম্বর ৪৫-৪৬)।

পৃথিবীর সব মানুষের চেয়ে তিনি ছিলেন সুন্দরতম ও সর্বোত্তম আখলাকের অধিকারী। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) ইরশাদ করেন, ‘আমি কখনোই এমনটি দেখিনি যে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের ব্যক্তিগত আক্রোশে কোনো অন্যায়কারীকে শাস্তি প্রদান করেছেন।’ মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচা আবু তালিবের পুত্র হজরত আলি (রা) শৈশবকাল থেকে মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে প্রতিপালিত হয়েছেন। কিশোরদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী। মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন অতিশয় উদার, মহানুভব ও দয়ার্দ্রচিত্ত। সর্বাবস্থায় তার হূদয়ের কোমলতা ও দয়ালু স্বভাবই প্রতিভাত হতো, কঠোরতা তিনি পরিহার করে চলতেন। তার মুখ দিয়ে কখনো খারাপ ও অশ্রাব্য বাক্য নির্গত হতো না। তিনি কখনো অন্যের দোষত্রুটি অন্বেষণ করতেন না। যদি এমন কোনো অনুরোধ তার কাছে পেশ করা হতো, যা গ্রহণযোগ্য নয়, তাহলে তিনি যেমন তা অনুমোদন করতেন না, আবার সরাসরি তা নাকচও করে দিতেন না। যারা তাকে জানতেন, তারা সহজেই এর অর্থ অনুধাবন করতে পারতেন। তিনি এটা এ জন্য করতেন, যেন অন্যের অনুভূতিতে এতটুকু আঘাত না লাগে। অথচ অনুমোদনযোগ্য নয় এমন কাজ থেকেও সে নিবৃত্ত হয়।’ হজরত আলি (রা) আরো বলেন, ‘তিনি ছিলেন অতিশয় পরোপকারী মহানুভব ব্যক্তি, কঠোরভাবে সত্যবাদী ও দয়ার্দ্রচিত্ত। তার সাহচর্যে আসার সৌভাগ্য যারা অর্জন করেছেন, তারাই হয়েছেন মুগ্ধ ও আনন্দিত। যে কেউ তাকে দেখেছে, প্রথম দর্শনেই তার সৌম্যকান্তি তাকে আকর্ষণ করেছে এবং পরিচয় ঘনিষ্ঠ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাকে মহব্বত করতে শুরু করেছেন।’

লেখক :সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মাইলস্টোন কলেজ, উত্তরা, ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন